রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া রাজবাড়িতে এক বিকেলে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

করোনার কারনে বাসায় বসে থাকতে থাকতে মনটা বিষিয়ে উঠেছে। একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছি এমন সময় ফোন বেজে উঠলো। বন্ধু রাহাত ফোন দিয়ে জানলো বিকালে গাড়ি নিয়ে বের হবে। আমাকে দায়িত্ব দিল জায়গা নির্বাচনের। গুগলে সার্চ দিয়ে বের করলাম রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া রাজবাড়ী। কালের সাক্ষী হয়ে এখনো ঠায় দাড়িয়ে আছে এই জমিদার বাড়ি। গুগলে ছবি দেখে আর লোভ সামলাতে পারছিলাম না রোমাঞ্চকর এই যত্রার। যত দ্রুত সম্ভব রেডি হয়ে গেলাম। বিকাল ৩ টায় বন্ধু রাহাত গাড়ি নিয়ে হাজির। সাথে আছে বন্ধু সাদমান আর রাকিন।

গাড়িতে উঠেই ফোন দিলাম বন্ধু জিহানকে। রূপগঞ্জের এই স্থানীয় বাসিন্দা আমাদের কলেজ বন্ধু। তাকেও পাওয়া গেল রুপগঞ্জের বাড়িতে। যাত্রাপথে আমাদের সাথে যুক্ত হবে সেও। জমপেশ এক ভ্রমনের লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে আমাদের গাড়ি। বেলা সাড়ে ৪টায় আমরা জমিদার বাড়িতে এসে নামলাম। পড়ন্ত বিকেলের আধো আলো জমিদার বাড়টির সৌন্দর্য যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছ। বন্ধু জিহান একে একে বলতে থাকে এই জমিদার বাড়ির ইতিহাস আর ঐতিহ্যের কথা। নিচে তুলে ধরা হলো তারই কিছু অংশ বিশেষ।

মুড়াপাড়া রাজবাড়িটি ৬২ বিঘা জমির ওপর অবস্থিত। এই জমিদার বাড়িটি তৈরি করেন বাবু রামরতন ব্যানার্জী যিনি এ অঞ্চলে মুড়াপাড়া জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর তার কয়েকজন বংশধর কর্তৃক প্রাসাদটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হয়। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দে জমিদার প্রতাপচন্দ্র ব্যানার্জী এই ভবনের পিছনের অংশ সম্প্রসারণ করেন ও পরিবার নিয়ে এখানেই বসাবাস শুরু করেন।তার পুত্র বিজয় চন্দ্র ব্যানার্জী ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রাসাদের সামনের অংশে একটি ভবন নির্মাণ ও ২টি পুকুর খনন করেন। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে তার দুই পুত্র জগদীশ চন্দ্র ব্যানার্জী ও আশুতোষ চন্দ্র ব্যানার্জী কর্তৃক প্রাসাদের দোতালার কাজ সম্পন্ন হয়।১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর জগদীশ চন্দ্র তার পরিবার নিয়ে কলকাতা গমন করেন। এরপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাড়িটি দখল নেয় এবং এখানে হাসপাতাল ও কিশোরী সংশোধন কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে এখানে স্কুল ও কলেজের কার্যক্রম পরিচালনা করা হত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটির দায়িত্ব গ্রহণ করে সেটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। বর্তমানে এটি মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নামে পরিচিত। দ্বিতল এ জমিদার বাড়িটিতে ৯৫টি কক্ষ রয়েছে; রয়েছে সংলগ্ন ২টি পুকুর: বাড়ির সামনে একটি বৃহদাকার পুকুর; পেছনভাগে তুলনামূলক ক্ষুদ্রকার আরেকটি পুকুর। এছাড়াও পুরো জমিদার বাড়িটিতে রয়েছে বেশকিছু নাচঘর, আস্তাবল, মন্দির, ভাণ্ডার ও কাচারি ঘর। মন্দিরের ওপরের চূড়াটি প্রায় ৩০ ফুট উঁচু। মূল প্রাসাদে প্রবেশের পথে রয়েছে বেশ বড় একটি ফটক।একটি আম বাগানও আছে জমিদার বাড়ির পাশে। দু’টি পুরনো মঠ রয়েছে প্রধান সড়কের পাশে।

চারিপাশ ঘুরে দেখতে দেখতে কখন যে সন্ধ্যা নেমে এসেছে টেরই পাইনি। আজানের ধ্বনিতে আমরা বুঝতে পারি এখন যাবার সময় হয়েছে। ততক্ষনে রাস্তার নিয়ন বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে। জ্যাম ঠেলে আমাদের গাড়ী যন্ত্রিক শহরের পানে ছুটছে। আবার কোন দিন হয়তো লিখবো নারায়ণগঞ্জের কোন দর্শনীয় স্থান নিয়ে। আজ তাহলে এখানেই থাক।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin