এস.এম রানার সা‌থে নব‌নির্বা‌চিত কাউ‌ন্সিলর আফ‌রোজা বিভার সৌজন‌্য স্বাক্ষাৎ


নারায়ণগঞ্জ সি‌টি নির্বাচ‌নে সং‌ক্ষিত আসন ১৬, ১৭ ও ১৮নং ওয়া‌র্ডের নারী কাউ‌ন্সিলর পূনরায় নির্বা‌চিত হওয়ায় ১৮নং ওয়া‌র্ডের বি‌শিষ্ট ব‌্যবসায়ী ও সমাজ‌সেবক মাদার প্রিন্টের স্বত্তা‌ধিকারী এস. এম রানার সা‌থে সৌজন‌্য স্বাক্ষাৎ ক‌রে‌ছেন আফ‌রোজা হাসান বিভা।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় শীতলক্ষ‌্যা এলাকায় এস.এম রানার বাসভ‌বনে এই সৌজন‌্য স্বাক্ষাৎ করেন তি‌নি। এসময় কাউ‌ন্সিলর বিভা‌কে ফু‌লেল শু‌ভেচ্ছা জানান রানা। এসময় আ‌রো উপ‌স্থিত ছি‌লেন শীতলক্ষ‌্যা এলাকার বি‌শিষ্ট ব‌্যবসায়ী ও সমাজ‌সেবক জু‌য়েল নুর।

সৌজন‌্য স্বাক্ষা‌তকা‌লে নির্বাচ‌নে ১৮নং ওয়ার্ডবাসীর পক্ষ থে‌কে সমর্থন দেওয়ায় এস.এম রানা‌ ও ওয়ার্ডবাসী‌কে আন্ত‌রিক ধন‌্যবাদ জানান এবং ওয়ার্ডবাসী‌কে কা‌ঙ্খিত সেবা দ্বা‌রে দ্বা‌রে পৌ‌ছে দেয়া সহ ওয়া‌র্ডের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তরা‌ন্বিত কর‌তে ভ‌বিষ‌্যতেও পা‌শে থাকার আহ্বান জানান কাউ‌ন্সিলর বিভা হাসান।

এসময় এস.এম. রানা কাউ‌ন্সিলর বিভার উ‌দ্দে‌শ্যে ব‌লেন, ১৮নং ওয়া‌র্ডের উন্নয়‌নের স্বা‌র্থে যারা নি‌বে‌দিত হ‌য়ে ই‌তিপূ‌র্বে কাজ করে‌ছেন ব‌লেই আমরা ওয়ার্ডবাসী এবা‌রের নির্বাচ‌নেও পূর্ন সমর্থন দি‌য়ে‌ছি এবং ভ‌বিষ‌্যতেও ‌দি‌বো। আমরা ১৮নং ওয়ার্ডবাসী সবসময় ঐক‌্যবদ্ধ। আপ‌নি বিগত সময়ে কাউন্সিলর থাকাবস্থায় উক্ত ওয়ার্ডের যে উন্নয়ণ কর্মকান্ড হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা এবা‌রো অব‌্যাহত থাক‌বে ব‌লে আমরা আশা ক‌রি।

সোনারগাঁওয়ে নিহত দুই এসআই এর গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আসামি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পুলিশের সদস্য বহনকারী একটি প্রাইভেটকার পুকুড়ে পড়ে দুই উপপরিদর্শক (এসআই) নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সোনারগাঁ পৌরসভার দত্তপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

নিহতরা হলেন- ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মুনসুরাবাদ গ্রামের কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও গোপালগঞ্জের চরভাটপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে এসএম শরীফুল ইসলাম। তারা সোনসারগাঁ থানায় কর্তরত ছিলেন।

জানা গেছে, পুলিশের দুই এসআই নিহত হওয়ার ঘটনায় সেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন আসামি। আসামিকে দিয়ে গাড়ি চালানোয় সে কৌশলে গাড়ি খাদে ফেলে নিজে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখনো আসামি পলাতক আছে বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাফিজুর রহমান।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গোপন সূত্রে খবর ছিল টেকনাফ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবার একটি চালান আসছে, খবর পেয়ে সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোলপ্লাজায় তল্লাশি চৌকি বসায় পুলিশ। এ সময় আসামির গাড়িকে সিগন্যাল দিলে দ্রুত সেটি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের আরেকটি টিম মোগড়াপাড়া এলাকায় ধাওয়া করে আসামি আলমগীর হোসেনকে গাড়িসহ এবং ৪২ হাজার ইয়াবা বড়িসহ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর আসামিকে নিয়ে তারা সরাসরি জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চলে আসে। এ সময় আসামিই গাড়ি চালায়। এসপি অফিসে তাদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের পর এবার থানার ফেরার পথে আসামিকে নিয়ে থানায় রওয়ানা দেন দুই এসআই ও এক এএসআই। তবে, তাদের তিনজনের কেউই গাড়ি চালাতে পারেন না ফলে আসামিকে দিয়েই গাড়ি চালানো হয়। আসামি গাড়ি চালিয়ে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া এলাকায় এলে তিনি গাড়ি থেকে কৌশলে লাফিয়ে পড়ে গাড়ি খাদে ফেলে দেয়। এতে দুই এসআই মারা যান ও এএসআই গুরুতর আহত হন। এসময় আসামি পালিয়ে যায়।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শফিকুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং শেষে সোনারগাঁ থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সালেহ আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম মাইক্রোবাস যোগে থানায় ফিরছিলেন। পথে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া এলাকায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খাদে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও শরিফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

সূত্রঃ বিডি লাইভ ২৪

ওমিক্রনে মৃত্যু বাড়ছে, সচেতন থাকার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে দেশে ওমিক্রনে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। তাই সবাইকে সচেতন থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ডিসি সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাস্থ্য সচেতনতা মানতে এখন সবারমধ্যেই অনীহা দেখা যাচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অধিকাংশ মানুষই মানছে না। ফলে শনাক্ত-মৃত্যু অনেক বেড়েছে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে সবাইকে অনুরোধ করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসকদেরও নির্দেশনা দেন।

এসময় টানা ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকায় দেশে উন্নয়ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে বলেন, সেবা নিতে এসে কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন। শুদ্ধাচার বাস্তবায়নের পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে সোচ্চার হতে হবে।

ডিসি সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার। পরে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ দেন।

এবার ডিসি সম্মেলনের ভেন্যু রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন। মহামারির কারণে দুই বছর পর এই সম্মেলন হচ্ছে। সম্মেলন শেষ হবে ২০ জানুয়ারি।

সূত্রঃ সময় নিউজ

বিএনপির জনপ্রিয়তা কোথায় না.গঞ্জে বুঝা গেছে: হাছান মাহমুদ

বিএনপিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করার কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‌‘বিএনপি নির্বাচন থেকে পালিয়ে গেলেও ভিন্ন অবয়বে নির্বাচনে ছিল। দৃশ্যত তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও ভিন্ন অবয়বে সব জায়গায় নির্বাচনে ছিল। তারা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছে তাদের জনপ্রিয়তা কোন জায়গায় আছে। তাই আমি আশা করবো, এ সব নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়ানো থেকে সংশ্লিষ্টরা বিরত থাকবেন।’

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘ভোরের আকাশ’ পত্রিকার নবরূপে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘ভোরের আকাশ’ পত্রিকার নবরূপে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গতকাল নারায়াণগঞ্জ সিটিতে একটি সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। এতে নির্বাচনি প্রচারণা থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। সারাদেশে যে ৫টি পৌর নির্বাচন হয়েছে, তা ভালোই হয়েছে। পার্লামেন্ট আসনের নির্বাচনও হয়েছে। সব জায়গায় সুন্দর নির্বাচন হয়েছে।’

আগামী জাতীয় নির্বাচন নাসিক নির্বাচনের মতো সুষ্ঠু হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল নাসিক নির্বাচন যেমন সুন্দর সুষ্ঠু হয়েছে, ইনশাল্লাহ আগামী সংসদ নির্বাচনও সুন্দর সুষ্ঠু হবে। গতকালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ জানাবো, কোনও জায়গায় যদি কোনও কিছুর বিচ্যুতি, অনিয়ম হয়; সেটা অবশ্যই পত্রিকায় আসবে। কিন্তু দেশটা যে এত এগিয়ে গেলো, আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে গেলো, সেটা নিয়ে দেশে যে রকম মাতামাতি হওযার প্রয়োজন ছিল, সেরকম কিছু হয়নি। এই করোনার মধ্যে মাত্র ২০টি দেশের জিডিপি হার পজিটিভ বৃদ্ধি হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় সেটি নিয়ে তো আমাদের পত্রপত্রিকায় মতামাতি হয়নি। অনিয়ম ও ব্যত্যয় কোনও কিছু হলে সেটি যেমন আসতে হবে, জাতির এগিয়ে যাওয়ার গল্পটাও জানাতে হবে। এটা নৈতিক দায়িত্ব।’

ভোরের আকাশের সম্পাদক খালেদ ফারুকীর সভাপতিত্বে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী। বিশেষ বক্তা ছিলেন, বিএফইউজের সভাপতি ওমর ফারুক এবং ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ।

সোনারগাঁওয়ে পিকআপ খাদে পড়ে দুই এসআই নিহত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় পুলিশের পিকআপ খাদে পড়ে দুই উপ-পরিদর্শকের (এসআই) নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জের ভাটপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম এবং ফরিদপুরের ভাংগার মুনসুরাবাদ এলাকার কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে কাজী সালেহ আহমেদ। দুজনই সোনারগাঁও থানায় এসআই পদে কর্মরত ছিলেন।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং শেষে সোনারগাঁ থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সালেহ আহম্মেদ,

শরিফুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম মাইক্রোবাসে থানায় ফিরছিলেন। পথে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া এলাকায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও শরিফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

আইভীর মাথার ওপর আমার অদৃশ্য হাত আছে: তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে জয়ের পর পরাজিত মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় মিষ্টি নিয়ে হাজির হন বিজয়ী প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, আমি আজকে আইভীকে মোবারকবাদ জানাই। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক আধ্যাত্মিক ও আন্তরিক। আমি যেখানেই থাকি আলী আহমদ চুনকার জন্য দোয়া করি।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় যান নারায়ণগঞ্জের নবনির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ সময় তৈমূর আলম খন্দকারের পা ছুঁয়ে দোয়া চান তিনি। তৈমুর-আইভী গণমাধ্যমকে জানান, তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। এজন্যই কুশল বিনিময়। আইভী তাদের পরিবারের সদস্য। এরপর চাচা তৈমুরকে মিষ্টিমুখ করান ভাতিজি আইভী।

মেয়র আইভীর বাবা আলী আহমদ চুনকার প্রসঙ্গ তুলে তৈমূর বলেন, ছাত্রজীবন থেকে তার হাত ধরেই বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে আমার রাজনীতিতে উত্থান। চুনকা ভাই আমার মাকে মা বলতেন, আমি তাকে ভাই বলতাম। তার মেয়ের পেছনে আমি আছি। যেকোনো জায়গায় সে থাকুক, তার যেকোনো বিপদ-আপদে অদৃশ্য শক্তির মতো তার মাথায় আমার হাত আছে। আগামী দিন যেন সুন্দর হয়, তার পাশে আমি ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। অন্য কোনো কথাবার্তা কাজে আসবে না। তিনি আরও বলেন, আমি আগেই বলেছি, এটা অন্তরের সম্পর্ক। আমার শ্রদ্ধাবোধ চুনকা ভাইয়ের জন্য আজীবন থাকবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তৈমূরের স্ত্রী ফারজানা খন্দকার, কন্যা মার-ই-য়াম খন্দকার, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

নারায়নগঞ্জ মহানগর শ্রমিকলীগের কমিটি বিলুপ্ত

নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ।

আজ সোমবার (১৭ জানুয়ারি) শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক কে.এম আযম খশরুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মূল দলের নির্দেশক্রমে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় শ্রমিক লীগ নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

মিষ্টি নিয়ে তৈমুরের বাসায় মেয়র আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিবার্চনে টানা তৃতীয়বারের মতো জয়লাভের পর মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী মিষ্টি ও ফুল নিয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমুর আলম খন্দকারের বাসায় গিয়েছেন।

আজ সোমাবার (১৭ জানুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের মাসদাইর এলাকায় তৈমুরের বাসভবনে যান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় সালাম করে দোয়া চান আইভী। শুভেচ্ছা জানান তৈমুর আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের। পরে মিষ্টি একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে দেন।

সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আপেল, মাল্টা এবং দুই পদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন তৈমুর আলম খন্দকার। গনমাধ্যমকে তিনি জানান, আইভীর সাথে তার পারিপারিক সম্পর্ক। সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে তার আত্মার সম্পর্ক। ভোটের মাঠে কি হয়েছে সেটি এখন অতীত, ঠিকে থাকবে পারিবারিক সম্পর্ক।

এসময়, যেকোন বিপদে-আপদে সুযোগ সুবিধায় সব সময় নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পাশে থকবেন বলে মন্তব্য করেছেন পরাজিত প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার।

আর সেলিনা হায়াৎ আইভী জানান, তৈমূর আলমের পরামর্শ নিয়ে সুন্দর নগরী গড়তে কাজ করবেন। নির্বাচন নিয়ে কোন বিভেদ নেই বলেও জানান তিনি। এসময় তৈমুর আলমের কাছ থেকে যেকোন বিষয়ে পরামর্শ নিয়ে কাজ করবেন বলেও জানান নারায়ণগঞ্জ সিটির নবনির্বাচিত মেয়র আইভী।

এরআগে দুপুরেও নিজ বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের আইভী বলেছিলেন, আজকে তৈমুর কাকার বাসায় যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি তো এখন বাসায় নেই। দেখি বিকালে যদি উনি বাসায় থাকেন তাহলে হয়তো যাওয়ার চেষ্টা করব।

উনি আমার মুরুব্বি। উনার সঙ্গে পরামর্শ করে আগেও কাজ করেছি, এখনও করি। উনি যে ইশতেহার দিয়েছেন, সেখানে যে কাজগুলো সহজে করা যায়, সেগুলো অবশ্যই করব বলে জানান নবনির্বাচিত মেয়র আইভী।

১৯২ কেন্দ্রের বেসরকারি ফলে আইভী পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৭১ ভোট। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আইভীর কাছে ৬৯ হাজার ১০২ ভোটে পরাজয় হয়েছে স্বতন্ত্রী প্রার্থী তৈমুরের।

২০১১ সালের ৫ মে প্রতিষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এ নিয়ে তৃতীয়বার নির্বাচন হলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে তৎকালীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী এক লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

দলের ক্লান্তিলগ্নে দলের সাথে বেঈমানী করেনঃ কামালকে রনি

দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নাসিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় দলকে বিব্রত করার দায়ভার মাথায় নিয়ে দলীয় পদ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। নিজের ফেসবুক একাউন্টে দেয়া এই ঘোষনা মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পদত্যাগের এই ঘোষনার পোস্টে মন্তব্য করে কামালের সমালোচনা করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি।

কমেন্ট সেকশনে রনি লিখেন,
“আপনার দলের প্রতি যথেষ্ট অবদান আছে কিন্তু সেই অবদান কে পুজি করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। শুধু কিছু সুবিধার জন্য। আপনে হয়তো ভুলে গেছেন এই দল আপনাকে কত সম্মান দিয়েছিল। কিন্তু আপনি সেই সম্মানটুকু অক্ষুন্ন রাখতে পারেন নাই। দলকে পুজি করে আপনে দলের সাধারন নেতা কর্মীদের বিভ্রান্ত করেছেন।আপনে প্রতিবার দলের ক্লান্তিলগ্নে দলের সাথে বেঈমানী করে থাকেন। আপনে দলের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে দলের নেতা কর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে চলে যান। যা খুবই দুঃখজনক।”

উল্লেখ্য নাসিক নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এটিএম কামাল। বিএনপির এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ না নেয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও নারায়ণগঞ্জে এর ব্যতিক্রম ঘটে। নির্বাচন শেষ হবার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এটি এম কামাল দায়িত্ব থেকে সরে দাড়াবার ঘোষণা দেন। ফেসবুকে তিনি লিখেন,
“দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে, দলের উচ্চ পর্যায় থেকে বার বার সতর্ক করা সত্বেও নির্বাচনে অংশগ্রহন করে দলকে বিব্রত করেছি, আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এখন নৈতিক অবস্হান থেকে দলীয় পদ থেকে আমার সরে দাড়ানোই শ্রেয় মনে করি।”

মামুনের মায়ের মৃত্যুতে না.গঞ্জ জেলা ছাত্রদলের শােক

ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সদস্য সচিব আশরাফুল হােসেন মামুনের মায়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল।

আজ সোমবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যামে এই শোক জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সদস্য সচিব আশরাফুল হােসেন মামুনের মা জনাবা সুফিয়া বেগম দীর্ঘদিন দুরারােগ্য ব্যাধি
ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে আজ সকাল ৭ টায় নিজ নিবাসে ইন্তেকাল করেন।

মরহুমার মৃত্যুতে গভীর শােক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি ও সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সজীব শােক বার্তায় তারা বলেন, জন্ম যেমন সত্য, মৃত্যুও ঠিক তেমনি
অবধারিত।

তবুও মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর, আর তা যদি হয় মমতাময়ী মায়ের মৃত্যু, সে তাে বিষাদের এক অতলান্ত সিন্ধু। মাতৃহারা প্রিয় সহযােদ্ধাকে সান্ত্বনা জানাবার ভাষা আমাদের জানা নেই।

মহান আল্লাহ তাকে এই শােক সহ্যকরার শক্তি দিন। মরহুমা সুফিয়া বেগমের মতাে এমন সরলমনা, ধার্মিক ও পরােপকারী মানবীর মৃত্যুতে পরিবারবর্গ, আত্মীয় স্বজন ও গুণগ্রাহীগণ শােকে শােকাভিভূত। আমরাও তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শােক ভারাক্রান্ত।


নেতৃদ্বয় মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শােকবিহ্বল পরিবারবর্গ ও আত্মীয় স্বজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ঐক‌্যবদ্ধ ১৮ নং ওয়ার্ডবাসী নির্বা‌চিত কর‌লো মুন্না‌কে,নেপ‌থ্যে লাভলু-রানা

অতীতের সকল অভিমান ভুলে পুনরায় উন্নয়ণের ধারা অব‌্যাহত রাখতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচ‌নে কাউ‌ন্সিলর প‌দে কামরুল হাসান মুন্না‌কে নির্বা‌চিত ক‌রে‌ছে ১৮নং ওয়ার্ডবাসী।


নির্বাচ‌নে ঘু‌ড়ি প্রতীক নিয়ে জয় লাভ করেছেন কামরুল হাসান মুন্না যিনি মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও সাবেক কাউন্সিলর কবির হোসেন অনেক হাকডাক করেও পরাজিত হয়েছেন। আর এ জ‌য়ে‌র নেপ‌থ্যে ওয়ার্ডবাসী‌কে মুন্নার প‌ক্ষে ঐক‌্যবদ্ধ কর‌তে কাজ ক‌রে‌ছেন আলহাজ্ব ফ‌য়েজউ‌দ্দিন লাভলু ও মাদার প্রিন্টের স্বত্তা‌ধিকারী এস. এম. রানা।

স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, না‌সিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই ১৮নং ওয়া‌র্ডে মুন্নার বিজয় নি‌শ্চিত কর‌তে ওয়ার্ডবাসীকে ঐক‌্যবদ্ধ করে তুলেছেন লাভলু ও রানা। মূলত এই দু’জনের নেতৃত্বে ও নির্দেশে স্থানীয় বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ সহ সাধারণ জনগণ প্রতিদিন এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা, এক ঘর থেকে আরেক ঘরে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী মুন্নার জন‌্য দোয়া ও ভোট প্রার্থণা করছেন।

বিগত নির্বাচনে যারা কবিরের পক্ষে নির্বাচন করেছেন তারা এবারের নির্বাচনে মুন্নাকে সমর্থন দিয়ে কাজ করেছেন। এতে করে ভোটের সমীকরণ পাল্টে যায়। তাছাড়া অতী‌তের সকল ভুলত্রু‌টি শুধরে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আশ্বাসে ভোট কুড়াতে সমর্থন হয়েছেন মুন্না যা তাকে জয় এনে দিয়েছে।

জানাগেছে, মুন্না ও কবির সম্পর্কে চাচা ভাতিজা। তাদের মধ্যে প্রথম থেকে তুমুল লড়াই দৃশ্যমান হয়েছে। বাকযুদ্ধ ছিল তুঙ্গে। বিগত নির্বাচনের প্রতিশোধ স্বরুপ এবারের নির্বাচনে জয় পেয়ে যায় মুন্না। ২০১৬ সালের বিগত নির্বাচনে চাচা ভাতিজার লড়াইয়ে চাচা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেলেও এবার পরাজিত হয়েছেন।

এ‌দি‌কে, ১৮নং ওয়া‌র্ডে কাউ‌ন্সিলর প‌দে কামরুল হাসান মুন্নার জ‌য়ের পর তাৎক্ষ‌নিক প্রতি‌ক্রিয়ায় আলহাজ্ব ফ‌য়েজউ‌দ্দিন আহ‌মেদ লাভলু ব‌লেন, মুন্না‌কে কাউ‌ন্সিলর নির্বা‌চিত করার জন‌্য এবার আমরা ১৮নং ওয়ার্ডবাসী ঐক‌্যবদ্ধ ছিলাম। এ জয় ১৮নং ওয়ার্ডবাসীর জয়। বিগত সময়ে দুইবার কাউন্সিলর থাকাবস্থায় মুন্নার নেতৃত্বে উক্ত ওয়ার্ডের যে উন্নয়ণ কর্মকান্ড হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা এবার থে‌কে আবা‌রো অব‌্যাহত থাক‌বে।

এস এম রানা বলেন, বিগত সম‌য়ে কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় মুন্না এই ওয়ার্ডবাসীর জন‌্য কি করেছিলেন তা আপনারা দেখেছেন। যেকোন কাজ করতে গেলে প্রত‌্যেকেরই ভুল ভ্রান্তি হয়ে থাকে। ত‌বে এবার আর সেই ভুল হ‌বেনা। ১৮নং ওয়ার্ডবাসী‌কে সেবা পে‌তে মুন্নার কা‌ছে যে‌তে হ‌বেনা, কাউ‌ন্সিলর মুন্নাই ১৮নং ওয়ার্ডবাসীর দ্বা‌রে দ্বা‌রে কা‌ঙ্খিত সেবা পৌ‌ছে দি‌বে।

উল্লেখ্য, ১৮ নং ওয়ার্ডে ভোটের লড়াইয়ে দেখা গেছে ৬ জন প্রার্থীকে। তাদের মধ্যে মোঃ কামরুল হাসান মুন্না ঘুড়ি, মোঃ হান্নান মিয়া টিফিন ক্যারিয়ার, মোঃ কবির হোসেন ঠেলাগাড়ি, মোঃ মকসুদুর রহমান ব্যাডমিন্টন রেকেট, মোহাম্মদ শাকিল হোসেন ঝুড়ি, খলিলুর রহমান লাটিম প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। নির্বাচ‌নে কবির হোসাইন একজন হেভীওয়েট প্রার্থী হলেও তার চেয়ে দ্বিগুণ গণজোয়ার বইছি‌লো মুন্নার পক্ষে।

দলীয় পদ থেকে সরে দাড়ানো শ্রেয় মনে করিঃ এটিএম কামাল

দলীয় পদ থেকে সরে দাড়ানোকে শ্রেয় মনে করেন নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মহানগর সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়কারি এটিএম কামাল।

আজ সোমবার ( ১৭ জানুয়ারি) দুপুরে তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্টেটাস শেয়ার করেন যেখানে তিনি এ কথা বলেন।

এটিএম কামালের ফেসবুক স্টেটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হলঃ

“দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে, দলের উচ্চ পর্যায় থেকে বার বার সতর্ক করা সত্বেও নির্বাচনে অংশগ্রহন করে দলকে বিব্রত করেছি, আমি ক্ষাপ্রার্থী। এখন নৈতিক অবস্হান থেকে দলীয় পদ থেকে আমার সরে দাড়ানো ই শ্রেয় মনে করি”।

হ্যাটট্রিক জয়ে আইভীকে নানকের অভিনন্দন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নিবার্চনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী নৌকা প্রতীকে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার হাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ১৭১ ভোট।

এই বিজয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক আইভীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

গতকাল রাতে নানক তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে একটি পোষ্টে আইভী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ছবি শেয়ার করে এই অভিনন্দন বার্তাদেন।

ভোটের রাজনীতিতে আইভী আওয়ামী লীগকে সম্মানীত করেছেঃ নোফেল

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর বেসরকারিভাবে ননবনির্বাচিত মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরি নোফেল।

গতকাল রবিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে একটি পোষ্টের মাধ্যামে আইভীকে এই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তার পোষ্টটি হুবুহু নিচে তুলে ধরা হলঃ

বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার পরে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিলো ঠিক এক মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটির নির্বাচন। ২০১৬ সালেই অপপ্রচারকারীদের আলোচনা সমালোচনা সবকিছুকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হয়েছিলেন সাধারণ মানুষের নেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার ভালোবাসা আর স্নেহের রাজনৈতিক কর্মী ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী।

পুরো মেয়াদ তিনি মেয়র হিসেবে নাগরিকদের সেবা করেছেন, রাজনীতির সকল প্রতিকূলতা পরাজিত করেছেন, মেয়াদ শেষে, আবারো মনোনীত হয়েছেন। আজ ২০২২ সালের এই দিনে তৃতীয় বারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটির মেয়র হিসেবে বাংলাদেশের একমাত্র নির্বাচিত নারী সিটি মেয়র, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ শহর শাখার সাবেক নেতা আলী আহমেদ চুনকার কন্যা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী আবারো নৌকার কাণ্ডারী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল কর্মীকে তিনি তার এই বিজয়ের মাধ্যমে উজ্জীবিত করেছেন, ভোটের রাজনীতিতে নৌকার বিজয় পতাকাকে তুলে ধরে সম্মানিত করেছেন।

নৌকা কখনো হারে না হারবেও না : শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একে এম শামীম ওসমান সিটি নির্বাচনে নিজের ভোট দিয়েছেন।
আজ রবিবার (১৬ জানুয়ারী) বিকেল পৌনে ৪টায় শহরের মাসদাইরের আদর্শ স্কুল ভোট কেন্দ্রে তিনি ভোট প্রদান করেন।

ভোট প্রদান শেষে শামীম ওসমান বলেন, আমি নৌকায় ভোট দিয়েছি। আমি চাই নৌকা জিতুক এবং সেটাই জিতবে। আমার মনে রক্তক্ষরণ কষ্ট থাকতেই পারে। কিন্তু আমি তো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। আমি এম সোলজার অব শেখ হাসিনা। আমি সারাজীবন প্রতীকের পক্ষেই কাজ করেছি এবং করবো। এখানে প্রার্থী কে সেটা বড় বিষয় না।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি শান্তির শহর। জয় পরাজয় আছে কিন্তু মনে রাখতে হবে দেশটা সবার। দেশটা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাই সকলকে বলবো সবাই এক হোন।

তিনি বলেন, বলেছিলাম ১৬ তারিখ খেলা হবে। এবং সে খেলাতেই আমরা জিতবো। নৌকা কখনো হারে না হারবেও না।

নৌকার জয় হবে ইনশাআল্লাহঃ আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর নৌকার বিজয় হবে, তার আইভীরও বিজয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নৌকার মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী।

আজ রোববার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে নগরীর দেওভোগ শিশুবাগ স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আইভী বলেন, নৌকা ইনশাল্লাহ জিতবে, আইভী ইনশাল্লাহ জিতবে। এই শহরের মানুষের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক। তারা আমাকে ভোট দিতে আসছে। তাদের সমর্থন নিয়ে আমি আবারও বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করবো তারা যেন ভোটারদের ভোট প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করে দেয়। কোন কেন্দ্রে যেন স্লো না রাখে। সবাই যেন দ্রুত ভোট দিতে পারে। যেহেতু সিস্টেমটা নতুন তাই বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্লো ভোট হচ্ছে। সব জায়গায় প্রচুর ভোটার লাইনে আছে।

শামীম- আইভীর বাকযুদ্ধের ইতিবৃত্ত

নারায়ণগঞ্জের মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমানের দ্বন্দ বেশ পুরানো। তাদের দ্বন্দ প্রকাশ্যে আসে সর্বপ্রথম ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। দলীয় প্রতীকের বাইরে নির্বাচন হওয়ায় আইভী-শামীম দুইজনই মেয়র পদে লড়েন। দলীয় হস্তক্ষেপ স্বত্বেও কাউকে বাসানো যায় নি। দুই জনই নিজেদের সিদ্ধান্তে ছিলেন অনড়। নানা নাটকীয়তার পর সেবার জয় পান আইভী।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকার নমিনেশন পেয়ে সাংসদ হন শামীম ওসমান। ধীরে ধীরে নিজের কর্মী সমর্থকদের দিয়ে নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতার জানান দেন নগরজুড়ে।

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ত্বকী হত্যাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে আসে আইভী-শামীমের দ্বন্দ। ত্বকী হত্যার জন্য ওসমান পরিবারের সদস্যদের দায়ী করার ফের আলোচনায় আসে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি।

২০১৬ সালের সিটি নির্বাচনের আগে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে মেয়র বানানোর মিশন নিয়ে মাঠে নামেন শামীম ওসমান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আইভীকেই নোমিনেশন দেয় আওয়ামী লীগ। সেইবার প্রথমবারের মত সিটি নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় আইভীর পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশ আসে দল থেকে। শেষ পর্যন্ত আইভীকে নিজের ছোট বোন সম্বোধন করে নৌকার জয়ে রাখেন অবদান। সবাই ভেবেছিল চিরচেনা দ্বন্দ বুঝি শেষ হল।

কিন্তু হকার ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত হলো নারায়ণগঞ্জ। দুই মেরুতে অবস্থান দুই নেতার। আবারও দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত। বিব্রত কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ। কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে শান্ত হয় পরিবেশ। কিন্তু অভিমানের বরফ গলেনি। আইভীর মায়ের মৃত্যুতে আইভীর বাসায় যান শামীম ওসমান। আবারও সম্প্রীতির স্বপ্ন দেখে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। আইভীর মায়ের শোক শেষ না হতেই আসে আসে নতুন ইস্যু। ওসমান পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবরে শ্মশানের মাটি দেয়ায় সিটি কর্পোরেশনের সমালোচনা করেন শামীম ওসমান। তাতেই নতুন করে শুরু হয় বাকযুদ্ধ। কিছুদিন পর আইভী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে ভাষন দেন। ফের উত্তপ্ত হয় নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি।

সবশেষ সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারও আলোচনায় আসেন প্রভাবশালী দুই নেতা। তৃনমুল আওয়ামী লীগের পক্ষথেকে খোকন সাহার নাম প্রস্তাব করে পাঠানো হয় কেন্দ্রে। মনোনয়ন সংগ্রহ করেন এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট তিন রাজনৈতিক সহোদর খোকন সাহা, চন্দন শীল ও ভিপি বাদল। শেষ পর্যন্ত আইভীর উপরই আস্থা রাখে আওয়ামী লীগ। আইভীকে নোমিনেশন দেয়ার পর অনেকটাই নিশ্চুপ ছিলেন শামীম ওসমান। আইভীর নির্বাচন সমন্বয়ের কেন্দ্রীয় বৈঠকেও উপস্থিত হননি শামীম ওসমান, যেখানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশে শামীম ওসমানের অনুপস্থিত থাকা ভালোভাবে নেয়নি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

নৌকা প্রতীক পেয়ে ওসমান পরিবারের সদস্যদের কবর জিয়ারত করার পরও মন গলেনি অভিমানী শামীম ওসমানের। নিজেকে শামীম ওসমানের ছোট বোন হিসেবে দাবী করলেও শামীম ওসমান নামেন নি আইভীর পক্ষে। প্রচারনা শুরুর দিকে অনেকটা সংযত থাকলেও শেষের দিকে নিজেকে সংযত রাখতে পারেন নি আইভী। তৈমুর আলমকে শামীম ওসমানের প্রার্থী উল্লেখ করে আবারও আলোচনায় আসে আইভী-শামীম দ্বন্দ। গডফাদার বলেন শামীম ওসমানকে। তারপর দিন নিজের বুকের কষ্ট চেপে সংবাদ সস্মেলন করেন শামীম ওসমান। প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নৌকার পক্ষে কাজ করার, নৌকার প্রার্থীকে জিতানোর।

মেয়র প্রার্থীরা কে কোথায় ভোট দিবেন

রাত পোহালেই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। কথার যুদ্ধ আর অভিনব প্রচারণার চূড়ান্ত পরিনতি ঘটতে যাচ্ছে কাল। নারায়ণগঞ্জবাসীর পাশাপাশি সারা দেশের নজর এখন নারায়ণগঞ্জে।

সদ্যবিদায়ী মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ভোট দিবেন দেওভোগের শিশুবাগ স্কুলে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে।

স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সদ্য অব্যহতি প্রাপ্ত বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের ভোট দেয়ার কথা রয়েছে নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডের আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জে সকাল ৮ টায়।

অপর মেয়র প্রার্থী খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থী এবি এম সিরাজুল মামুন ভোট দিবেন আদর্শ স্কুল নারায়ণগঞ্জে সকাল ৮ঃ৩০ এর দিকে।

এছাড়াও অন্যান মেয়র প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রে সকাল সকাল ভোট দেয়ার কথা জানিয়েছেন গণমাধ্যম কর্মীদের।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব করবোঃ বিজিবি-র‍্যাব

আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সব কিছুই করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান আল আমীন ও র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক তানভীর পাশা।

আজ শনিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তারা এ কথা বলেন।

বিজিবি’র অধিনায়ক আল আমীন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল বাহিনী মিলে আমরা ‘টিম নারায়ণগঞ্জ’ হিসেবে কাজ করছি। যেমনটা আপনারা দেখেছেন এখন পর্যন্ত সব কিছুই শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে এবং আমরা আশা করছি আমরা এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে পারবো। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আমাদের যা যা করা দরকার সব কিছুই আমরা করবো।

এছাড়াও র‌্যাব-১১ এর সিইও তানভীর মাহমুদ পাশা বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু করবার জন্য আমাদের সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ভোটাররা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত কাজ করছে। প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকদের বলতে চাই, তারা যাতে ভোটারদের সাথে সংযত আচরণ করেন এবং নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে যে নিয়মগুলো আছে সেগুলো যাতে তারা মেনে চলেন। আমরা শুধু ভোট কেন্দ্রকে টার্গেট করছি না। আমরা এটা সুনিশ্চিত করতে চাই, যাতে করে একজন ভোটার তার বাড়ি থেকে বের হয়ে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করতে পারেন এবং বাড়িতে ফেরত যেতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা সকল বাহিনী নিচ্ছি। এমনকি ভোটের ফলাফলের পরেও যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে তার লক্ষ্যে ভোটের পরের দিন পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো।

লক্ষাধিক ভোটে পাশ করবো, মরে গেলেও মাঠ ছাড়বো না : তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেছেন, আমি প্রচার না সংবাদ সম্মেলন করছি। আমি ভোট চাই নি। আমার ঘরে আগুন লাগিয়ে দিলে আমি কী বলবো না। আমার লোকজন গ্রেফতার হচ্ছে আমার গলায় আপনি ফাঁসি লাগিয়ে দিবেন আমি কথা বলতে পারবো না সেটা তো হবে না। এটা নৈতিক দায়িত্ব। মানুষের ওপর যত অত্যাচার হয় ভোটাররা তত ঐক্যবদ্ধ হয়। লক্ষাধিক ভোটে পাশ করবো। মরে গেলেও মাট ছাড়বো না। প্রশাসনকে বলব জনগনের সেবা করা আপনাদের দায়িত্ব। বহুবার রিকোয়েস্ট করেছি এখন বিবেকের কাছে ছেড়ে দিলাম। আগামীকালের ভোট যাই হোক আমরা মাঠে থাকবো। গ্রেফতার হলে হবো কিন্তু নির্বাচন চালিয়ে যাবো।

শনিবার (১৫ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তৈমূর আলম খন্দকার।

তিনি বলেন, আজকে আপনাদের সামনে হাজেরা বেগম উপস্থিত আছে। তারা স্বামী মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রী। সে আমার বাড়িতে রাত দুটো পর্যন্ত ছিল। তাকে ঈদগাহের সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও চারজনকে প্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই আমার দলের গুরুত্বপূর্ণ পদের নেতা এবং নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করছে। এমনকি সরকারি দলের সদস্যদেরও হুমকি ধমকি দেয়া হচ্ছে। পাঠানটুলি এলাকার একটা ছেলে আহসান সেই এলাকায় আমার নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করেছিল। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এখনও তার খোঁজ পাইনি।

তিনি আরও বলেন, এখানে অনেক লোক আছেন যারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন। এদের মধ্যে এমন কোন লোক নেই যাদের বাড়িতে দুই থেকে তিনবার লোক যায়নি। প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই আপনি আমাদের ওপর এত অত্যাচার করছেন কেন? প্রশাসনের এহেন কাজে আপনার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পাপনও কাল এখানে ছিল। তাকেও গ্রেফতার করা হচ্ছে। এভাবে আমার লোকদের গ্রেফতার করা হলে নির্বাচন কমিশন যে বলছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এটাই কী সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়া।

তিনি বলেন, এখানে যারা আছেন তাদের জিজ্ঞেস করে দেখেন পুলিশ কীভাবে অত্যাচার করছে। একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। ভোটারদের নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য প্রেশার দেয়া হচ্ছে। নয়ত তাদের ভোট দিয়ে দেয়া হবে।

এসপির বক্তব্যের প্রতিবাদে তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে যে কথা বলি এটাকি তার কর্ণগোচর হয় না? এসব সাফাইয়ের কোন ভিত্তি নাই। রবি কী মাদক ব্যাবসায়ী, জামাল হোসেন কী হেফাজত। ১৯৫২ সালে যারা এদেশের আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিল তারা বাঙালি পুলিশই ছিল।