সেলিম ওসমান চটেছেন আওয়ামী লীগ নেতা রশীদের উপর!

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশীদ৷ একই সাথে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তিনি৷ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সেলিম ওসমানের সাথে তার সুসম্পর্কের কথাই জানে সবাই৷ তবে এই সম্পর্কে চিড় ধরেছে৷ সাংসদ সেলিম ওসমান চটেছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা রশীদের উপর৷ বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বন্দরের নবীগঞ্জে এক স্কুলভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমএ রশীদকে উদ্দেশ্যে করে কড়া বাক্যবাণ ছুড়েছেন সেলিম ওসমান৷

সেলিম ওসমান বলেন, ‘খুব আনন্দঘন মন নিয়ে আসছিলাম। আমার সাথে তিনজন কাজ করেছেন৷ একজন আমার স্নেহের মুকুল, একজন আমার বন্ধু আবু জাহের, আরেকজন এই উপজেলার চেয়ারম্যান এমএ রশীদ। আসার সময় আমি রাস্তায় ওনার গাড়ি দেখেছি। এই স্কুলের জন্যে ওনারা যথেষ্ট পরিমাণ চেষ্টা করেছেন। ৩ জনের মধ্যে একজন মারা গিয়েছেন, একজন এখানে উপস্থিত আছেন আরেকজন কলাগাছিয়ায় গাঞ্জার নৌকা তাল গাছে উঠাইয়া ফেলতেছেন।’

বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদকে উদ্দেশ্য করে সাংসদ আরও বলেন, ওনার বুঝা উচিত আজকে এটাকে চেয়াম্যান বানালে কয়েকদিন পরেই থাকবে না। কিন্তু আজকে এই ১২৬৫ জন শিক্ষার্থী আমাদের ভবিষ্যত হবে। কোনো লুটেরাকে চেয়ারম্যান বানিয়ে আপনার লাভ হবে না। গাঞ্জার নৌকা কখনও তাল গাছ দিয়ে উঠবে না।’

বিগত সময়ে দেখা গেছে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির বাইরে সাংসদ সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত অনেক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশীদকে৷ গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী সেলিম ওসমানের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন অগ্রগামী হয়ে৷ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সাংসদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান একে অপরকে প্রশংসা করেই কথা বলতেন৷ হঠাৎ করে সেলিম ওসমান রশীদের উপর এমন চটলেন কেন, এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে৷

একটি সূত্র বলছে, বন্দরের ৫ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সেলিম ওসমান বর্তমান ৫ চেয়ারম্যানকে সমর্থন দিয়েছেন৷ তিনি এই চেয়ারম্যানদের পক্ষে ভোটও চেয়েছেন৷ ৫ চেয়ারম্যানদের তিনজন জাতীয় পার্টির এবং দুইজন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী৷ চার ইউনিয়নে সব ঠিকই ছিল তবে বিপত্তি তৈরি হয়েছে কলাগাছিয়ায়৷ কলাগাছিয়া ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান৷ অন্যদিকে সেলিম ওসমানের পছন্দের প্রার্থী জাপার বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান৷ এখানেই বিপত্তি৷

দলীয় সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগের উপজেলা শাখার সভাপতি হওয়ার দরুন স্বভাবতই এমএ রশীদকে কাজ করতে হচ্ছে নৌকার প্রার্থী কাজিম উদ্দিনের পক্ষে৷ এতেই চটেছেন সেলিম ওসমান৷ তিনি মূলত চেয়েছিলেন, এমএ রশীদ তার দলকে অগ্রাহ্য করে নৌকা উপেক্ষে করে লাঙ্গলের পক্ষে দাঁড়াবেন৷ রশীদ তা না করায় তার উপর ক্ষুব্দ সাংসদ সেলিম ওসমান৷

এদিকে সেলিম ওসমানের দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশীদের যোগাযোগ করা হয়৷ তিনি বলেন, তিনি বক্তব্যের প্রসঙ্গে শুনেছেন৷ তবে কীভাবে কী হয়েছে তা বিস্তারিত জেনে মন্তব্য করবেন৷

সূত্রঃ প্রেস নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin