৩ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করে, এখন ১০০০কোটি টাকার মালিক

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ইফতেখার আহমেদ টিপু। একজন আত্মপ্রত্যয়ী, দৃঢ়চেতা, প্রাজ্ঞ, প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি। সততা, মেধা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং দূর’দৃষ্টির কারণে ইফাদ গ্রুপ আজ উন্নতির শিখরে। কর্মচঞ্চল বিজনেস’ম্যান। সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, যদি এমন কোনো বড় ব্যব’সায়ীর নাম বলা হয় তাদের মধ্যে তিনি একজন। ইন্ডাস্ট্রি’য়াল এবং ব্যাংকিং সেক্টরেও তার সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা সর্বজন’বিদিত। আজ থেকে ৩০ বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিলেন একটি ছোট ট্রেডিং কোম্পানি দিয়ে। পুঁজি ছিল মাত্র ৩ লাখ টাকা। এখন গ্রুপের কোম্পানির সংখ্যা ৯টি।

কাজ করছেন ৭ হাজার কর্মী। বিদেশে পণ্য রপ্তানি করে আয় করছেন বৈদেশিক মুদ্রা। ইফাদ গ্রুপের সাফল্যের সিঁড়ি নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন আব্দুল্লাহ কাফি! স্বাধীনতার পর কিছু একটা করার ইচ্ছায় ১৯৭২ সালে ৫ জন মিলে ব্যবসা শরু করে’ছিলেন বর্তমানে ইফাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রাণপুরুষ ইফতেখার আহমেদ টিপু।

কিন্তু বেশি দূর এগোতে পারেননি। ব্যবসার মুনাফার টাকা ঠিকমতো পাচ্ছিলেন না বলে তিনি ওখান থেকে সরে আসেন। এর পর এদিক-সেদিক অনেক কিছু করেছেন। কোনোটিই তার ভালো লাগেনি।

নিজের চিন্তা ছিল ব্যবসা করবেন। মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশের জন্য অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। সেই লক্ষ্য থেকে ১৯৮৫ সালে নিজেই শুরু করেন আবার ব্যবসা। এবার ব্যবসা শুরু করেন ধার করা পুঁজিতে। শুরুতে ছোট ভাই, ভগ্নিপতি ও বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে মাত্র ৩ লাখ টাকা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

ইফাদ এন্টারপ্রাইজ নামে শুরুতে মাত্র ১২ জন জনবল নিয়ে ইলেক্ট্র;নিক সরঞ্জাম আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে সরবরাহ করতেন।। অন্যরা যা কাজ করত নিজে করতেন তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। সেই থেকে যে শুরু আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দিনের পরিক্রমায় ইফাদ গ্রুপের কলেবর বাড়তে থাকে।

বর্তমানে এর শিল্প ইউনিটের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯টিতে। আরও ২টি কোম্পানি স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ১২ জন থেকে এখন কর্মীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ি’য়েছে ৭ হাজারে। এর বাইরে আরও রয়েছেন পরোক্ষ কর্মী। প্রায় সব খাতেই ইফাদ গ্রুপ এখন তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইফাদ অটোস, ইফাদ এগ্রো কমপ্লেক্স, ইফাদ মাল্টি প্রোডাক্টস, ইফাদ সলট অ্যান্ড কেমিক্যালস। ইফাদ আইটি ও ইফাদ মটরস নামে আরও দুটি কোম্পানি নিয়ে আসছে তারা।

এছাড়াও ভারতের বিখ্যাত গাড়ি প্রস্তুত;কারক কোম্পানি অশোক ল্যান্ডের পরিবেশক হিসাবেও কাজ করছে তারা। অতুল ব্র্যান্ডের বাস-ট্রাক বাজার’জাত করার কাজও শুরু করেছে।। বিদেশ থেকে যন্ত্রপাতি আমদানি করে সেগুলো দিয়ে বাস-ট্রাকের বড়ি তৈরি করে বাজারজাত করছে। তাদের স্বপ্ন দেশে নিজস্ব প্রযুক্তিতে গাড়ি তৈরি করে সেগুলো বিক্রি করবে।

ইফাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ টিপু আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার ৪৪ বছর হয়েছে, এই সময়েও আমরা একটি গাড়ি তৈরির কোম্পানি করতে পারিনি। এই খাতে আমাদের নিজস্ব কোনো ব্র্যান্ড নেই। আমাদের রাস্তায় হাজার হাজার গাড়ি চলছে, সবই বিদেশি ব্র্যান্ডের। এটা হতে পারে না। ইফাদ গ্রুপ অবশ্যই এখানে দেশি ব্র্যান্ডের গাড়ি নিয়ে আসবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। এ খাতে প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি সহায়তা নেওয়া হবে।

১৯৪৯ সালে নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন ইফতেখার আহমেদ। ৭ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। বাবা জালাল আহমেদ সরকারি চকরি-জীবী হওয়ার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তিনি থেকেছেন। বাবার চাকরিসূত্রে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন রংপুরে। ১৯৫৩ সালে আসেন ঢাকায়। এর পরে ঢাকাতেই বড় হওয়া।

ইফাদ গ্রুপের প্রতিষ্ঠা থেকে এখনো চেয়ারম্যান হিসেবেই রয়েছেন। তবে তিনি শ্রমিকের কাজ থেকে শুরু করে সব কাজই এখনো করেন। দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, যে কোনো কাজে আন্তরিকতা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে এবং সে লক্ষ্যে শ্রম দিলে মাঝেমধ্যে ব্যর্থতা এলেও এক সময়ে গিয়ে সফলতা আসবেই। যেমনটি এসেছে ইফাদ গ্রুপের প্রতিষ্টা ও এর সফলতা থেকে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin