সাংবাদিক রোজিনার বিষয়টি অনেক ইজিভাবে হ্যান্ডেল করা যেত: শামীম ওসমান

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

‘‘আমি কথা বলার সময় কিছু রেখেঢেকে কথা বলিনা। আমিই বোধহয় একজন সংসদ সদস্য যে নিজেই নিজের উত্তর পাইনি। আমি পার্লামেন্টে দুটি পত্রিকার বিরুদ্ধে আইন অনুসারে স্পিকারের কাছে অভিযোগ দিয়েছিলাম। সাংবাদিক হলেই যে সব রাইট হয়ে যাবে ‘ইটস নট লাইক দ্যাট’। আমি যদি সেখানে (সাংবাদিক রোজিনা ইস্যুতে দায়িত্বশীল স্থানে) থাকতাম তাহলে জাতীয় প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক নেতা, সম্পাদককে ডেকে বিষয়টি অবগত করতাম। তারপর তাদের সাথে নিয়ে এটি সলিউশন করা যেত।’’

বুধবার (২৬ মে) স্যাটেলাইট টেলিভিশন ডিবিসিতে একটি টকশো ভিত্তিক অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের করা প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক রোজিনা গ্রেফতার এবং পাসপোর্ট থেকে ইসরাইলের নাম উঠিয়ে নেয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে সব সাংবাদিক যে সাংবাদিকতা করছে তা কিন্তু নয়। আমার মেয়ে সাংবাদিকতার উপর পড়াশোনা করে বর্তমানে একটি পত্রিকায় ইন্টার্নি করছে। সে আমাকে প্রায়ই প্রশ্ন করে যে ডাক্তার, আইনজীবী, কিংবা অন্যান্য পেশায় ঢুকতে পড়াশোনা লাগে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা না হলেও অন্তত ডিপ্লোমা তো করা উচিৎ। এসব কিন্তু সাংবাদিকদের নেই। আমি দেখি লোকাল পত্রিকার রেজিস্ট্রেশন নাই, কিন্তু উদ্ভট সব সংবাদ ছাপিয়ে দিচ্ছে। অমুকের বউ অমুকের সাথে চলে গেছে এই ধরনের নিউজ হচ্ছে। আপনি যতক্ষন পর্যন্ত নিজে ভালো না হবেন ততদিন আইন দিয়ে সমাধান হবে না। আমি সংসদে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে বলেছি, তারা আমার বিরুদ্ধে এমন কোন কথা নাই যা তারা লেখেনি। কিন্তু তাদের হাজির করা হয়নি। আমি বলতে চাই ‘নো বডি ইজ পারফেক্ট’। সবার সাথে আমাদের কাজ করা উচিৎ। আমি দায়িত্বে থাকলে কোন অবস্থাতেই রোজিনাকে গ্রেফতার হতে দিতাম না।

শামীম ওসমান আরও বলেন, রোজিনা যেই পত্রিকার সাংবাদিক আমি সেই পত্রিকার অনলাইনে ৩টা ভালো নিউজ দেখলাম, আমার বক্তব্য আর আওয়ামী লীগের বক্তব্য এক হবে না। আমি বলবো, রোজিনার বিষয়টি অনেক ইজিভাবে হ্যান্ডেল করা যেত। সাংবাদিকদের সাহায্য নিয়ে কাজটি করা যেত। আমরা দেখেছি বিএনপির সময় বেশ কিছু হত্যা করা হয়েছে। বিএনপি আজ সাংবাদিকদের জন্য কাঁদছে। এখন যারা এই কাজটি করে সাংবাদিককে গ্রেফতার করিয়েছেন সেখানে পলিটিক্যালি উত্তর দিতে হচ্ছে আমাকে বা আমাদের। রোজিনার বিষয়ে বলবো ফাইল এভাবে না নিয়ে তার উচিৎ ছিল তথ্য অধিকারে সহায়তা চাওয়া। ধরলাম সে অপরাধ করেই ফেলেছে। কিন্তু এখানে প্রেসক্লাব, ক্র্যাব সহ বিভিন্ন সংস্থা আছে। তাদের সাথে নিয়ে তাদের কল করে বিষয়টি সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ ছিল।

সম্প্রতি পাসপোর্টে ‘এক্সেপ্ট ইজরাইল’ শব্দটি তুলে ফেলা নিয়ে চলমান সমালোচনার প্রসঙ্গে বলেন, এই বিষয়টি নতুন কিছু না। নতুন পাসপোর্ট সিস্টেমে (ই-পাসপোর্ট) এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। ৬/৭ মাস আগেই আমি এটি দেখেছি। আমি নিজেই নতুন পাসপোর্ট নিয়েছি। প্যালেস্টাইনের প্রতি আমাদের সহ সকল বিবেকবান মানুষের সমর্থন থাকা উচিৎ। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম অন্যান্য রাষ্ট্র প্রতিবাদ করার আগেই বাংলাদেশ তাদের পক্ষে জোড়ালো কথা বলেছে। ইজরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদটি এতটাই জোড়ালো হয়েছে যে প্যালেস্টাইনে একটি বাড়ির নাম শেখ হাসিনার নামে রাখা হয়েছে। সুতরাং আমাদের অবস্থান আগের মতই থাকবে।

সূত্র: নিউজ নারায়াণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin