মৌলবাদীদের ভয়ে ঘরে বসে থাকার মানুষ আমি নাঃ আইভী

শেয়ার করুণ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, ‘নারী বলে মৌলবাদীদের ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকার মানুষ আমি না। আপনারা আমাকে ১৮ বছর ধরে চেনেন।

আমি কিন্তু লড়াই সংগ্রাম করে এই নারায়ণগঞ্জে টিকে আছি। প্রত্যেকের সাথেই কিন্তু আমার যোগাযোগ আছে। প্রত্যেকের বিপদে-আপদে কিন্তু আমি দাঁড়িয়েছি। পিছ পা হই নাই। আমি এর সাথে যাবো না ওর সাথে যাবো এই কথা বলিনি।’

মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে চাষাঢ়ায় বাঁধন কমিউনিটি সেন্টারে যুবলীগের এক বর্ধিত সভায় তিনি এইসব কথা বলেন। আইভী বলেন, ‘আপনাদের পাশে পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শে আপনারা কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। এই নৌকা বঙ্গবন্ধুর নৌকা, শেখ হাসিনার নৌকা। উনি যখন যাকে দিবেন নৌকার মাঝি হিসেবে আমরা সকলেই তার জন্য কাজ করবো। এটাই আমাদের দলের আদর্শ।

এটাই নিয়ম। এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নাই। এর বাইরে যদি যায় তাহলে বুঝতে হবে সে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করে না। সে তার নিজের স্বার্থে, নিজের প্রয়োজনে দলকে ব্যবহার করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের দুঃসময় পাশে ছিলাম। দুঃসময় বলতে ২০০১ অপ্রত্যাশিতভাবে যখন আওয়ামী লীগ হেরে গেল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। দেশি ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। তখন ২০০২ সালে আমি বাংলাদেশে এসে প্রথম পৌরসভা নির্বাচন করেছিলাম। সেই নির্বাচনে আমরা সরকারি প্রার্থীকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলাম।

তখন অনেক লোকজন ছিল না, অনেকে দেশের বাহিরে ছিল। অনেকে দেশে থেকে নীরবে কাজ করেছে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জে সে কনফারেন্স হয়েছিল সেটা ছিল শহর যুবলীগের।

পাশ করার পরে সেই জনসভাটা ছিল প্রথম। সবচেয়ে বড় জনসভা ছিল। নেতাকর্মীরা উজ্জ্বীবিত ছিল। ওই কনফারেন্সের মাধ্যমেই কিন্তু আজকের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি ভোটাভোটির মাধ্যমে বেরিয়ে আসলো। পরবর্তীতে যুবলীগের অনেক অধিবেশন হয়েছে। প্রত্যেকটা অধিবেশন আমার নেতৃতে হয়েছিল। আমার নেতৃতে বলছি কারণ আমি আমাদের তখন সময়টা খারাপ ছিল। বিভিন্ন কারণে আমাদের কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল।

আমি যখন আপনাদের সাথে ছিলাম তখন কিন্তু আমি হিসাব করি নাই কে কার লোক। আমি তখন চিন্তা করছি জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী আমরা। তাই আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো স্থানীয় রাজনীতির বিভেদ, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা যাই থাকুক না কেন যখন কেন্দ্র সিদ্ধান্ত দেয় সেই সিদ্ধান্তের বাইরে আপনারা যাবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে সম্ভবভাবে ষড়যন্ত্র করছে। আমি জয়বাংলা বলি এটাই আমার অপরাধ। আমার জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত জয় বাংলা বলবো। এটার বাইরে গিয়ে কথা বলার সুযোগ নাই।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনারা দিকনির্দেশনা অবশ্যই দিবেন। ঘরে ঘরে গিয়ে যেন কাজ করে। আমি যদি মনে করি যে আমার বিরুদ্ধে কেউ কাজ করে তাহলে আমি আপনাদের বলবো। আমার পক্ষে যদি কেউ কাজ করতে না চায় তাহলে আমার কোন কথা নেই। কাজ না করলে নীরব থাকবেন। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কোন অপপ্রচারে যেন অংশগ্রহণ না করেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে কনফারেন্স করে কথা বলেছেন। তার বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করবেন না।’

এই সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হোসেন খান নিখিল, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, সহসভাপতি আহাম্মদ আলী রেজা রিপন, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া সাজনু, সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল, সহসভাপতি কামরুল হুদা বাবু প্রমুখ।

সূত্রঃ প্রেস নারায়ণগঞ্জ

নিউজটি শেয়ার করুণ