লকডাউনে কাপড়ের দোকান খোলা,ছবি তোলায় স্ত্রীসহ সাংবাদিক লাঞ্ছিত

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

কঠোর বিধিনিষেধ অমান্য করে জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি কাপড়ের দোকান খোলা রাখার ছবি তোলায় এক সাংবাদিককে মারধর ও তাঁর স্ত্রীকে লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার মধ্যবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ওই সাংবাদিকের নাম গোলাম রব্বানী নাদিম। তিনি ৭১ টিভির বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাংলানিউজ ২৪ ডটকমের জেলা প্রতিনিধি। তাঁর বাড়ি একই উপজেলার কাচারিপাড়া এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী সরকারের জারি করা কঠোর বিধিনিষেধ অমান্য করে বকশীগঞ্জের মধ্যবাজারে বধূয়া গার্মেন্টস নামের একটি কাপড়ের দোকান খোলা রাখেন মালিক সেলিম রেজা। গতকাল রোববার ওই দোকান খোলা রাখার ছবি তোলেন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী। এতেই ক্ষিপ্ত হন সেলিম রেজা। আজ বেলা দুইটার দিকে ওই সাংবাদিক তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। পথে ওই দোকানের সামনে সেলিম রেজা, তাঁর ছেলে রাসেল ও শিপন ওই সাংবাদিকের গতি রোধ করেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা তিনজন মিলে তাঁকে মারধর শুরু করেন। এ সময় ওই সাংবাদিকের স্ত্রীকেও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তাঁরা রক্ষা পান।

মারধরের শিকার ওই সাংবাদিকের নাম গোলাম রব্বানী নাদিম। তিনি ৭১ টিভির বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাংলানিউজ ২৪ ডটকমের জেলা প্রতিনিধি।
বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী সাংবাদিক গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কঠোর লকডাউনের মধ্যে দোকানটি খুলে রাখা হয়েছিল। আমি দোকানের ছবি তুলি। এতেই ওই দোকানের মালিক আমার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হন। আমার স্ত্রী একজন সরকারি চাকরিজীবী। তাঁকে অফিস থেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে ওই তিনজনের হামলার শিকার হই। তাঁরা আমাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারেন। একই সঙ্গে তাঁরা আমার স্ত্রীকেও লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনায় থানায় আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

অভিযুক্ত কাপড়ের দোকানের মালিক সেলিম রেজা মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত রোববার ওই সাংবাদিক আমার দোকান খোলা রয়েছে বলে প্রশাসনকে জানান। পরে প্রশাসনের লোকজন এসে দোকানের তালা ভেঙে দেখেন, দোকানের ভেতরে কেউ নেই। সেই সময় ওই সাংবাদিক ছবি তোলেন, সেটা ফেসবুকে দেন। আজ দুপুরে ওই সাংবাদিক দোকানের সামনে এসে আমার ছেলেকে বলেন, কেমন হলো ঘটনা! তখন আমার ছেলে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এতে দুজনেই উত্তেজিত হয়ে যান। আমি গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দিই। এখানে কোনো ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি।’

জামালপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। লকডাউনে দোকান খোলা রাখার ছবি তোলায় ওই সাংবাদিককে মারধর ও তাঁর স্ত্রীকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই সাংবাদিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দোকানমালিকের ছেলে রাসেল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্রঃ প্রথম আলো

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin