৯০ দিনে ৩০ ধর্ষণের অভিযোগ, দায় ,বিচার ও প্র‌তিকার ধোঁয়াশায়

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

কখন অভিযোগ উঠেছে সন্তানের সামনে মাকে গণধর্ষণের। কখন আবার এক ঘরে ধর্ষিতা হয়েছে দুই বোন। সবার সামনে রাস্তা থেকে তুলে নিয়েও করা হচ্ছে পালাক্রমে ধর্ষণ। কোন ভাবেই যেন নারায়ণগঞ্জে থামছে না ধর্ষণের অভিযোগ।

পুলিশ বলছে, ‘সামাজিক-ধার্মিক মূল্যবোধের অভাব, বিভিন্ন জেলার মানুষের বসবাসে এ অপরাধ বাড়ছে। কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণের মামলার মূলে নারীর সম্মতিতেও ঘটছে শারীরিক সম্পর্ক।’

গত ৩ মাসে নারায়ণগঞ্জে এমন অন্তত ৩০টি ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে বন্দরের বিভিন্ন এলাকা থেকে। তারপরই আছে রূপগঞ্জ। বন্দরে ৭, রূপগঞ্জে ৬, ফতুল্লায় ৫, সদর থানায় ৪, সোনারগাঁয়ে ২, আড়াইহাজার ও সিদ্ধিরগঞ্জে ঘটেছে ৩টি করে।

এ নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলন বলেন, ‘ধর্ষণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পিছনে কাজ করছে মানুষের মূল্যবোধের অভাব। সমাজে সচেতনতা এখনো তৈরি হয়নি। সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। পুলিশের পক্ষে একা অপরাধ নির্মূল সম্ভব নয়, এ জন্য সব স্তরের মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। আমি ৯ মাস হলো এসেছি নারায়ণগঞ্জে, এই সময়ে ধর্ষণ অন্য সময়ের চেয়ে কম। ধর্ষণ হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এমনকি বেশির ভাগ ধর্ষণের মামলার মূলে নারীর সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক। পরবর্তীতে সম্পর্কে ফাটল ধরলে ধর্ষণের মামলা করছেন নারী।’

তবে, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমীর হোসেন স্মিথ ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলেন, ধর্ষণের পিছনে বড় একটি কারণ প্রশাসনের দূর্বলতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রীতা ও বিচারহীনতা। বাংলাদেশে কোনো নারী ধর্ষণের শিকার হলে বিচারের আশায় বছরের পর বছর ধৈর্য ধরতে হয়। এমনকি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিচার পান না। এছাড়াও সামাজিক ও ধার্মিক মূল্যবোধের অভাব, অসচেতনতাও এর বড় একটি প্রভাবক বলে মনে করেন তিনি।

ফতুল্লায় থানার আফিসার ইনচার্জ আসলাম জানান, শিল্প নগরী হওয়ার কারনে এখানে বাইরে থেকে আসা মানুষের সংখা বেশি। তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়- তারা অনেক দিন ধরে সম্পর্কে আছে কিন্তু পরে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় থানায় এসে মামলা করে। থানায় যে কোন অভিযোগ আসলেই আমরা আইনের পরিপেক্ষিতে তৎক্ষনাত ব্যবস্থা গ্রহন করি। এধরনের ঘটনা যাতে আর না হয়, সেই জন্য আমরা প্রতিনিয়ত উঠান বৈঠক করি এবং আমরা যেখানেই যাই মানুষকে সচেতন করার চেস্টা করি। তাছাড়া সবাইকে বুঝিয়ে দেয়া হয়- যারা এইসব কাজের সাথে লিপ্ত আইনে কাছে তাদের কোন ঠাই নাই। তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবেই।

সদর থানার আফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা সর্বদা এই ব্যাপারে সোচ্চার, আমরা প্রতিনিয়ত উঠান বৈঠক করছি। আমরা মহিলাদের বিভিন্ন ভাবে সতর্ক করছি, যাতে তারা রাতে বেশি বাইরে না থাকে। তাদের আমরা ৯৯৯ নম্বর টির সাথে অবগত করাচ্ছি, যে কোন সমস্যা হলে তৎক্ষনাত আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে।

আড়াইহাজার থানার আফিসার ইনচার্জ নজরুল জানান, এই সবের পিছনে আমি দায়ি মনে করি মানুষের ভিতর সামাজিক সচেতনতা এবং ধর্মের প্রতি বিশ্বাস কমে যাওয়া। তাদের সামাজিক সচেতনতা এবং ধর্মের প্রতি বিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে হবে। এছাড়া আমাদের যুবসমাজ বিভিন্ন আসামাজিক কার্যকালাপের সাথে লিপ্ত এর পিছনে আনলাইরে বিভিন্ন আসামাজিক সাইট এর ও ভুমিকা রয়েছে।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ ফখরুদ্দীন ভূঁইয়া জানান, বাবা-মার যে দায়িত্ব; সেই ব্যাপারে অনেকেই অসচেতন। এখানকার মানুষের সামাজিক সচেতনতাটাও কম। বেশির ভাগ লোকই বাইরের জেলা থেকে এসে বসবাস করছে। আমরা সবাইকে প্রতি মিটিংয়ে সচেতন করি এবং তাদের এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে বলি।

সূত্রঃলাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin