মানসিক ও মৌখিক নির্যাতন কি?

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

লাঠি এবং পাথর আমার হাড় ভেঙ্গে দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু মুখের কথা দিয়ে কেউ আমাকে আঘাত করতে পারবে না।

এই পুরাতন প্রবাদটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে আসলে ঠিক না। কেউ যদি আপনার সঙ্গে মাত্রাতিরিক্ত চেচাঁমেচি আর রাগারাগি করে, যদি কেউ সবসময়ই আপনার সমালোচনা করতে থাকে, হুমকি দিতে থাকে, আপনাকে ছোট করে দেখে যতক্ষন না আপনার আত্ম-সম্মানবোধ এবং আত্মমর্যাদাবোধ ক্ষুন্ন হয়, তবে তা মানসিক ও মৌখিক নির্যাতন। সবসময় পারিবারিক কলহের মধ্যে থাকাও মানসিক ও মৌখিক নির্যাতন।

মানসিক মৌখিক নির্যাতনের কিছু নমুনা:

 নিয়মিত তুচ্ছ করা, লজ্জা দেওয়া, অপমান করা – অন্য নামে ডাকা, অন্যের সঙ্গে মিথ্যা তুলনা করা – অন্যের কাছে “সে ভাল না”, “তাকে দিয়ে কিছু হবে না”, “খারাপ”, “ওর জন্মটাই ভুল” – চেচাঁমেচি করা, হুমকি দেওয়া, খেপানো – নীচু চোখে দেখা, অবহেলা করা, উত্তর না দেওয়া – এমন কোন কাজ হতে দেখা যা অসহায়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে, যেমন গৃহ নির্যাতন বা ভাই বোন অথবা গৃহপালিত পশুর উপর নির্যাতন।

এই ধরণের আচরণ স্বাভাবিক মনে হতে পারে, কিন্তু এর পরিনাম হতে পারে সাংঘাতিক ভয়াবহ। বাবা মার মানসিক আচরণের জন্য কোন শিশু, কোন উঠতি বয়সি ছেলে মেয়ে অথবা যুবক/যুবতী দায়ী থাকে না।

আপনার তো কোন দোষ নেই!!

যে অপরাধটি আপনি নিজে করেননি, সেটার দোষ এবং লজ্জা আপনি বহন করবেন কেন। আপনি ভুল মানুষের সঙ্গে, ভুল সময়ে, ভুল জায়গায় ছিলেন এবং আপনি অন্য একজনের ভুল-ক্রূটি বা মানসিক অসুস্থতার ক্ষতগুলোকে নিজের কাছে টেনে নিয়েছেন।

কিন্তু আপনি যেটা করতে পারেন তা হল, আপনার নির্যাতনের অভিজ্ঞতার প্রতি কীভাবে সাড়া দেবেন সেটা আপনি নির্ধারণ করতে পারেন। এই নির্যাতনের অভিজ্ঞতা আপনার জীবনকে বিষন্নতা এবং যাতনায় ভরে দিতে পারে, আবার এই নির্যাতনের কারণে যে মর্মান্তিক ও যন্ত্রনাদায়ক অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা আপনাকে দয়ালু, প্রেমী ও সহানুভুতিশীল ব্যক্তি হিসাবে গড়ে তুলতে পারে, যা অন্যকে সহযোগিতা করতে সাহায্য করবে।

একটু একটু করে সামনে এগিয়ে যান, মনে রাখবেন কেউ না কেউ আছেন যারা আপনার চলমান কষ্টের মূহুর্তে সাহায্য করতে পারে। আপনার ভাল বন্ধুরাও আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

যদি বুঝতে পারেন যে, আপনি মৌখিক ও মানসিক কোন নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তবে সেই বিষয়টি কাউকে খুলে বলাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বাসযোগ্য কাউকে খুঁজে নিয়ে আপনার পারিবারিক পরিস্থিতিটি খুলে বলুন। এতে পরিস্থিতিটি কীভাবে মোকাবেলা করতে হবে সেই বিষয়ে একটি ধারণা পেতে পারেন এবং নিজেকে কিভাবে আড়াল করে রাখবেন বা প্রতিকার করবেন সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আপনার পরিস্থিতিটা খুলে বলবার জন্য বিশ্বাসযোগ্য কাউকে যদি খুঁজে না পান, তবে আপনি কোন পরামর্শদাতার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। যদি আপনি তাৎক্ষণিকভাবে কোন বিপদের মধ্যে থাকেন, তাহলে পুলিশের সঙ্গে অতিসত্তর যোগাযোগ করুন ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin