ষড়যন্ত্র ও আপনার নির্বুদ্ধিতা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ফিনল্যান্ডে দুদিন যাত্রা বিরতি শেষে রোববার নিউ ইয়র্কে পৌঁছান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফিরতি যাত্রায় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হয়ে আবার ফিনল্যান্ডে যাত্রা বিরতির পর ১ অক্টোবর তিঁনি দেশে ফিরবেন।

ফিনল্যান্ডে দুদিন যাত্রা বিরতিকে কেন্দ্র করে এদেশের স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দোসর মহলের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচার আর বানানো গালগল্পে আমাকে যতটা না অবাক করেছে, তার চেয়েও বেশি অবাক হয়েছি কতিপয় রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য-বিবৃতি শুনে।

এদেশে একটা সময় স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলসামস, যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবির এলাকা ভিত্তিক ঘরোয়া মিটিং করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বুঝাতো- রাজাকার মানে রাজার মতন আকার যার। রাজাকার অর্থ স্বেচ্ছাশ্রম বা স্বেচ্ছাসেবক। আর অমনি কিশোর বয়সের ছেলে-মেয়েরা গিলে খেয়েছে, মাথায় এই ভাইরাস ইনস্টল করেছে যা আজও দেখা যায় প্রশ্ন করতে- রাজাকার অর্থ কি !!

অন্যদিকে সবচেয়ে বর্বরোচিত কর্মকান্ড ঘটিয়েছে কুখ্যাত রাজাকার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে-এই গুজব ছড়িয়ে। তখনও একশ্রেণির মানুষ গিলে খেয়েছে। ঘাড় ঘুরিয়ে চাঁদে দেখার চেষ্টা করেছে। নিজেরা বিভ্রান্ত হয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। অগ্নিসংযোগসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকান্ড ঘটিয়েছে।

ঠিক এমনিভাবে জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দোসর মহল পরিকল্পিভাবে মিথ্যাচার করেছে, দেশের স্বাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ষড়যন্ত্র করেছে। ট্রাঙ্কে করে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এইজনকে দিয়েছে, সেইজনকে দিয়েছে-এমন গুজবও ছড়িয়েছে!

অথচ চিরন্তন সত্য হলো- খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময় দেড়শ সুটকেস নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছিল। আর সেখানে লকার ভাড়া করে তিনি অনেক জিনিস রেখে এসেছিল।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর নিউ ইয়র্কে এয়াপোর্টে ধরা পড়েছিল কয়েক লক্ষ ডলার নিয়ে। পরে অ্যাম্বাসি থেকে লোক গিয়ে কোনোমতে মুচলেকা দিয়ে সেসময় তাকে ছাড়িয়েছিল।

অদ্ভুধ হলো, ভাঙ্গা স্যুটকেসের মালিকগুলো যখন চুরি করে, এতিমের টাকা মেরে দেয়, বিদেশে টাকা পাচার করে ভোগ-বিলাসিতার জীবন গড়ে-এইগুলো স্বাধীনতাবিরোধীরা বলবে না জানি, কারণ এরা তাদের দোসর। কিন্তু দেশের ওই শ্রেণির রাজনীতিবিদরা চোখকে বলে অন্ধ হয়ে থাক। মুখকে বলে মুখ বন্ধ করে রাখ। শুধু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বানিয়ে বানিয়ে বলবি কারণ, এদেশের একশ্রেণির আবুল, মফিজ, বলদ, ছাগু আর গাধা আছে, যারা রাজাকারের অর্থ জানে কিন্তু রাজাকারের বর্বরতার ইতিহাস জানে না বা জানার চেষ্টা করে না। তারা কুখ্যাত রাজাকার, মানবতাবিরোধী অপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আলেম মনে করে আকাশের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে চাঁন্দে দেখার চেষ্টা করে কিন্তু সাঈদীর লেখাপড়া, জীবন-কর্ম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বর্বরতার ইতিহাস জানে না বা জানার চেষ্টা করে না।

আমাদের মনে রাখা উচিত- শেখ হাসিনা জাতির পিতার কন্যা। রক্ত যাঁর আভিজাত্যের, রাজনীতি যাঁর পারিবারিক বিদ্যালয়, সংগ্রাম যাঁর বাঙালিকে ঘিরে, সেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা সহজ হলেও তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বিতর্কিত করা কঠিন। কারণ, সত্যের কাছে সব সময় মিথ্যা-গুজব পরাজীত হয়।

আর ক্ষমতা কেন্দ্রিক তথাকথিত এই নেতা, সেই নেতা, একদলের এক নেতাদের হুঙ্কার-মিথ্যাচার দিয়ে আবাল, মফিজ, বলদ, গাধা আর ছাগুদের সাময়িক সময়ের জন্য বিভ্রান্ত করা সহজ হলেও, বেলা শেষে কিন্তু সত্যের জয়, অনিবার্য হয়।

আর জনবিচ্ছিন্ন নেতারা ক্ষমতায় যেতে কখনো লাশ ফেলার চেষ্টা করে আবার কখনো আপনাকে বিভ্রান্ত করে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে ষড়যন্ত্র করে।

একটা কথা বন্ধুদের মনে রাখতে বলবো, বাড়ির কাজের লোক চুরিতে ধরা খেয়ে যখন বিতারিত হয়, তখন অন্য বাড়িতে গিয়ে আপনার বদনাম করে কিংবা করার চেষ্টা করে। এদেশের কিছু অপরাধী, যাদের নামে একাধিক মামলা আছে, তারা বিদেশের মাটিতে টাকার বিনিময় আপনাকে বিভ্রান্ত করার ষড়যন্ত্র করে আসছে সেই দীর্ঘদিন ধরে। এদের না আছে বংশ পরিচয়, না আছে নৈতিক আদর্শ।

আর এদের কথায় আপনি তখনই বিভ্রান্ত হবেন যখন আপনি আবুল, মফিজ, বলদ, গাধা আর ছাগু হবেন। আপনি মুর্খ হলেই আপনার কাছে মিথ্যাচার করে আপনাকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নিবে। তাই কিছুটা সচেতন হওয়া আপনার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিছুটা বিষয় ভিত্তিক বা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে স্টাডি করা জরুরি।

অথবা আপনার হাতের মোবাইল দিয়েও সঠিক তথ্য-উপাত্ত জেনে নিতে পারেন।

আপনি জানুন এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরুন। ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করুন তথাকথিত রাজনীতিবিদ ও ষড়যন্ত্রকারীদের। কারণ, এই বাংলাদেশ আপনার। রাজাকার, রাজাকারের শাবক ও দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা এদেশের সন্তান নয়, সন্তান হতে পারে না।

লেখকঃ সাংবাদিক,কবির চৌধুরী তন্ময়

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin