মুন্সিগঞ্জের প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন পাতক্ষীর

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান, সন্তোষপাড়ায় তৈরি হয় প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন আঞ্চলিক ভাষায় পাতা ক্ষীসরা। যার কথিত নাম পাতাক্ষীর বা পাতক্ষীর।
কলাপাতায় করে পরিবেশন করা হয় বলেই এই খাবারের নাম হয়েছে পাতক্ষীর।

এই খাবার তৈরি করা হয় মুলত দুধ ও চিনি জাল করে করে ঘন করে রঙ আনার জন্য সামান্য পরিমান কাঁচা হলুদ বাটা মিশিয়ে।
পরিমানের অনুপাত যদি ধরা হয় তাহলে ৩০ লিটার দুধে ৭৫০ গ্রাম চিনি ও দুই চা চামচ হলুদ বাটা মিশিয়ে প্রায় তিন থেকে চার ঘন্টা জাল দেওয়া ও নাড়াচাড়া করতে করতে পাঁচ কেজি ক্ষীরসা তৈরির মাধ্যমে প্রস্তুত হয় এই সুস্বাদু মিষ্টান্ন।

এই খাবার রাজলক্ষী মিষ্টান্ন ভান্ডার নামে একটি দোকানের পূর্বসূরিরা সর্বপ্রথম তৈরি করেন বলে জানা যায়।
দোকানের বর্তমান কর্ণধার খোকন ঘোষের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, এই খাবারটি তৈরি করার ইতিহাস প্রায় দুইশত বছরের পুরনো। কবে কোন দিন এই খাবার তৈরি শুরু হয়েছিল তার ঠিক দিনক্ষন না বলতে পারলেও তিনি জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি এই দোকান পরিচালনা করছেন।

বর্তমান পাতক্ষীর মুন্সিগঞ্জের আরও কিছু দোকানে পাওয়া যায়। মা ক্ষীর ভান্ডার, জগন্নাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, সমীর ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার নামে দোকানগুলো উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও খোকন ঘোষ জানায়, তাঁদের এই খাবার প্রতি বছর পঁচিশ ডিসেম্বরে বঙ্গভবনে দেশি-বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়নেও পাঠানো হয়। ঐতিহ্যের ধারক এই খাবার দেশে বিদেশের সকল মানুষের কাছেই তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। খাবারটি তৈরি হয়েছিল মুলত পাটিসাপটা পিঠার পূর হিসেবে।
তবে স্বাদে গুনে অতুলনীয় হওয়ার জন্য ভাতের সাথে, পাকা আমের সাথে এবং সাধারণ মিষ্টান্ন জাতীয় খাবার হিসেবেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে পাতক্ষীরের জনপ্রিয়তা।

সাধারণত ছয় লিটার দুধ থেকে তৈরি এক কেজি সুস্বাদু পাতক্ষীর ছয়শত টাকায় পাওয়া যায়। মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন যেমন নামে পরিচিত তেমনই এর স্বাদ। আশেপাশে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের সাক্ষাৎকারে ঠিক এরকমই শোনা যায়। আর নিজে স্বাদ আস্বাদন করা তো আছেই।
চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সন্তোষপুর আর খেতে পারেন প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন পাতক্ষীর।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin