২৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত চলছে, বন্ধ হচ্ছে দুটি

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

দেশে অনুমোদন পাওয়া ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫০টির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কোনভাবেই এসব অনিয়ম থেকে বের হয়ে আসছে না বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

ইতিমধ্যে অন্তত ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এর মধ্যে সঠিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এছাড়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে ফরিদপুরের টাইমস ইউনিভার্সিটিও। ইউনিভার্সিটিটি ২০১৫ সালে ১০টি প্রোগ্রামের অনুমোদন পাওয়ার আগেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

এ বিষয়ে মামলা চলছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ফরিদপুর জেলা প্রশাসন থেকে আসা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা রয়েছে। ইউজিসি জানিয়েছে, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সবগুলোতেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউজিসির কর্মকর্তারা জানান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সিটিং এলাউন্স গ্রহণ, জমি ও গাড়ি কেনায় অনিয়ম, বিদেশ ভ্রমণ, শিক্ষার্থী ভর্তিতে অবৈধ কোটা নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দের নেতৃত্বে একটি কমিটি বিষয়গুলোর তদন্ত করছে।

চট্টগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (ইউএসটিসি) বিরুদ্ধে ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে দ্বন্দ্ব, জমি কেনায় অনিয়মসহ নানা অভিযোগে তদন্ত করছে অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দের নেতৃত্বে অপর একটি কমিটি। বিদেশে টাকা পাচার, ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে বিরোধ, শিক্ষকদের ভুয়া পিএইচডি গ্রহণ করার অভিযোগ রয়েছে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে। এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও একটি কমিটি তদন্ত করছে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৭৫টি আসন থাকলেও অবৈধভাবে ৯০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে রাজধানীর ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি। এনপিআই ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের মধ্যে চরম বিরোধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়েও রয়েছে নানা অনিয়ম। এসব কারণে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ইউজিসি।

ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার বিরুদ্ধে সনদ বিক্রির অভিযোগ জমা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী কোন ঠিকানাও নেই। আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধেও সনদ বিক্রির অভিযোগে তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে তদন্ত করে নানা অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটিতে।

এছাড়া সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি, আশা ইউনিভার্সিটি, সিলেটের নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটি, এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিয়া ইউনিভার্সিটি, খুলনায় অবস্থিত নর্দান ইউনিভার্সিটি, মিরপুরে অবস্থিত সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ও ইবাইস ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।

আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাস করেছে ড্রাফোডিল ইউনিভার্সিটি। কিন্তু সেখানে পুরোপুরি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে না। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী সনদের আবেদন বাতিল করে দিয়েছে ইউজিসি।

এসব বিষয়ে ইউজিসির পরিচালক ওমর ফারুখ বলেন, বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। সেগুলো তদন্ত করে আইনের আলোকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সূত্রঃ ইত্তেফাক

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin