সেলিম ওসমানের অনুদানে যখন তারা করোনা যোদ্ধা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

গত বছর করোনা কালীন সময় এবং রমজান মাসে অসহায় মানুষের পাশে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে, বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিয়ে অনেকেই করোনাকালীন যোদ্ধা বলে নিজেদের জাহির করতে সক্ষম হয়েছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আওতাধীন ৭টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সিটি কর্পোরেশনের ১৭টি ওয়ার্ড এলাকার কাউন্সিলররা। যদি এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল শুধু নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১২ ও ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু ও মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। এখন পর্যন্ত এই দুই কাউন্সিলর নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী করোনাকালীন তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। কিন্তু অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের মাঝে এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

এর কারন খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, গত বছর লকডাউনের শুরু দিকেও এমন অবস্থাই দেখা গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘর থেকেই বের হননি। কিন্তু যখন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান খানপুর হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া ডাক্তারদের জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর কার্যালয়ে আলোচনা করে সাধারণ মানুষের সহযোগীতায় করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকার বিভিন্ন ধরনের অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিলেন এরপর থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সেলিম ওসমানের অনুদান পেয়ে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠে। নিজেদেরকে জাহির করেন করোনা যোদ্ধা হিসেবে।

কিন্তু এ বছরে করোনা সংক্রমনের ফলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং লকডাউনের প্রায় ১৫ দিনের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এমপি সেলিম ওসমানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অনুদান বা ত্রান সামগ্রী বিতনের কার্যক্রমের ঘোষণা আসেনি। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও এলাকায় কোন সাধারণ মানুষের দেখা মিলেনি এই সকল জনপ্রতিনিধিদের। উল্টো কোন কোন জনপ্রতিনিধির রাষ্ট্রীয় ও জনগনের সম্পদ চুরির দায়ে অর্থ দন্ডে দন্ডিত হতে দেখা গেছে।

সচেতন মহল ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মতে, আসলে এমপি সেলিম ওসমান যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাধারণ মানুষের জন্য কোন অনুদান প্রদান করেন সেগুলো তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে না দিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান মেম্বার ও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরন করে থাকেন। আর সেটাই অনেক জনপ্রতিনিধি নিজেরা বিতরন করে স্থানীয় পত্রিকায় ছবি প্রকাশ করে নিজেদের বড় করে জাহির করে থাকেন। তবে এমপি সেলিম ওসমান এসব অনুদান ভোটার না দেখে প্রকৃত অসহায় মানুষের মাঝে বিতরনের কথা বললেও মাঠ পর্যায় এসে তার এই নির্দেশনা আর বলবৎ থাকে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের নিজস্ব লোকজন এবং যে সকল সাধারণ ভোটারা তাকে ভোট দেয়, দিয়েছে বা দিবেন বলে মনে করেন তাদেরকেই প্রাধান্য দিয়ে সেই সকল ত্রান সামগ্রী বিতরন করে থাকেন। যার নিতান্তই যাদের সহযোগীতা প্রয়োজন সেই সকল মানুষ গুলো বঞ্চিতই থেকে যায়।

তারা আরো জানান, এমপি সেলিম ওসমান প্রতিবছর ঈদের পূর্বে তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে ঈদ সামগ্রীর প্যাকেট বিতরন করে থাকেন। গত বছর করোনার কারনে সেই প্যাকেটের বদলের বিকাশের মাধ্যমে ৯০০ টাকা করে প্রদান করেছেন। এ বছরেও এমপি সেলিম ওসমান হয়তো ঈদে আগে ঈদ উপহার হিসেবে সাধারণ মানুষের মাঝে কিছু না কিছু বিতরন করবেন। সেলিম ওসমানের এমন ঘোষণার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আবার সক্রিয় হয়ে উঠবে। জনগনকে বুঝাবে আমরা আছি আপনাদের পাশে। আসলে তাদের পুরো বিষয়ইটাই সেলিম ওসমানের থেকে এনে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেকে জাহির করা। যাকে বলে পরে ধনে পোদ্দারি।

উল্লেখ্য, করোনা মহামারী সংকট চলাকালীন সময় উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ৩৩ হাজার ২০০ পরিবারের মাঝে ৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি চাল ও ৩০ হাজার কেজি ডাল বিতরন করেছেন। যার মধ্যে স্থানীয় সাধারণ জনগন থেকে শুরু করে, করোনা মহামারীর কারনে লকডাউনে বেকার হয়ে পড়া দিন মজুরি শ্রেনীর মানুষের কাছেও সেই সহযোগীতা পৌছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ২০ হাজার পরিবারের প্রত্যেককে ২০ কেজি চালের সমপরিমান ৯০০ টাকা করে প্রত্যেকের বিকাশ একাউন্টে প্রেরণ করেছেন যার পরিমান ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যা সারা বাংলাদেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকায় ৬৪০ জন শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের সেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেওয়া দেন এবং প্রত্যেককে মাসিক ৪৫০০ টাকা মোট ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা সম্মানী প্রদান করেছেন।

সাধারণ মানুষের পাশাপাশি তিনি করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী সম্মুখ যোদ্ধা খ্যাত খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্যও রেখেছেন অসামান্য অবদান। তিনি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে নারায়ণগঞ্জের করোনা হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্স এবং ওয়ার্ডবয় দের থাকা ব্যবস্থা করেছেন। রোগীদের সেবা প্রদানে ৬টি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে দিয়েছেন। সেই সাথে মাসে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রত্যেকের তিন বেলা খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৩১ আগস্ট ২০২০ পর্যন্ত ব্যক্তিগত তহিবল থেকে ব্যয় বহন করেন। এছাড়াও খানপুর হাসপাতাল, ১০০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, সদর ও বন্দর উপজেলা ইউএনও সহ বিভিন্ন স্থানে মোট ২৪০টি পিপিই পোশাক বিতরন করা হয়েছে।

সূত্র: নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin