মিটিং করলে কাজ হবে না,একত্রিতভাবে কাজ না করলেঃ শামীম ওসমান

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আজ বুধবার (৭ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জের জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উক্ত সভায় ডিএনডি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ঠরা, জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তা, রোড’স এন্ড হাইওয়ে বিভাগ, এনসিসি’র ইঞ্জিনিয়ার, ডিপিডিসি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন প্রস্তাব প্রদান করেন। এ সময় মন্ত্রনালয়ের সাথে জড়িত সকল বাধা সমাধান করে দিবেন বলে জানান শামীম ওসমান। তবে এ সভায় উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, আসেন নাই কোন রেলওয়ে বিভাগের কর্মকতা।

এ সময় শামীম ওসমান বলেন, ডিএনডি প্রকল্পের ডিরেক্টররা আমাকে বললো এই কাজটা করতে ১৭৫ কোটি টাকা লাগবে। আমরা কিন্তু এর আগেও প্রায় ৭/৮শ কোটি টাকা ব্যায় করে‌ছি, সেখানে রাস্তা করা হয়েছে। এমনকি সেখানে আরসিসি রাস্তা করার ক্ষেত্রেও অনেকের দ্বিমত ছিলো। যারা টেবিলে বসে কাজ করে তারা মনে করেন নারায়ণগঞ্জ একটি গঞ্জ, কিন্তু যারা মাঠে কাজ করে তারা জানেন ‘নারায়ণগঞ্জ ইজ মোর ইমপোর্টেন্ট দ্যান ঢাকা’। কারন সারা দেশের ২৫ ভাগ ট্যাক্স দেয় নারায়ণগঞ্জ, তার মধ্যে ২০ ভাগ দেয় আমার ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ। আজকে যে রেলওয়ে আসেন নাই এ বিষয়ে আপনার (ডিসি) ব্যবস্থা নেয়া উচিত, প্রয়োজনে চিঠিটা আমাকে দিবেন আমি মন্ত্রনালয় থেকে উত্তর নিয়ে আসবো যে কেন কেউ আসে নাই। আপনি আরও এরকম আর ৫ টি মিটিং করলেও কাজ হবে না, যদি সকল বিভাগের লোক একসাথে কাজ না করে। কেননা ওনাদের ক্যানেলের নিচ দিয়ে গ্যাসের লাইন, বিদ্যুতের লাইন গেছে। সেখানে আবার স্কুল আছে মাতুয়াইল স্কুল, সেই স্কুলের জন্য লাখ লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে রয়েছে। আপনি বলবেন সেটা সরিয়ে দাও। আপনি যদি ওটা সরান, তাহলে অন্তত কোথাও তো করে দিতে হবে, ওরাতো লেখা-পড়া বন্ধ করে দিতে পারবে না। এইটা সমন্বয় না হলে, আমার মনে হয়না এই হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে কিছু হবে।

সভায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আপনারা যারা এখানে আছেন আপনাদের সাহায্য আমাদের চাই। আমাদের ডিএনডি’র ডিরেক্টর যা বলেছেন যে, ডিপিডিসি তার পর আর যারা যারা আছে তারা যদি তাদের লাইন গুলো রিমুভ না করে তাহলে তো কাজটা হবে না। যদি ডিপিডিসি, তিতাশ সহ আরো যাদের লাইন ওইখানে আছেন তাহলে আরও ১ বছরেও সেই কাজ হবে না। আপনারা যদি মনে করেন, জেলা প্রশাসক সাহেব চাইলেই কাজ হয়ে যাবে এটা অসম্ভব। এই কাজে সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে যদি গ্যাসের লাইন, বিদ্যুতের লাইন সরানো না হয়। এই দুনিয়ায় কেউই পারফেক্ট না, কিন্তু আপনাদের দেখতে হবে আমরা ট্রায় করছি কিনা। এক সপ্তাহে ২টি মিটিং হয়ে গেলো। রোববার মন্ত্রী মহোদয় আসবেন, কেনো? কারন সমস্যাটা আমাদের সমাধান করতে হবে। এরকম ভাবে আপটুডেট কাজ করলে সকলে যদি নিজের কাজের অগ্রগতিটা একসাথে আলোচনা করি তাহলে অনেকটা সহজ হয়ে যাবে। এই কাজে কিছু বিদ্যালয়, কিছু আল্লাহর ঘর, কিছু মন্দির রিপ্লেস করতে হতে পারে, এসময় এলাকার লোকেদের খারাপ লাগবে। আর যদি রিপ্লেসের ব্যবস্থা না করা হয়ে থাকে তাহলে আমি ডিসি সাহেবের কাছে অনুরোধ করবো স্ব স্ব মন্ত্রনালয়ের সাথে আলাপ করে এটির একটি ব্যবস্থা করে দিতে। কারন যে স্কুলটায় বাচ্চারা পড়েছে সে স্কুলটা ভেঙ্গে দিলে তাদের খারাপ লাগবে। তাই আরেক জায়গায় আরও সুন্দর করে স্কুলটা তৈরি করে দিবেন।

এ সময় ডিএনডি প্রকল্পের ডিরেক্টর লেঃ কর্নেল মো. আহসানূত তাকবিম চৌধুরী বলেন, আগামী বছর নারায়ণগঞ্জবাসীরা পানির নিচে থাকবে না। আমি ভাবতাম আমার কাজটা করে তো আমি চলে যাবো, পরে কি হবে। আমার যাওয়ার ১ মাস পরে দেখবো আবার আগের অবস্থা ফিরে এসেছে, আবারো ময়লা ফেলা হচ্ছে, আবারো অবৈধ স্থাপান হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ডিসি সাহেব যেভাবে কাজ করছে, আমাদের এমপি সাহেব যেভাবে সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এই ধারাবাহিকতা যদি রক্ষা করা যায় তাহলে কোন সন্দেহ নাই, যে আগামি বছর পানি জমবে না। এখানে যারা আছেন তারা যদি সকলে সাহায্য করে, একে অপরকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, সকলে কাজ করলে আমার ক্যানেলে যদি পানি আসতে পারে তাহলে তা বের হয়ে যাবে। আমার পাম্প যথেষ্ট ক্যাপেবল। আমরা সমন্বয় করে কাজ করলে আগামী বছর কষ্ট করতে হবে না।

এ সময় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্তে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা, অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট রহিমা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জাহুরা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজনু, পিএসসি, মেজর সৈয়দ মোস্তাকীম হায়দার ও ক্যাপ্টেন ইবনে ফরহাদ মন্ডলসহ সদর উপজেলার সকল ইউনিয়ণ পরিষধের চেয়ারম্যানগন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin