সেদিন মাইক্রোফাইবারে গি‌য়ে মোহাম্মদ হাতেম করোনায় আক্রান্ত: সেলিম ওসমান

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

করোনার মধ্যেও কুচক্রি মহল অশান্তির পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। গত ৬ অক্টোবর মাইক্রোফাইবারে যা হয়েছে, একটি ববিন ভাঙ্গার জরিমানাকে কেন্দ্র করে। প্রত্যেকটা ফ্যাক্টরিতে পার্টিফিকেশন কমিটি থাকে, তাদের দ্বারাই ফাইন নিয়ন্ত্রিত হয়। সেই ফাইনকে কেন্দ্র করে জিএম, এজিএম, লাইন সুপারকে মারধর করা হয়েছে। আমি বলবো এটা সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। সেদিনের সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাইক্রোফাইবারের মালিক জামান, বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে নিয়ে সেখানে যায়। আমি বলবো সেদিন যাওয়াটা উচিত হয়নি, সেদিন যাওয়ায় আজ বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি করোনায় আক্রান্ত।

২৫ অক্টোবর ( রোববার ) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ বিকেএমইএ কার্যালয়ে মাইক্রোফাইবার নিয়ে চলমান বিশৃঙ্খলা নিরসনে সমন্বয় সভায় এ কথা বলেন, বিকেএমইএ’র সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান।

সেলিম ওসমান বলেন, সেদিন মালিক ও হাতেমের উপস্থিতিতে ফ্যাক্টরির আইটি রুমের সর্বনাশ করা হয়েছিল। ক্যামেরাগুলোকে কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়েছিল যাতে দোষী না হয়। আইটি রুমের সমস্ত কাগজপত্র ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমানে বায়ারকেও বলতে পারে না প্রতিষ্ঠানের মালিক যে তার কাছে কতটুকু পাবে বা কি বাকি আছে বা কতটুকু মালামাল ছিল। যেদিন যারা এ অঘটনা ঘটিয়েছে তারা জামায়াত-শিবির বলে আমি মনে করি।

মাইক্রোফাইবারের ক্ষতি প্রসঙ্গে সেলিম ওসমান বলেন, যা ক্ষতি হয়েছে কোন মালিকের হয় নি, বরং রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে। সে ক্ষতি পরিমাণও বাংলাদেশী টাকায় নায়, ডলারে। আপনারা-আমরা যেমন পরিবারকে চালাতে কাজ করি, তেমনি ফ্যাক্টরি মালিকরাও শ্রমিক বাঁচাতে ফ্যাক্টরি চালায়। ইউরোপ খুললেও এখনও কাজ শুরু হয়নি।

এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলার ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশ সুপার, কল কারখানা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, শ্রমিক নেতা কাউসার আহম্মেদ পলাশসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দের নিকট মাইক্রোফাইবার নিয়ে ঘটিত সমস্যার সমাধান দেওয়ার অনুমতি চান সেলিম ওসমান। এরই প্রেক্ষিতে সকলেই সেলিম ওসমানকে সিদ্ধান্ত দেয়ার অনুমতি প্রদান করলে তিনি বলেন, মাইক্রোফাইবারের মালিককে আমি অনুরোধ করবো যাতে তিনি মাসে একদিন হলেও শ্রমিকদের নিয়ে বসেন। আগামী শনিবার থেকে প্রতিষ্ঠান খোলার অনুরোধ জানাচ্ছি, একইসাথে ঘটনার সাথে জড়িত লিস্টকৃত ২০০ জন ব্যতিত সবাইকে কাজে প্রবেশ করানোর আহ্বান জানাচ্ছি। লিস্টকৃতদের বিরুদ্ধে অতি শীগ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সেলিম ওসমানের উক্ত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মাইক্রোফাইবারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এমএস জামান বলেন, দীর্ঘ ২৪ বছর যাবত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছি। আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে না, তাদের বেতন নিয়ে কোন সমস্যা হয়েছে। আমি প্রতিষ্ঠান থেকে টেবিল-চেয়ারসহ অন্যান্য জিনিসপত্রাদি সরিয়ে নিয়েছে। আমি ভেবেছি নারায়ণগঞ্জের আমি উপযুক্ত না। আমি সেলিম ওসমানের সাথে একমত শনিবার থেকে খোলার বিষয়ে। তিনি যদি চান তবে পরশু দিনই আমি খুলে দিতে পারি । এবং তার প্রতি বিশ্বাস রয়েছে, যেহেতু তিনি বলেছেন অভিযুক্ত ২৫২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন।

এরপর সেলিম ওসমান বলেন, আগামী মঙ্গলবার থেকেই প্রতিষ্ঠান চালু করা হবে। একইসাথে সোমবার দুপুর ১২ টার মধ্যে অভিযুক্ত ২৫০ জনের নাম ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশ ও শ্রমিক নেতা পলাশসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠানো হবে। মাইক্রোফাইবারের মালিক পক্ষকে অনুরোধ করবো যাতে যাদেরকে এখন কাজের জন্য ঢুকাবেন সবার পরিচয় যাচাই করে নিবেন, এবং যারা অভিযুক্ত তাদের নাম-ছবিসহ টাঙ্গিয়ে দিবেন। পুলিশের কাছেও অনুরোধ করবে যাতে তাদের ফোর্সদের দ্বারা কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখেন।

আলোচনা সভায় সেলিম ওসমান শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে স্থান পাওয়ায় কাউসার আহমেদ পলাশকে অভিনন্দন জানান।

সূত্রঃলাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin