রোহিঙ্গারা হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য!

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

মুহিব উল্লাহ, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে মাত্র ২ বছরে হয়ে যান রোহিঙ্গাদের নেতা। বিতর্কিত সেই প্রিয়া সাহার সাথে গিয়েছিলেন হোয়াইট হাউসে, কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্র্যাম্পের সাথে। কোন পাসপোর্ট না থাকা সত্ত্বেও ঘুড়ে এসেছেন আমেরিকা থেকে।

এতো কিছুই না, অবৈধ ভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। বিভিন্ন দেশে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে দুর্নাম হচ্ছে বাংলাদেশের। রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশে থাকাকালীন মায়ানমার সেনাবাহিনীদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করতে পারে নি।

অথচ বাংলাদেশের মাটিতে করছে তারা মহাসমাবেশ। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য বর্ডার খুলে দেওয়ার মাত্র ২ বছর পর এখন তারা হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য। নতুন পুরাতন মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে আছে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বসতি। এর সাথে যোগ হয়েছে গত ২ বছরে জন্ম নেয়া ৯১ হাজার শিশু। সেই সাথে প্রতিদিন গড়ে বাড়ছে ১২৫ জন রোহিঙ্গা।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণে এদের নেই কোন আগ্রহ। এদের প্রতিটি পরিবারে সদস্য সংখ্যা গড়ে ১০-১৫ জন। এর প্রভাব পড়েছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে। এ জেলার উন্নয়ন হুমকিতে পরার পাশাপাশি বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ঝুঁকি। পুলিশের তথ্য মতে খুন, ডাকাতি, চুরি, ধর্ষণ, ইয়াবা, মানব পাচার, নির্যাতন ফসলী জমি দখল সহ ১৭ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত রোহিঙ্গারা। এদের কারো কারো হাতে উঠে এসেছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গড়ে তুলেছে সন্ত্রাসী বাহিনী।

বিরোধে জড়িত হচ্ছে মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে। গত ২ বছরে রোহিঙ্গাদের হাতে খুন হয়েছে ৪৩ জন, ৪৭১ টি মামলায় আসামি করা হয়েছে ১ হাজার ৮৮ জনকে, ইয়াবা সহ মাদক চোরাচালানের ২০৮টি মামলায় আসামি ৩৬৮ জনকে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফের মানুষের দারিদ্রতা বেড়েছে ৩ শতাংশ। রোহিঙ্গাদের চাপে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পন্যসামগ্রীর দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এতে চরম বিপদে পড়েছে স্থানীয়রা। ফসলী জমি, ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি নষ্ট করছে রোহিঙ্গারা। আবার স্বল্প মজুরিতে শ্রম দিয়ে কমিয়ে দিচ্ছে স্থানীয় বাঙ্গালীদের কাজের সুযোগ। ইয়াবা, অস্ত্র আর চোরাচালান করে রোহিঙ্গাদের অনেকেই হয়ে গেছে কোটিপতি।

একটি জাতীয় পত্রিকার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এক ডজনের উপরে কোটিপতি রয়েছে আশ্রয় শিবিরে। নানা কৌশলে স্থানীয় লোকজনের ব্যাবসা-বানিজ্য হাতিয়ে নিয়েছে তারা। এমন কি উখিয়া-কক্সবাজারের ৩২টি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের দোকানগুলোতে সোভা পায় না বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য। সবই আসে রোহিঙ্গাদের দেশ মিয়ানমার থেকে। স্থানীয়দের কোন ব্যাবসা পরিচালনার জন্য ভ্যাট ট্যাক্সের বিষয় থাকলেও, রোহিঙ্গাদের জন্য নেই কোন ভ্যাট ট্যাক্স।

এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা। এছাড়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় নেয়ায় এক সময়ের সবুজ পাহাড় হয়ে গেছে বৃক্ষশূণ্য। ধ্বংস হয়েছে পরিবেশ, বনভূমি ও জীববৈচিত্র। প্রতি মাসে রোহিঙ্গাদের রান্নায় ব্যবহার হয় ৭ হাজার টন জ্বালানি কাঠ, যার পুরোটাই আসে বনভূমি উজার করে। বন বিভাগ সুত্রে জানা গেছে , উখিয়া-কক্সবাজারের প্রায় ৬ হাজার একর বনভূমিতে বসতি স্থাপন করেছে রোহিঙ্গারা। তাদের কারণে বন বিভাগের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। যেকারণেই হোক রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো এখন সময়ের দাবি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin