৮০ ডকইয়ার্ড সরানোর নির্দেশ বুড়িগঙ্গা নদীর তীরের

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

 রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে থাকা ৮০টি ডকইয়ার্ড দ্রুত স্থানান্তরের জন্য বাস্তবতার নিরিখে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) প্রশাসনিক, আর্থিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন ।

সভায় যশোরের নওয়াপাড়া নদীবন্দরের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে বিআইডব্লিউটিএকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। নওয়াপাড়া বন্দরকে আরও ব্যবহার উপযোগী করার লক্ষ্যে বিস্তারিত সমীক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি বন্দর সংলগ্ন নদী খননের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারে গুরত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, এমন প্রকল্প নিতে হবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী এবং বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

বিআইডব্লিউটিএ ও নৌপরিবহন অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা নদীবন্দরের আওতাধীন এলাকায় তালিকাভুক্ত ৮৯টি ডকইয়ার্ড ও শিপ বিল্ডার্স রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১২টির লাইসেন্স রয়েছে। আরও চারটি ডকইয়ার্ডকে লাইসেন্স দেয়া হলেও শর্ত ভঙ্গের কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। বাকি ৭৩টির কোনো লাইসেন্স নেই। লাইসেন্সবিহীন এ ৭৭টিকে অবৈধ বলছে সরকারের এ দুই প্রতিষ্ঠানের শীষ কর্মকর্তারা।

তাদের মতে, এছাড়াও আরও কয়েকটি ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে। এসব ডকইয়ার্ড থেকে সরকার এদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে, অপরদিকে নদী দূষণ হচ্ছে। সংস্থা দুটি আরও জানিয়েছে, ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় পরিবেশ কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, সঠিক পরিবেশ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ডকইয়ার্ডগুলো বুড়িগঙ্গা নদীর তীরভূমি এলাকা থেকে আরও ভাটি এলাকায় স্থানান্তরের বিষয়টি পরীক্ষা করতে হবে। ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এসব ডকইয়ার্ডকে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না বলে জানান সংস্থা দুটির কর্মকর্তারা।

জানা যায়, বুড়িগঙ্গা নদীর দুই পাড়ে মূলত এসব ডকইয়ার্ড ও শিপ বিল্ডার্স গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে মিরেরবাগ মৌজায় ২৭টি, কাটুরাইলে ১৯টি, দোলেশ্বরে ১৩টি, ধর্মগঞ্জে ১৯টি, কালীগঞ্জে ৮টি, পানগাঁওয়ে ২টি ও চরকুন্দলিয়া মৌজায় একটি ডকইয়ার্ড রয়েছে। উল্লেখযোগ্য ডকইয়ার্ডগুলোর মধ্যে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় ২০০১ সালে কার্যক্রম শুরু করেছে নজরুল ইসলাম ডকইয়ার্ড। ১৮ বছর ধরে ডকইয়ার্ড পরিচালনায় কোনো লাইসেন্স নেই এটির। অথচ বুড়িগঙ্গা নদীর ১১৮ (৩২০ ফুট ও ১৬০ ফুট) শতাংশ তীরভূমি রয়েছে এ ডকইয়ার্ডের দখলে। একই উপজেলার মিরেরবাগ এলাকায় সাগর ডকইয়ার্ডের অধীনে রয়েছে ২২৮ শতাংশ জমি। এ ডকইয়ার্ডটিও ২০০১ সাল থেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া আলী ডকইয়ার্ডের অধীনে ১৩৯ শতাংশ, ঢাকা ডকইয়ার্ড ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনে ১৫২ শতাংশ, সিটি ডকইয়ার্ডের অধীনে ১৬৪ শতাংশ, তালুকদার ডকইয়ার্ডে ১৫০ শতাংশ, কুমিল্লা শিপ বিল্ডার্সে ১২১ শতাংশ ও মাদারীপুর ডকইয়ার্ডের অধীনে ২৩০ শতাংশ নদীর জমি। এসব ডকইয়ার্ড ২০০১ সাল থেকে ব্যবসা পরিচালনা করছে। লাইসেন্সবিহীন ডকইয়ার্ড ও শিপ বিল্ডার্সগুলো নদীর তীরভূমি ব্যবহার করলেও ফি পাচ্ছে না বিআইডব্লিউটিএ। মাদারীপুর ডকইয়ার্ডের মালিক শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ডকইয়ার্ডের লাইসেন্স পেতে এবং নদীর তীরভূমি ব্যবহারের ফি দিতে আমরা প্রস্তুত। নৌপরিবহন অধিদফতর ও বিআইডব্লিউটিএ ফি নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও পরে তা বাস্তবায়ন করেনি। ইতিমধ্যে আমরা শত শত কোটি টাকা এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছি। আমাদের সরাতে হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

জানা গেছে, নদীর জমির পাশাপাশি নিজস্ব জমিতে ডকইয়ার্ড ও শিপ বিল্ডার্স নির্মাণে মালিকরা দাবি করলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সত্যতা পায়নি নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি দল। গত বছর নদীরক্ষা কমিশন ৩৩টি ডকইয়ার্ড পরিদর্শন করে ৩০টিরই জমির নামজারির রেকর্ড পাননি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। তারা নদীতে ভাঙা জাহাজ ফেলে রাখতে দেখেছেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin