শোকাবহ ১৫ই আগস্ট আজ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

অশ্রঝরা ১৫ আগস্ট আজ। বাঙালির কান্নার দিন। জাতীয় শোক দিবস। বাংলার ইতিহাসের কলঙ্কিত অধ্যায় রচিত হওয়ার দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতি হারিয়েছে তার গর্ব, আবহমান বাংলা ও বাঙালির আরাধ্য পুরুষ, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে একদল বিপথগামী সেনা সদস্য এবং তাদের পেছনের ষড়যন্ত্রকারীরা বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলঙ্কলেপন করেছিল। বৃষ্টিঝরা শ্রাবণের অন্তিম এই দিনে বৃষ্টি নয়, ঝরেছিল রক্ত।

বাংলার ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের মতো বিশাল বঙ্গবন্ধুর বুক থেকে রক্তগোলাপের মতো লাল রক্ত ঝরেছিল ঘাতকের বুলেটে। রাজনীতির সঙ্গে সামান্যতম সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও ঘৃণ্য কাপুরুষ ঘাতকচক্রের হাত থেকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নারী-শিশুরাও সেদিন রেহাই পায়নি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরও প্রাণ হারান তার সহধর্মিণী, তিন ছেলেসহ ১৮ জন সদস্য। বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে একাত্তরের পরাজিত শক্তি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে বাঙালি জাতিসত্তাকেই ধ্বংস করতে চেয়েছিল। পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ থেকে জন্ম নেওয়া দেশটিকে। সেদিন ঘাতকরা হত্যা করেছিল পিতার নশ্বর শরীরকে; কিন্তু তার অবিনশ্বর চেতনা ও আদর্শ ছিল মৃত্যুঞ্জয়ী। ঘাতকের সাধ্য ছিল না ইতিহাসের সেই মহানায়কের অস্তিত্বকে বিনাশ করার। সব্যসাচী কবি সৈয়দ শামসুল হক তার ‘আমার পরিচয়’ কবিতায় বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে লিখেছেন, ‘এই ইতিহাস ভুলে যাবো আজ, আমি কি তেমন সন্তান?/যখন আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান;/তাঁরই ইতিহাস প্রেরণায় আমি বাংলায় পথ চলি-/চোখে নীলাকাশ, বুকে বিশ্বাস, পায়ে উর্বর পলি।’ গভীর মর্মস্পর্শী শোকের দিনে আংশিক কলঙ্কমুক্ত বাঙালি জাতি আজও গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় ১৫ আগস্টের শহিদদের স্মরণ করবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী পালনে সারা দেশে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin