‘হারাবতীর তীরে’ ইতিহাসের সাক্ষী যেন ধলটিকর গ্রাম!!

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

গ্রামের নাম ধলটিকর। সেখানকার সুনীল আকাশ, সোঁদা মাটির গন্ধ আর সবুজে ঘেরা অনবদ্য প্রকৃতি অভিবাদন জানায় যে কোন দর্শনার্থীকেই। জয়পুরহাট জেলা সদর থেকে আঁকাবাকা পথে প্রায় ৩০ কিলোমিটারের রাস্তা পেড়িয়ে সেই গ্রামে পাশ দিয়েই বয়ে গেছে শান্ত হাঁটুজলের নদী ‘হারাবতী’।

হারাবতী নদীর শান্ত মেয়ে‘ধলটিকর’ যেন এক ইতিহাসের হাতছানি। সে জ্বলন্ত ইতিহাসের আগুন নিভে গেছে অনেক আগেই শুধু ছাই হয়ে পড়ে আছে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো মসজিদের ধ্বংস স্তুপ। তার সামনে দাঁড়ালেই ইতিহাস যেন কথা কয়।শোনা যায় শত বছরের কলধ্বনি।ভেসে আসে দাঁড়ি গোঁফ ওয়ালা জমিদার কর্মতুল্যা চৌধুরীর কাল্পনিক প্রতিমূর্তি। অপরুপ সৌন্দর্যের গ্রাম থেকেই সেই সময় এলাকার শাসনভার চালিয়েছেন জমিদার কর্মতুল্যা চৌধুরী। বলছি পাঁচবিবির উপজেলার ধলটিকর গ্রামের কথা। যার অনেক নিদর্শনই কালের সাক্ষী হয়ে দাড়িঁয়ে আছে।

যার মধ্যে অনেক পুরোনো একটি মসজিদ। সহস্র ঝড়-বৃষ্টি , রৌদ্র-দহন সয়ে টিকে আছে শতশত বছর ধরে।মহাকাল যেন তার গতিপ্রবাহের চিহ্ন রেখে গেছে দেয়ালেখিলানে গম্বুজে।এরই মাঝে ক্ষয়ে গেছে ইটে খোদাই করা নকশা, ঝরে গেছে চুনসুরকির প্রলেপ।পুরো স্থাপনাটিই হয়তো হুমড়ি খেয়ে ধসে পড়ে যেত এত দিনে, কিন্তু তা হয়নি সম্ভবত চার কোণের প্রকাণ্ড আকারের মিনার আর চওড়া দেয়ালের শক্তি আর বটবৃক্ষের আচ্ছাদনের কারনেই।চুন সুরকি দিয়ে গাঁথা এক একটি ইট ১.৮১ মিটার করে চওড়া। তার ওপর ভর করেই আবার মসজিদটির ছাদের ওপর বেড়ে উঠেছে বিশাল আকৃতির এক বটবৃক্ষ। তার সামনে দাঁড়ালেই ইতিহাস যেন কথা কয়।শোনা যায় শত বছরের কলধ্বনি।ভেসে আসে দাঁড়ি গোঁফ ওয়ালা জমিদার কর্মতুল্যা চৌধুরীর কাল্পনিক প্রতিমূর্তি। বটবৃক্ষ দ্বারা আচ্ছাদিত সেই নিদর্শন এখন আর দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে আগে আদৌ কি ছিল? আর সেই কারণেই দর্শনার্থীদের মনে উদয় হয় হাজারও প্রশ্নের।

বর্তমানে ঐ গ্রামের সবচেয়ে বয়োজষ্ট কর্মতুল্যা চৌধুরীর উত্তরসূরী আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মসজিদটি ছিল সেই সময়ের মুসলমানদের নামাজের একমাত্র অবলম্বন। গ্রামের মানুষজন কম থাকায় কর্মতুল্যা ও তাঁর পরিবার সেখানেই নিয়মিত প্রার্থনা করতেন। কর্মতুল্যা চৌধুরীর আর এক উত্তরসূরী স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর কণ্ঠে শোনা যায় সেই অতীতের বয়ান। তিনি বলেন, “আগে নান্দনিক আর বৈচিত্র্যময় ছিল এই মসজিদ, ইটের বিন্যাস ও খাড়া প্যানেলে তৈরির এই মসজিদের সামনের অংশের ইটে ছিল ফুল-লতা-পাতা খোদাই করা নকশা। মিনার, গম্বুজ, নকশা ও ইটের বৈচিত্র্যময় গাঁথুনিতে পুরো স্থাপত্যটি নান্দনিক সৌন্দর্যে ভরপুর ছিল,কিন্তু এখন আর তেমন কিছুই নেই”। তবুও মানুষ আসে এখনও।

এবার ঈদেও মানুষের আনাগোনা ছিল ধলটিকরের ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদে দেখতে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মসজিদটি আকারে ছোট ও নামাজের জায়গার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কারণে অনেক আগেই সেখানে নামাজ আদায় বন্ধ হয়ে তবু দেশের প্রাচীন ঐতিহ্য, ইতিহাস বিষয়ে আগ্রহী অনেকেই এখন আসেন মসজিদটি দেখতে। সন্ধ্যা হয়ে আসে। দূর মসজিদে শোনা যায় আজান। ফিরতে হয় ধলটিকর থেকে।তবু চোখে ভাসে সেই শান্ত হারাবতীর পাশে ফেলে আসা বট বৃক্ষের আচ্ছাদিত প্রতিকৃতির প্রতিচ্ছবি।

লেখা ও ছবি-শামিমুজ্জামান চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার,মোহনা টেলিভিশন লিমিটেড

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin