শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে নয়টি সতর্কতা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে নয়টি সতর্কতা দিয়েছে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ সতর্কতা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যদি স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সেক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা আবশ্যক।

ক. নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলে প্রি-স্কুল ছাড়া সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে।

খ. সব স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবার মাস্ক পরা নিশ্চিত করা এবং ব্যত্যয় হলে সে ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা (৫ বছরের কমবয়সী শিশু ছাড়া ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী)। কেন্দ্রীয়ভাবে সব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত মানসম্পন্ন এবং সঠিক মাপের মাস্কের ব্যবস্থা ও বিতরণ করা।

একইসঙ্গে অন্যান্য জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ যেমন- হাত পরিষ্কার রাখা (হাত ধোয়া/হাত জীবাণুমুক্ত করার স্টেশন স্থাপন করা) ও সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলা। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার।
গ. স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ শিক্ষক ও কর্মচারীর করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে। তারা দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১৪ দিন পার হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ১ম ডোজের ১৪ দিন পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগদানের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

ঘ. উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৮ বছরের অধিক বয়সী শিক্ষার্থীদের দ্রুত টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

ঙ. শ্রেণিকক্ষে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমাগম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নির্দিষ্ট ক্লাস কোনটি সপ্তাহের কোন দিন হবে তা বিভক্ত করে দেওয়া যেতে পারে। যেমন- প্রথমদিকে পরীক্ষার্থীদের ক্লাস প্রতিদিন খোলা রাখা ছাড়া, বাকি সব ক্লাস সপ্তাহে এক/দুই দিন খোলা রাখা যেতে পারে। এতে একটি নির্দিষ্ট দিনে যেই ক্লাসটি খোলা থাকবে সেই ক্লাসের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য খালি শ্রেণিকক্ষগুলো ব্যবহার করে তাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে বসতে পারবে।

এছাড়া নিয়মিত প্রাতঃসমাবেশ বন্ধ রাখতে হবে। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার। এছাড়া প্রথমদিকে স্বল্প সময়ের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যেতে পারে, যাতে করে খাবার গ্রহণের জন্য মাস্ক খোলার প্রয়োজন না হয়।

চ. আবাসিক সুবিধা সম্বলিত স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিচের পরামর্শগুলো প্রযোজ্য (মাদরাসাসহ):

১. সব সমাবেশ স্থানে (ক্যাফেটেরিয়া, ডাইনিং, টিভি/স্পোর্টস রুম ইত্যাদি) বন্ধ রাখা, রান্নাঘর থেকে রুমগুলোতে সরাসরি খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা।

২. একাধিক শিক্ষার্থী একই বিছানা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে।

৩. মাদরাসায় একসঙ্গে নামাজ, সমাবেশ ইত্যাদির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলা।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত করা দরকার।

ছ. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়ার আগে করণীয় ও বর্জনীয় কাজ সম্পর্কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মচারীদের একটি অরিয়েন্টেশনের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। এ ওরিয়েন্টেশন সীমিত উপস্থিতি ও নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে সশরীরে আয়োজন করা যেতে পারে, তবে প্রয়োজনে অনলাইন সেশন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত লিফলেট তৈরি, বিতরণ করা, করণীয়-বর্জনীয় বিষয়গুলো মিডিয়া ও স্থানীয় ক্যাবল লাইনের মাধ্যমে প্রচার করা যেতে পারে।

যেসব শিক্ষার্থীর করোনার লক্ষণ থাকবে তাদের বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন থাকাকালে তাদের শুশ্রূষার জন্য নির্দেশনা এ ওরিয়েন্টেশনে থাকতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর রোগের লক্ষণ পাওয়া যাবে অথবা তাদের পরিবারের কারও এ রকম লক্ষণ থাকবে অথবা করোনা রোগ পাওয়া যাবে তাদের অনুপস্থিত গণ্য না করে ১৪ দিন বাড়িতে থাকার অনুমতি দিতে হবে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) ও প্রচারণাপত্র প্রস্তুত করা দরকার।

জ. স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে সংক্রমণ পর্যবেক্ষণ ও দৈনিক রিপোর্ট করতে হবে। নির্বাচিত কিছু স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কর্মচারীদের নমুনা পরীক্ষা এবং সার্ভেইলেন্সের প্রটোকল তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব জেলায় ল্যাব আছে সেসব জেলার স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ সার্ভিল্যান্সের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।

যেসব জেলায় সংক্রমণের হার বেশি, শনাক্তের হার ২০ শতাংশ বা কেসের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা (আগের সপ্তাহের তুলনায় চলতি সপ্তাহে ৩০ শতাংশ বেশি সংখ্যক কেস), সেই জেলাগুলোতে আরও নিবিড় সার্ভেইলেন্স থাকা উচিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্বারা পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করতে হবে।

ঝ. সব বিধিনিষেধ সুষ্ঠু পালন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মনিটরিং টিম গঠন করে দৈনিক মনিটরিং করতে হবে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin