রোগ থেকে রোগান্তরে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

প্রথমে কোভিড-১৯ তারপর এর বিভিন্ন প্রকারভেদ অবশেষে কালো ছত্রাক। এর ধারাবাহিকতায় পরের নামটি কি হবে এই নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোন এক দল বিজ্ঞানী হয়তো কাজ শুরু করে দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধারাবাহিকতাকে কিভবে দেখে?

আমাদের সকলেরই হয়তোবা মনে পরে গত বছর ফেব্রুয়ারীতে বিশ্বব্যাপী যখন করোনা মহামারিতে থর থর করে কাপছে তখন হঠাৎ মানুষ দুনিয়ার মহোমায়া, আমদ প্রমোদ ছেড়ে ধর্ম ও স্বাস্থ্য চর্চা শুরু করে দেয়। করোনা মহামারিতে মার্চের ২৭ তারিখে যখন কঠোর লকডাউন শুরু হয় তখন করোনাকে একটা মারণাস্ত্র ভাবতো এই দেশের মানুষ।কয়েক মাসের আর্থিক, সামাজিক ও মানুষিক প্রবল কষ্ট ও টানাপড়েনের মধ্যে রোজার ঈদের পর থেকে লকডাউন শিথিল হয় তখন মানুষ কোভিড মোকাবিলায় ভয়-এর পরিবর্তে সচেতনতা প্রদর্শন করে। ডিসেম্বর জানুয়ারিতে মানবজাতির মুক্তির আভাস অনেকেই দেখলো কিন্তু না আবার সেই একই আতঙ্ক নতুন রুপে আমাদের মস্তিষ্কে ভর করলো এই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কৃপায়।

তবে এইবার আতঙ্ক যতই থাকুক তার প্রতিকূলে আমাদের ভীতি কম আর সাহস বেশি দেখা যায়। কারণগুলোর মধ্যে টিকা, বয়স, স্বাস্থ্যবিধি অন্যতম। কারো ক্ষেত্রে তো দুঃসাহস দেখা মিলে। অবশ্য অভাবের জীবন আর জীবিকার তাগিদে দুঃসাহসী হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা।

এভাবে হা/না নিয়ে জীবনযাত্রা আবার সচল হতে শুরু করলেও নিস্তার এখনো পায়নি মানবজাতি। ইতিমধ্যে ভারতে কালো ছত্রাকের উপদ্রব শুরু হয়েও গিয়েছে যার মূল কারণ আমাদের যুদ্ধের প্রধান হাতিয়ারের মধ্যেই আছে, স্বাস্থ্যবিধি। একই মাস্ক বেশিদিন না পরিস্কার করে বারবার পড়া ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন ডিসিনফেক্টেড না করে ব্যবহার করা এই ছত্রাক তৈরির উৎস। এখনো যদিও ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট আর ব্ল্যাক ফাংগাস ভয়ঙ্কর আকার ধারন করেনাই কিন্তু তাতে কি? আমাদের কার্যকলাপ বলে দেয় যেন আমাদের ব্যাক্তিগত থেকে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির কোন কমতি নাই।

এখন আমরা মাস্ক পরি জামার সাথে রঙ মিলিয়ে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেনের জন্য হয়তো লিন্ডে আর ওরন প্রস্তুতই আছে খালি সরকারের আই সি ইউ বেড বাড়ানোর ঘোষোনার অপেক্ষায় সবাই। ডেঙ্গু, চিকন গুনিয়ার মত জ্বরে যেখানে সরকারের উদ্যোগ সবচেইয়ে বড় ভুমিকায় ছিলো তারপরেও বার বার প্রশাসনিক জটিলতায় তা কখনোই সফল হয়নি সেই দেশে প্রশাসনিক প্রস্তুতই শুধুমাত্রসাংবাদিক সম্মেলন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ।

আর আমরা বীর পুরুষের প্রজন্ম দাবি করে অথর্ব জাতি এইটা ভুলে যাই যে দুর্যোগ পুর্ববর্তি প্রস্তুতই যতই থাকুক না কেন, পরবর্তী ক্ষতির খেসারত সবসময় ব্যক্তি পর্যায়ই দিতে হয়। রোগ থেকে রোগান্তর হওয়ার দুর্যোগে আমরা এখন তা মানতে একেবারেই নারাজ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin