মাসদাইর বাড়ৈইভোগে সরকারি জায়গায় ফকির এ্যাপারেলস’র গেইট

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার মাসদাইর বাড়ৈভোগ এলাকায় সরকারী রাস্তায় একটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের গেইট স্থাপন করা নিয়ে ব্যাপক বির্তকের সৃস্টি হয়েছে। শনিবার রাতে বিসিকের ফকির এ্যাপারেলস এর কর্তৃপক্ষ ওই গেইটটি স্থাপন করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলছেন ‘বিষয়টি বৈধ নয়’; আর প্রতিষ্ঠানটি থেকে বলা হচ্ছে ‘শ্রমিক-শিল্পের নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়েছে’।


স্থানীয়রা জানায়, ১৯ ডিসেম্বর রাতে বিশালাকার গেইট ফকির এ্যাপারেলস তাদের শ্রমিকদের দিয়ে স্থাপন করে। এরআগেও তারা গেইটটি স্থাপন করতে চাইলেও এলাকাবাসির বাঁধার মুখে তা সম্ভব হয় নি।  কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন এ রাস্তা দেখতে আসেন। ওই সময়ে এনায়েতনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, ইউপি মেম্বার জাকারিয়া জাকির, আতাউর রহমান প্রধান মেম্বার, রোজিনা আক্তার মেম্বার উপস্থিত ছিলেন।

তবে, গেইটটি নিয়ে মতবিবেদ রয়েছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ফকির নীট কর্তৃপক্ষের। স্থানীয় এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলছেন, ডিসি কিংবা ইউএনও কারো কাছ থেকেই কোন প্রকার অনুমতি তারা পাননি গেইট লাগানোর জন্য। অন্যদিকে ফকির নীট কর্তৃপক্ষ বলছে, আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে গেইটটি স্থাপন করেছি, সকলের জন্যই উন্মুক্ত থাকবে এই গেইট।

এ বিষয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এটা সরকারি রাস্তা, ভিতরে অন্য মানুষের বসতি আছে। এই রাস্তা নিয়ে এর আগে ডিসি সাহেবের সাথে কথা হলেও তিনি এ বিষয়ে কিছু বলেননি। সরকারি জায়গায় কোনো ভাবেই গেট লাগানো কাম্য নয়।

এই গলি রাস্তার ভিতরে তো কোন বসতি নেই, গার্মেন্টস এর শ্রমিকরাই যাতায়েত করে, এমন প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ওখানে আলাউদ্দিন ভাইয়ের, শাহজাহান ভাইদের জায়গাসহ আরো ৫/৬ জনের জায়গা আছে আমার জানা মতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৪/৫ জন লোকের যে জমি আছে সে গুলো কম দামে নেয়ার জন্য সে এই প্লান করছে, এটা আমার ধারণা। উদ্দেশ্য ভালো না। আমি এটা ডিসি স্যারের কাছে সামনা সামনি প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমি প্রতিবাদ করেছি, তারা খালের মধ্যে কার্লভাট কইরা বাড়ৈইভোগবাসী পানিতে ডুইবা মারতেছে; নারায়ণগঞ্জ শহরের একটা অংশের মানুষকে ডুবায় মারতেছে। আবার নতুন কইরা পায়তারা শুরু করছে, রাস্তাটা দখল করার জন্য।’

সরকারী অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, আমার সাথে ইউএনও ম্যাডামেরও কথা হইছে। যতটুকু জানি কোন অনুমতি নেই এ কাজের।

এদিকে গেইট লাগানোর বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মতামত জানিয়ে ফকির এ্যাপারেলস এর ম্যানেজার(এ্যাডমিন) জাকির মাহমুদ বলেন, এটা আমাদের কোন দখলবাজি নয়। এই গলি রাস্তাটি ব্যবহার অনুপযোগি ছিলো। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে আরসিসি ঢালাই করেছি জনস্বার্থে। বর্তমানে এ রাস্তায় সন্ধ্যার পর অবাধে মাদক বিক্রিসহ নানা অপকর্ম হচ্ছে। কয়েক দিন পর পরই কিশোর গ্যাংদের তান্ডব চলে।

জাকির মাহমুদ আরও বলেন, রাতে যখন আমাদের শ্রমিকদের ছুটি হয়, লম্বা এই গলিটায় শ্রমিকরা ছিনতাইয়ের শিকার হয়। নারী শ্রমিকরা নানা হয়রানীর সম্মুখীন হয়। তাই আমরা নিরাপত্তার স্বার্থে ও উশৃঙ্খল ঘটনা এড়াতে এ গেইট স্থাপন করেছি। তাছাড়া গেইটটি সম্পূর্ণ দৃশ্যমান এবং সকলের জন্যই সারা দিন উন্মুক্ত থাকবে। শুধু মাত্র রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের প্রহরী থাকবে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক, আমরা দেশের রপ্তানী খাতের জন্য, দেশের অর্থনীতি চাকা সচল রাখার জন্য দিন-রাত শ্রম দিচ্ছি। দেশের উন্নয়নে, মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে। এটাকে কে বা করা হীন স্বার্থে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছেন, বুঝতে পারছি না। শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থেই আমাদের এই গেইট। দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই এ গেইট। আশা করি, প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

সূত্রঃ লাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin