সেন্টু নৌকা প্রত্যাশী, আওয়ামী লীগে ক্ষোভ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন নির্বাচন ঘিরে নানা নাটকীয়তা শুরু হয়েছে। বুধবার (৬ অক্টোবর) ফতুল্লা থানা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম সেন্টু নৌকা প্রতীক চেয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এর আগে অনেক নাটকীয়তার পরে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ নৌকার প্রার্থী হিসেবে শুধু সেন্টুর নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে৷ কুতুবপুরে নৌকা চেয়ে কমপক্ষে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনে মাঠে থাকলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে তারা মনোনয়ন ফরম জমা দেননি।


জানা যায়, ৮০-এর দশকে যুবদলের রাজনীতি দিয়ে মনিরুল আলম সেন্টু পরিচিতি পান৷ থানা যুবদলের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন৷ এরপর  ২০০৩ সালে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান৷ ওই বছরেই অনুষ্ঠিত হওয়া ইউপি নির্বাচনে বিএনপি’র সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি৷ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তখন কুতুবপুরে প্রবেশ করতে পারতেন না। ফলে সহজেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হন সেন্টু। ২০০৪ সালে ফতুল্লায় বিএনপি’র বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে এসে বিশাল শোডাউন করেন তিনি।

২০১১ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় আবারও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সেন্টু। অভিযোগ আছে, ওই সময়ে সেন্টুর বিরুদ্ধে ডামি প্রার্থী দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে সেন্টু ধানের শীষ প্রতীক চেয়ে জেলাজুড়ে পোস্টার- ফেস্টুন সাঁটান৷ কিন্তু পরবর্তীতে তৎকালীন জেলা বিএনপি’র সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার সেন্টুকে ডেকে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীক দিতে চাইলেও সেন্টু তা নেননি৷ প্রভাবশালী মহলের পরামর্শে সেন্টু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করা নৌকার প্রার্থী, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহসভাপতি সিকদার মোঃ গোলাম রসুল জেলা প্রশাসকের সাথে প্রার্থীদের বৈঠকে তাকে প্রচারণা চালাতে বাধা দেওয়া ও হুমকি প্রদানের অভিযোগ করেন।

এবারের নির্বাচনেও এরকম কিছুই হতে চলেছে বলে অভিযোগ করেছে কুতুবপুরের তৃণমূলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে অবস্থিত একটি পার্ক থেকে ইতোমধ্যে সেন্টুকে গ্রীন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়৷ আর সেই সিগন্যালকে পাকাপোক্ত করতে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেন্টুর মামাতো ভাই জসিমকে দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ব্যানারে বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়৷

সেন্টু প্রসঙ্গে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বলেন, ‘সেন্টু বিএনপি’র বহিস্কৃত নেতা। তবে তিনি আওয়ামী লীগেও যোগ দেননি৷ যা রটেছে, তার কিছু তো ঘটেও বটে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আমাদের কাছে তার নাম সুপারিশ করেছে। তিনি যদি নৌকা চান, তখন আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেব।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন অবশ্য দাবি করেছেন, সেন্টু আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন৷ তবে তিনি এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। জসিম বলেন, নেতাকর্মীরা সেন্টুর নাম থানা কমিটিতে পাঠিয়েছে৷

বৃহত্তর ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাহাত বলেন, সেন্টুর নাম প্রস্তাব করা নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ রয়েছে৷ অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছে না। একজন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা, যিনি কিনা আমাদের দলের কর্মীও নন, তিনি কীভাবে নৌকা পান! এমন কিছু হলে কুতুবপুরে আর আওয়ামী লীগের অস্তিত্বই থাকবে কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান৷ অনেক নেতাকর্মী ইতোমধ্যে দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। আমরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

সূত্রঃ বিডি লাইভ ২৪ ডট কম

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin