শেষবার না দেখার আক্ষেপ!

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

শেষবার না দেখার আক্ষেপ নিয়ে সেজান জুস কারখানায় নিহতদের লাশ নিল স্বজনেরা

অবশেষে শেষ হল বুকের ভিতর জমে থাকা এক বোঝার। কাঁদতে কাঁদতে শুকিয়ে যাওয়া চোখের জল যেন আবার নতুন করে গড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। তবে এবারের এ জল প্রিয়জন হারানোর জন্য নয়। এ জল হল প্রিয়জনেকে শেষবারের মত দেখতে না পাওয়ার আর্তনাদ এর জল।

গত ৮ জুলাই ঘটে গিয়েছে এ হৃদয় বিদারক প্রিয়জন হারানোর ঘটনা। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারাখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ৪৮ ঘণ্টা পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিসের ও সিভিল ডিফেন্স এর কর্মীরা। পরের দিন শুক্রবার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার ভেতরে থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৮টি আগুনে পোড়া মরদেহ। সে সকল মরদেহগুলো স্থানীয় প্রশাসন ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সকলের মরদেহ চিহ্নিত করার জন্য নেয়া হয় পরিবারের সদস্যদের নমুনা। তারপর চলে এক দীর্ঘ অপেক্ষা।

গতকাল (৪ আগস্ট) সেসব মরদেহ এর মধ্যে ২৪ টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয় পরিবারের সদস্যদের কাছে। তাই সকাল থেকেই ছিল পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন সকলের অপেক্ষা। সবাই প্রখর দৃষ্টিতে গুনছে অপেক্ষার প্রহর। দীর্ঘ প্রায় এক মাস আগে প্রাণের যে স্বজনকে তারা হারিয়েছেন, শেষ বারের মতোও যার মুখটা দেখা হয়নি ভালোভাবে, তার মরদেহটি নেয়ার জন্যই এই অপেক্ষা।

বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুর ২টার সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে রূপগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ৪৮টি মরদেহের মধ্যে ২৪টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয় স্বজনদের কাছে।

এ বিয়ষে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, আমরা ৪৮টি মরদেহের মধ্যে ৪৫টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছি। বাকি ৩টি মরদেহের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে। আর এই ৪৮টির মধ্যে আজ ২৪টি মরদেহ তাদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। আগামী শনিবার বাকি ২১টি এবং পরবর্তীতে বাকি ৩টি মরদেহের শনাক্তকরণ শেষে হস্তান্তর করা হবে। তিনি জানান, আমাদের ইচ্ছে ছিল আমরা সবগুলো মরদেহ একসঙ্গে হস্তান্তর করবো। কিন্তু এদের অনেকেই ঢাকার বাইরে আছেন। ফলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ঢাকায় আনার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় লাগায় একটু দেরি হচ্ছে। এছাড়া তিনি এ সময় আরো জানান কারখানার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে রূপগঞ্জের ঐ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের ফরেনসিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রোমানা আক্তার। তিনি বলেন, তিনটি মরদেহের ডিএনএ শনাক্তকরণ এখনো বাকি রয়েছে। আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যে সেগুলো সম্পন্ন হবে।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে মৃত ব্যক্তিদের সৎকার ও অন্যান্য কাজের জন্য তাদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সাহায্যও দেওয়া হয়েছে।

দুপুরে মরদেহ হস্তান্তরের সময় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দেখা যায়, প্রায় সবসময়ই স্বাভাবিক ভাবেই যেখানে ভারী হয়ে থাকে এখানকার পরিবেশ, সেখানে মধ্য দুপুরে প্রখর রোদের মধ্যে স্বজনদের আর্তনাদ ও আহাজারি সেই পরিবেশকে করে তোলে আরও বেদনাময়। বিশেষ করে মরদেহ বুঝে পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের কান্নার আহাজারি আর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দে ভারি হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin