রফিউর রাব্বি মনে করেন,ধর্ষকদের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি ধর্ষণ বৃদ্ধির কারণ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি বলেছেন, আমাদের দেশে প্রতি মাসে গড়ে ১১১টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের হিসাবে ২০১৯ সালে ১৪১৩ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে ৭৩ জন এবং ১০ জন নারী আত্মহত্যা করেছে। এ বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে ৮৮৯ জন নারী ধর্ষিতা হয়েছে ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে ৪৬ জনকে। এই হিসাব আমাদের ভীত করে। গত রোববারও সিদ্ধিরগঞ্জে একটি গণধর্ষণের মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে নারয়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে ধর্ষণ বিরোধী মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, গত ৩ বছর আগে ২০১৭ সালে সরকারি বাংলা কলেজে ছাত্রলীগের এক নেত্রী তার দলের লোকজন দ্বারা ধর্ষিতা হয়ে বিচার চেয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মানিক ১০১ জনকে ধর্ষণের পরে উৎসব করে জানিয়েছিল। সারাদেশে তখন তোলপাড় তৈরি হয়েছিল। যারা গত শুক্রবারে এমসি কলেজে ঘটনাটি ঘটিয়েছে তারাও এই ছাত্রলীগের। সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ধর্ষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হচ্ছে ধর্ষকদের পেছনের রাজনৈতিক শক্তি। তাদেরকে কোনভাবেই স্পর্শ করা যাবে না এই ধারণা তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। যার ফলে আমরা যদি শুক্রবারের ঘটনা দেখি সিলেটের এক আওয়ামী লীগের নেতা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে এবং এদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে গত কুরবানির ঈদে তারা ক্যাম্পাসে থেকে যানবাহন থেকে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে। তখন তো ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কথা। কলেজের অধ্যক্ষ সাংবাদিকদের জানায়, আমার অবস্থা আপনার বিবেচনা করেন, আমি কিসের মধ্যে আছি। আপনারা জানেন তো একজন অধ্যক্ষকে ধরে তারা পানিতে ফেলে দিয়েছে। অর্থ্যাৎ তারা অসহায়।

রফিউর রাব্বি বলেন, এই ধর্ষকদের পেছনে রাজনৈতিক শক্তি যদি না থাকে তাহলে ধর্ষণের মাত্রা ৮০ ভাগ কমে যাবে। আর একটা বিষয় হচ্ছে যদি ১০ হাজার ধর্ষণের ঘটনা ঘটে আমরা খবর পাই ৬ হাজার। বিগত সময়ে হিসাব অনুযায়ী দেখা যায় ৫ হাজার মামলা হয়েছে ধর্ষণের, শাস্তি হয়েছে ৬ জনের। যখন ধর্ষণের পরে থানায় মামলা করা হয়, আসামিদের গ্রেফতার করে তখন থানায় টাকা-পয়সার হিসাব-নিকাশ হয়। তাদেরকে বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য তারা এজাহারগুলো এবং তাদের অভিযোগপত্রগুলো সেইভাবে তৈরি করে। যাতে আদালতে গেলে তারা বেরিয়ে যেতে পারে। এই ধর্ষণগুলোকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য যেমন সরকার রয়েছে তেমন এই সরকারের বাহিনীও রয়েছে। তাদের কার্যক্রমের কারণে এই ধর্ষকরা বোঝে তাদের ধরার কোনো সুযোগ নাই আর যদি ধরেও তাহলে শাস্তি হিসেবে ১০ থেকে ১৫ দিন কারাগারে থাকতে হবে এর বেশি না। ফলে আমাদের দেশে এই ধর্ষণের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটা দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নারী, বিরোধী দলে নারী, স্পিকার নারী অথচ সেখানেই এভাবে ধর্ষণের মহোৎসব চলছে।

ধর্ষণসহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি কর্মী, রাজনৈতিক কর্মী ও সমাজিক কর্মী সকলকে সম্মিলিত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, এই প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোনো সুযোগ নাই।

নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ভবানী শঙ্কর রায়ের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শাহীন মাহমুদের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন খেলাঘরের সভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সিপিবির জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাড. এবি সিদ্দিক, নারায়ণগঞ্জ মহিলা পরিষদের সভাপতি লক্ষ্মী চক্রবর্তী, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি হাফিজুর রহমান, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, সমমনার সভাপতি দুলাল সাহা, সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি জাহিদুল হক দিপু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, বাসদ নেতা আবু নাইম খান বিপ্লব, যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা শিশির চক্রবর্তী প্রমুখ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin