রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আলোচনা সভা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্টের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় ২ নং রেল গেইটে সংগঠনের কার্যালয়ে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইমাম হোসেন খোকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ (স্কপ) এর অন্যতম শীর্ষ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন।

তিনি বলেন, রি-রোলিং মিলের কাজ দেশের অন্যতম কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে প্রায় মধ্যযুগীয় প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের কাজ করানো হয়। আমাদের দেশ ৩০ লক্ষ জীবনের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। দেশে একটি সংবিধান আছে। সংবিধানে নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রি-রোলিং কারখানাগুলোতে কোন শ্রম আইনের বাস্তবায়ন নাই। শ্রম আইনের ৫ ধারায় বলা আছে নিয়োগপত্র পরিচয়পত্র ছাড়া কারখানা চলতে পারবে না। কিন্তু রি-রোলিং মিলগুলোতে নিয়োগপত্র পরিচয়পত্র দেয়া হয় না। ফলে কারখানাগুলো মালিক স্বেচ্ছাচারীভাবে বন্ধ রাখে, যখন তখন শ্রমিক ছাঁটাই করে। কিন্তু শ্রমিক কোন আইনগত প্রাপ্য পাওনা পায় না। কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় শ্রমিকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফলে শ্রমিকরা স্থায়ী পঙ্গুত্ববরণ করে, প্রায়ই মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু কোন ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় না। নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র না থাকায় শ্রমিকরা এক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়। কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা ট্রেড ইউনিয়নও গঠন করতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ মজুরি বোর্ড রি-রোলিং খাতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে। মজুরি কমিশন, পে-স্কেল, বর্তমান বাজার দর ও ঝুঁকি বিবেচনায় রি-রোলিং খাতে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২২ হাজার টাকা নির্ধারণ করার দাবি করেছিল। কিন্তু সরকার শ্রমিকদের চাওয়া সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে মালিকদের পরামর্শমত ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৬শ’ টাকা ঘোষণা করেছে। কিন্তু সরকার ঘোষিত এই মজুরির কোন বাস্তবায়ন হয় নাই। সরকারের শ্রম পরিদর্শক বিভাগ থাকার পরও এগুলো কেউ দেখভাল করে না।

পঞ্চবটিতে অবস্থিত এ রফিক রি-রোলিং মিলে কর্মরত অবস্থায় রডের আঘাতে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিক মিজানুর রহমানকে আজীবন আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ এবং দূর্ঘটনার জন্য দায়ী মালিক ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান এই শ্রমিক নেতা।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক নিখিল দাস, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি সেলিম মাহমুদ, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির।

সুত্রঃ লাইভ নারায়ণগঞ্জ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin