শাহাদাত হোসেন রাজিবঃকালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া না.গঞ্জের এক ক্রিকেট প্রতিভা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ বুলেটিনঃ পুরো নাম কাজী শাহাদাত হোসেন ডাক নাম রাজিব ,নারায়ণগঞ্জ জেলায়( আগস্ট ৭ ,১৯৮৬) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি খুবই অল্প বয়স থেকে তার নিজের শহরে ক্রিকেট জীবন শুরু করেন। তার পিতা ছিলেন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা এবং তিনি ছোট বেলা থেকে রাজিবকে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রশিক্ষন ক্যাম্প থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি করার পরে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন ।নারায়ণগঞ্জ থেকে যেসকল ক্রিকেটারা জাতীয় দলে খেলেছেন তাদের মধ্যে রাজিব ছিলেন সবচেয়ে সম্ভাবনাময়ী।

তার টেস্ট ক্রিকেটে ২০০৫ সালে ২৬ মে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিষেক ঘটে; যেটি ছিল ইংল্যান্ড এর সফরে প্রথম খেলা। যখন তিনি জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন তখন প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন ডেভ হোয়াটমোর এবং তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার। একই বছরে শাহাদাত একদিনের আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ১৭ মার্চ। ২০১০ সালে তিনি এশিয়ান গেমসে প্রথম স্বর্ণজয়ী বাংলাদেশ দলের স্কোয়াড সদস্য ছিলেন।

শাহাদাত বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলে নিজের জায়গা করে নেন ২০০৩/০৪ টুর্নামেন্ট পাকিস্তান, কিন্তু উক্ত খেলায় তিনি তেমন সাফল্য দেখাতে পারেননি। তিনি মাত্র ২ উইকেট লাভ করেন এবং বাংলাদেশ ফাইনালে যেতে ব্যর্থ হয়। তারপরও তিনি ধারাবাহিকভাবে ২০০৪ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট যোগ দেন। গ্রুপ পর্বে তিনি পুরো তিনটি ম্যাচ খেলেন এবং ৫ উইকেট নেন। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ১৬ দলের মধ্যে নবম স্থান দখল করেন। ৬ উইকেট নিয়ে বোলিং গড় ২৮.৫০.এবং ক্রিকইনফো লেখক রাবেড তাকে সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার এবং এই প্রতিযোগীতার একজন উজ্জল সম্ভাবনাময়ী খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেন।

কিছুটা বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি ২০০৫ সালে ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে লর্ডসে টেস্ট ক্রিকেটে আগমন করেন। উক্ত টেস্টে তিনি মাত্র ১২ ওভারে বল করে ১০১ রান দিয়েছিলেন যাতে কোন উইকেট ছাড়া ইকোনমি ছিল ৮.৪১।

২০০৬ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে তিনি প্রথম কোন বাংলাদেশী হিসেবে একদিনের আন্তজাতিক ক্রিকেটে হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা ২টি টেস্ট ম্যাচ এবং ৩টি ওডিআই ম্যাচ খেলার জন্য বাংলাদেশ সফরে আসেন এবং তারা উভয় সিরিজ জেতার জন্য আশাবাদী ছিলেন। তবে শাহাদাত হোসেনের দ্রুতগতিসম্পন্ন বল এবং নিয়ন্ত্রিত বলের সাহায্য বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস লিড নিতে সক্ষম হয়েছিল; যার ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম টেষ্টটি জেতা খুবই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। প্রথম ইনিংসে তিনি তার সেরা বোলিং ইনিংস ৬/২৭ দ্বিতীয় ইনিংসে আরও তিন উইকেট লাভ করেন কিন্তু তারপরেও দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ উইকেটে জয় লাভ করে।বাংলাদেশ দ্বিতীয় টেষ্ট ইনিংস এবং ২০৫ রানে হেরে যায়; যাতে শাহাদাত ১০৭ রান খরচ করে ৩ উইকেট লাভ করেন।সালের জানুয়ারি মাসে তিনি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন। চিফ সিলেক্টর রফিকুল ইসলাম জানান যে; ২০০৮ সালের ১৮টি ওডিআই ম্যাচে শাহাদাত এর বোলিং ইকোনমি ছিল ব্যয়বহুল ৬.৬৩ এবং আশা করছি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে তিনি খুবই শ্রীঘ্রই জাতীয় দলে জায়গা করে নেবেন।

২০১২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ৬টি দল নিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ গঠন করে। টি-২০ ফরমেটের এই প্রতিযোগিতা ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং নিলামে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের কেনা হয়েছিল।শাহাদাত হোসেনকে খুলনা রয়েল বেঙ্গলস মার্কিন ডলার ৩০,০০০ বিনিময়ে ক্রয় করেন। বাংলাদেশ এশিয়া কাপ আয়োজন করলে উক্ত বাংলাদেশ দলের স্কোয়াডে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং ২০১০ সালের পর প্রথম ওডিআই ম্যাচ খেলেন।তিনি সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলার হিসেবে বিবেচিত হন অন্য বোলার থেকে যাতে ৪ উইকেট নেন এভারেজ ৬২.০০। এপ্রিলে যখন বিসিবি মধ্যবর্তী  কন্টাক্ট করে তখন শাহাদাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

একটা সময়ে জাতীয় দলের অটোমেটিক চয়েজ ছিলেন শাহাদাত হোসেন রাজিব। ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ৩৮টি টেস্ট, ৫১টি ওয়ানডে আর ৬টি- টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ১২৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

জাতীয় লিগের ম্যাচ চলাকালীন সতীর্থ ক্রিকেটারের গায়ে হাত তোলার দায়ে সব ধরণের ক্রিকেট থেকে ৫ বছর নিষিদ্ধও হোন শাহাদাত হোসেন রাজিব। পাশাপাশি তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিলো তাকে ।

এর আগে ২০১৬ সালে শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin