শামীম গরীবের আইভী জনগণের

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান আলোচিত ইস্যু হচ্ছে হকার ইস্যু। এই হকারকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন পরপরই নানা আলাপ আলোচনায় সরগরম হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ। একটি পক্ষ হকারদের পক্ষে থেকে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে ফুটপাতে বসার কথা বললেও বিপরীতে আরেকটি পক্ষ হকারদের বিপক্ষে থেকে বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তব্য দিয়ে হকারদের উচ্ছেদের কথা বলে আসছেন। সেই সাথে হকাররাও ফুটপাতে বসার দাবীতে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। আর তাদের পক্ষ অবলম্বন করছেন একটি পক্ষ বিপরীতে বিরোধীতা করছেন আরেকটি পক্ষ। কিন্তু মূল সমস্যার আর সমাধান হচ্ছে না। দিনের পর দিন এভাবেই কেটে যাচ্ছে। আদৌ সমস্যার সমাধান হবে কিনা সেটাও অনেকেরই অজানা।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সড়ক। এই সড়কটির ফুটপাতে হকার বসা নিয়ে অনেক লঙ্কাকান্ড ঘটনা ঘটে গেলেও সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের কড়া নির্দেশনাকে উপেক্ষা করেই তারা ফুটপাতের দুইপাশ দখল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাদের দখলের কারণে বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত যেন মিনিবাজারে পরিণত হয়। আর এটা রুখতে গিয়ে বারবার বেঁকে বসেন নারায়ণগঞ্জ শহরের হকাররা। যতবারই তাদের বাধা দেয়া হয় ততবারই তারা দ্বিগুন শক্তি নিয়ে ফের জাগ্রত হয়ে উঠেন। তবে পুলিশ প্রশাসনের চেষ্টা বরাবরই অব্যাহত থাকে।

তারই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন ধরেই হকারদের বিরুদ্ধে কঠোর অ্যাকশন ভূমিকায় রয়েছেন পুলিশ প্রশাসন। দিন দিন তারা হার্ডলাইনের দিকেই যাচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসনের এই অ্যাকশনের কারণে হকাররাও আর ফুটপাতে বসতে পারছে না। সারাদিনব্যাপী বঙ্গবন্ধু সড়কে পুলিশের টহল চলে। কিছুক্ষণ পরপরই পুলিশ বঙ্গবন্ধু সড়কজুড়ে হকারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে থাকে। পুলিশের এই অভিযানের ফলে গত কয়েকদিন ধরেই বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাত ফাঁকা থেকে যাচ্ছে।

এদিকে ফুটপাথে বসার জন্য হকাররাও আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। সবশেষ গত ১১ জানুয়ারী ‘পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না’ স্লোগানে উচ্ছেদের নামে জুলুম নির্যাতন, গ্রেফতার বন্ধ করার দাবীতে নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে হকাররা। এদিন সকালে জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে চাষাঢ়া এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শেষে তারা নারায়ণগঞ্জ শহরের শহীদ মিনার এলাকা থেকে শুরু করে প্রেসক্লাব পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ মহানগর হকার্স লীগের সভাপতি রহিম মুন্সি বলেন, মেয়র আইভী প্রতিহিংসা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। এই প্রতিহিংসা ছেড়ে দেন। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। আমাদের পক্ষে কেউ কথা বলছেন না। শামীম ওসমান আমাদের জন্য কথা বললে তার দোষ হয়ে যায়। আমাদের ক্ষুধার জ্বালা বুঝেন। আমাদের পেটে ভাত নেই। বিকাল ৫ টার পর থেকে আমাদের বসতে দিতে হবে। গরীবের পেটে লাথি দিলে আল্লাহর কাছে জবাবদীহি করতে হবে।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন হকাররা। এর আগে শহরের চাষাঢ়া এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ২নং রেলগেইট হয়ে প্রেসক্লাব পর্যন্ত ‘পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না’ স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহানগর হকার্সলীগের দপ্তর সম্পাদক রানা বলেন, এমপি শামীম ওসমানের উপর রাগ করে কেন আমাদের উপর অন্যায় অত্যাচার অবিচার করবেন? আমরা এমপির পক্ষে এই জন্য। আমাদেরও বাঁচার অধিকার আছে। আমরা প্রতিবাদ করতে শিখেছি। আপনাকে জবাব দেয়া হবে।

বিপরীতে পুলিশও হকারদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে রয়েছেন। আগে তাদের মালামার জব্দ করা সহ উচ্ছেদ অভিযান চালালেও এবার আটক করা শুরু করেছেন। হকারদের ঘোষণার পরদিনই কয়েকজন আটক করে পুলিশ। এরপরও আরও কয়জনকে আটক করে পুলিশ। যদিও থানা হাজতে রেখে পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে পুলিশের এই ভূমিকা আগে লক্ষ্য করা যায়নি। বঙ্গবন্ধু সড়কের উচ্ছেদ করার জন্য তারা নতুন পন্থা বেঁচে নিয়েছেন।

অন্যদিকে গত ১০ জানুয়ারী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকাতে এক অনুষ্ঠানে শামীম ওসমান বলেন, এ শহরে অনেক অনিয়ম হচ্ছে। ফুটপাতে বসে কেউ ফল বিক্রি করছে। নিজের এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করছে। অনেকে তা সহ্য করতে পারে না। গরীব হওয়াটাই তার বড় অপরাধ। কেউ একজন মাঝে মাঝে গরীবের পেটে লাথি মারছে। হকার উচ্ছেদ করছে। গরীব হকারের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। কারণ ধনী কখনো গরীবের কথা বলবে না। কেউ কেউ আহার যোগান না দিয়ে উল্টো গরীবের পেটে লাথি মারছে।

সেই সাথে হকারর্স আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমর্থন যোগানদাতা বাম নেতা হাফিজুল ইসলাম এতদিন নিরব থাকলেও এবার তিনিও সরব হয়েছেন। গত ১১ জানুয়ারী ‘পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ চলবে না’ স্লোগানে উচ্ছেদের নামে জুলুম নির্যাতন, গ্রেফতার বন্ধ করার দাবীতে নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফিজুল ইসলাম।

তিনি বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আইন অনুযায়ী চলবেন। আমরাও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীদের প্রতি আমাদের কোন ক্ষোভ নেই। কারণ তারা নির্দেশ পালন করতে গিয়ে হকারদের উচ্ছেদ করেন। অনেকেই বলে থাকেন হকররা থাকবে না হয় আমি থাকবো। কিন্তু আমরা বলতে চাই আপনারাই থাকবেন না হকাররা আছে এবং থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বড় বড় হোটেল, রেস্টুরেন্টগুলো ফুটপাথসহ রাজপথ দখল করে বসে আছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। গরীব হকারদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ সংবিধানে নেই। প্রয়োজন হলে আমরা আইনীভাবে মোকাবেলা করে হকারদের কথা তুলে ধরা হবে।

এর আগে গত ১২ অক্টোবর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে উচ্ছেদের সময় এলোপাথারি পিটুনির অভিযোগে থানা ঘেরাও করেছিলেন হকাররা। হকার নেতাদের নেতৃত্বে হকাররা সেদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঘেরাও করে।

আর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৩ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছিলেন, হকাররা যদি থানা ঘেরাও করতে পারে তাহলে আমাদের যে মারবে না সেটার কি নিশ্চয়তা আছে। কাউন্সিলররা যদি হকার উচ্ছেদ করতে যায় তাহলে হয়তো সব কাউন্সিলরদের মারবে না। কিন্তু ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে তো রাস্তায় মারধর শুরু হবে। তাদের এসব ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও সাহসের পেছনে কারা সেটা খুঁজে বের করা উচিত। তাঁকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে সাথে নিয়ে হাঁটতে চায় নারায়ণগঞ্জের মানুষ। কিন্তু তাঁর এলাকা নারায়ণগঞ্জ না। তাঁর এলাকা ফতুল্লা। সেখানে গিয়ে মাতুব্বরী করুক, নারায়ণগঞ্জ শহরে না।

একটি বেসরকারী টিভিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর দেয়া বক্তব্য টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছিল।

আইভী বলেছিলেন, শহরের ফুটপাতে শান্তিপূর্ণ হাঁটতে গিয়েই আমি আক্রমনের শিকার হয়েছিলাম। সেদিন আমি মারাও যেতে পারতাম। সরাসরি পিস্তল উঁচিয়ে মারতে আসলো। গুলি করলো। গুলিটা ভাগ্যক্রমে লাগে নাই তাই বেঁচে আছি। আমার বাবা আলী আহাম্মদ চুনকা পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকা সময়েই একটি হকার্স মার্কেট করেছিল। আমি তৎকালীন পৌরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও ৬০০ হকারদের জন্য একটি মার্কেট করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তার পরেও এখন শহরের ফুটপাতে হকার বসে।

সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারীতে হকার ইস্যুতে এক লঙ্কাকান্ড ঘটে গিয়েছিল। এদিন হকার ইস্যুতে মেয়র আইভী সমর্থকদের সাথে হকার সংঘর্ষে মেয়র আইভী সহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়। এসময় প্রকাশ্যে গুলি ছোড়া সহ ইটপাটকেল বর্ষণের চিত্র দেখা যায়। আর এই ঘটনায় বহু আলোচনা সমালোচনার এক পর্যায়ে পরিস্থিতি অনেকটা ঘোলাটে আকার ধারণ করলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন ও হকার সহ বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ বৈঠকে হকারদের বঙ্গবন্ধু সড়কের ফুটপাতে বসা নিষেধ করে দেয়া হয়। তারপরেও হকারদের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin