মামুনুল হকের জন্য সাংবাদিককে মারধর

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আর কিছু চাই না, শায়েখ আল্লামা মামুনুল হকের কাছে একান্ত ভাবে মাফ চাইবেন; রিসোর্টে নারীসহ অবস্থানের ঘটনা সংবাদের তথ্য সংগ্রহের জের ধরে স্থানীয় সাংবাদিককে মারধর করে ফেসবুক লাইভে এসে এভাবেই কথা গুলো বলছিলেন কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা।

সোমবার (৫ এপ্রিল) রাতে সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর ভান্টি চর এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ওই সাংবাদিকের ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর, লুটপাট করেছে তারা।

ওই সাংবাদিকের নাম হাবিবুর রহমান। সে চ্যানেল এস নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সোনারগাঁও প্রতিনিধি।

হাবিবুর রহমানের ভাই মোফাজ্জল হোসেন জানান, ঘরে ঘুমিয়ে ছিল বড়ভাই হাবিবুর রহমান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হেফাজতের নেতাকর্মীরা হঠাৎ লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাংচুর করে। ঘুমন্ত হাবিবুর রহমানকে টেনে হিঁচরে ঘরের বাইরে নিয়ে যায়। প্রথমে এক দফা পিটিয়ে ফেসবুক লাইভে গিয়ে মামুনুল হকের কাছে মাফ চাইতে বলে। মাফ চাইলেও তাদের মন মতো না হওয়ায় আবারও মারধর করেন। পরে আমরা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে সহযোগীতা চাইলে পুলিশ এসে আহত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

ফেসবুক লাইভের ভিডিওতে দেখা যায়, ‘একজন বলছে, হুজুরের (মামুনুল হক) কাছে মাফ চাইতে হবে, হুজুর যাতে আপনাকে ক্ষমা করে দেয় এ জন্য। আরেকজন বলছেন, আপনি বলবেন, হুজুর (মামুনুল হক) কাছে আমি ক্ষমা চাই। সাংবাদিক হিসেবে সেখানে গিয়ে ভুল করেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। পরে ওই সাংবাদিক কেউ বলতে দেখা গেছে, আমি যদি কোন ভুল করে থাকি, আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।’

এর আগেও হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে এসে ৭১ টেলিভিশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি বুলবুল আহম্মেদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে আছড়ে ভেঙে ফেলেন। এ সময় তাঁরা গণমাধ্যমকর্মীদের নামে বিষোদগার করতে করতে থানার ভেতর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে ছিলেন তারা।

সোনারগাঁ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) খন্দকার তবিদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সচিব মামুনুল হক সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্ট নামের একটি হোটেলে এক নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার পর ব্যাপক ভাঙচুর করেন তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে দায়ী করে রাতেই উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সোহাগ রনির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালান হেফাজতের কর্মী-সমর্থকেরা।

সূত্রঃ লাইভ নারাআয়নগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin