যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করার কিছু কৌশল

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ভালোভাবে যোগাযোগ রক্ষা করার দক্ষতা অর্জন ছাড়া আজকের এই দুনিয়াতে কোন কিছু করা প্রায় অসম্ভব, তাই এই চাতুর্য অর্জন এর কোন বিকল্প নেই।যোগাযোগ এর ওপর নিপুণতা থাকলে আপনি ক্লাস প্রেজেন্টেশন, জব ইন্টারভিউ এবং যে কোন বিষয়ে সুন্দর ভাবে পরিচালনা করতে পারবেন । কিন্তু এই যোগাযোগ এর ওপর পটুতা অর্জন করতে হলে আপনাকে কিছু কৌশল অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

১। আপনাকে বুঝতে হবে আসলে যোগাযোগ এর মানে কি:
যোগাযোগ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে প্রেরক এবং গ্রাহক বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের বার্তা আদান প্রদান করে থাকে। এটা লিখিত কিংবা অলিখিত হতে পারে।এটি সম্পর্ক স্থাপন ও সংশোধন করার জন্য আমরা ব্যবহার করি।

২। আপনি যা চিন্তা করেন তা বলার জন্য মনোবল থাকতে হবে:
আপনি যখন কারো সাথে কনভার্সেশন শুরু করবেন আপনাকে অবশ্যই আত্ম-বিশ্বাসী হতে হবে ,মনে করতে হবে এই কনভার্সেশন এ আপনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারবেন ।আপনার মতামত এবং অনুভূতি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য প্রতিটি দিন সময় নিন যাতে আপনি যথোপযুক্তভাবে অন্যদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।যেসব ব্যক্তি কথা বলতে দ্বিধাবোধ করে, কারণ তারা তাদের মধ্যে কথা বলার জন্য আত্মবিশ্বাস অনুভব করে না, তারা মনে করেন তার কথা আদৌ কোনো গুরুত্ব বহন করে কিনা ,কিন্তু তাদের ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।আপনি কি বলতে চাচ্ছেন তা সম্পর্কে আপানর সঠিক ধারণা থাকলে আপনার কথা গুলো অবশ্যই গুরুত্ব বহন করবে।

৩। অনুশীলন:
যোগাযোগ দক্ষতা উন্নত করতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিয়মিত চর্চা করতে হবে পৃথিবীতে যত বড় –বড় কমিউনিকেটর আছে তারা তা একদিনে অর্জন করেনি তার জন্য যথেষ্ট প্রচেষ্টা এবং সাহস ছিল তাদের জীবনে। আপনি আপনার যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আজ থেকে কথা বলার অভ্যাস করুন। দেখবেন আস্তে আস্তে আপনি একজন দক্ষ যোগাযোগকারী হয়ে উঠছেন ।

৪। চোখ এর মাধ্যমে যোগাযোগ করুন:
আপনি কথা বলছেন বা শুনছেন, আপনি যে ব্যক্তির সাথে কথা বলছেন তার চোখের দিকে নজর দিলে ইন্টারঅ্যাকশন আরও সফল হতে পারে।চোখের যোগাযোগ আগ্রহ প্রদান করে এবং আপনার শ্রোতাকে আপনার দিকে মনযোগী করতে দারুন ভাবে সহায়তা করবে।

৫। অঙ্গভঙ্গির ব্যবহার করুন:
আপনার হাত এবং মুখের সঙ্গে অঙ্গভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত। আপনার শ্রোতাকে আপনার প্রতি মনযোগী করতে আপনার অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করুন। ব্যক্তি এবং স্রোতার অবস্থা বুঝে অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করুন। যেমনঃ আপনি ক্লাস প্রেজেন্টেশন এর সময় কোন ৫ বা ১০ মুখে বলছেন, এটা মুখে বলার সাথে সাথে আপনি হাতের আঙ্গুল দিয়ে ৫ এবং ১০ দেখাতে পারেন এতে আপনার শ্রোতার আপনাকে বুঝতে সুবিধা হবে। 

৬। মিশ্র বার্তা পাঠাবেন না:
আপনার শব্দ, অঙ্গভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি এবং ভয়েস টোন ম্যাচ করতে হবে। আপনি যখন কোন কষ্টের কথা বলবেন তখন আপনার ফেসিয়াল এক্সপ্রেসশন হাস্যোজ্জ্বল থাকলে চলবে না আবার কোন জোকস বলার সময় মুখ এর ভঙ্গি মলিন যেন না থাকে, নয়ত শ্রোতাবৃন্দ ভুল বার্তা পেতে পারে। 

৭। আপনার শরীর এর ভাষা খেয়াল করুন:
শারীরিক ভাষা অনেকগুলি শব্দের চেয়ে অনেক বেশি বলতে পারে। আপনার শারীরিক ভাষা হচ্ছে যোগাযোগ এর জন্য একটি নিঃশব্দ অস্ত্র যা আপনার আশেপাশের মানুষদের বুঝতে সাহায্য করে যে আপনি তাদের কথা শুনার জন্য প্রস্তুত।তাই যেকোন কথোপকথন শুরু করার আগে শারীরিক ভাষা ঠিক করুন। 

৮। অন্যর প্রতি যথার্থ মনোভাব পোষণ করুন:
আপনি যখন কারো সাথে যোগাযোগ স্থাপন করবেন তখন তার সম্পর্কে বাঁধাধরা মনোভাব নিয়ে কথা বলবেন না। সততা, ধৈর্য এবং আন্তরিকতা নিয়ে কথা বলুন,বাস্তবতা মেনে নিবার মত মানসিক শক্তি রাখুন, অন্যর মতামত এর প্রতি সংবেদনশীল থাকুন ও অন্যর দক্ষতাকে সম্মান করুন। ।

৯। একজন ভালো শ্রোতা হবার চেষ্টা করুন:
অন্যকে শ্রদ্ধা করার একটি ভালো উপায় হচ্ছে অন্যর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ,আপনাকে শুধু একজন ভালো বক্তা হলেই চলবেনা তার সাথে একজন ভালো শ্রোতা ও হতে হবে।একজন ভালো শ্রোতার গুন হল নিজেকে জাহির করার জন্য বক্তার কথা শেষ করার আগে তাকে কোন প্রশ্ন না করা , কিন্তু আপনি যে তার কথা বুঝতে পারছেন বা বুঝতে কোন সমস্যা হলে তার কথা শেষ হলে তাকে জিজ্ঞেস করা ও একজন ভালো শ্রোতার গুনের মধ্যে অন্যতম।

১০। আপনার শব্দ সঠিক ভাবে উচ্চারণ করুন:
মানুষ আপনার শব্দভান্ডারের মাধ্যমে আপনার যোগ্যতা বিচার করবে যদি আপনি একটি শব্দ কিভাবে বলতে হয় তা নিশ্চিত না হন তাহলে সেটি ব্যবহার করবেন না। দৈনিক রুটিনে নতুন শব্দ শিখা এবং পড়ার মাধ্যমে আপনার শব্দভান্ডার উন্নত করুন। একটি নতুন শব্দ কীভাবে শিখবেন তা শিখতে কোন অভিধান বা গুগল ট্রান্সলেটরের সাহায্য নিতে পারেন ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin