মহাসড়‌কে রণক্ষেত্র বিএনপি-জামাতের হাত: ফেরদাউসুর রহমান

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

হরতাল শেষ হওয়ার পরেও সন্ধ্যা রাতে ধীরে ধীরে যখন গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে । ঠিক তখনই চলন্ত সতের টি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেল। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটালো সেই নিয়ে অন্ধকারে সকলেই। তবে, হরতালের ডাক দেওয়া হেফাজত ইসলাম বলছেন, ‘হতে পারে জামায়েত-শিবির বা বিএনপির কাজ’। এ অবস্থায় পুলিশের প্রতি আহব্বান ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করুন।  

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রতিবাদ ও হেফাজতের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে প্রাণহানির ঘটনায় গত রোববার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়ে ছিল হেফাজতে ইসলাম।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ফজরের নামাজের পর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোড থেকে চিটাগাং রোর্ড পর্যন্ত অন্তত দশটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান নেয় নেতাকর্মীরা। এ সময় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা হরতালের সমর্থনে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েকবার হেফাজত কর্মীদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে বললেও হেফাজত নেতাকর্মীরা মহাসড়ক ছেড়ে যাননি। একপর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টায় সানারপাড় ও সাইনবোর্ড এলাকায় হেফাজত নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশ হরতাল সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে দেড় টিয়ারশেল এবং চার হাজার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় ৬টি কবার্ড ভ্যান, ৮ টি ট্রাকি, ১ প্রাইভেট কারসহ মোট ১৭টি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে গণমাধ্যমের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ শতাধিক যানবাহন। এতে ২জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশত মানুষ আহত হন।

এদিকে, হরতাল শেষ হওয়ার পরেও সন্ধ্যা রাতে ধীরে ধীরে যখন গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হচ্ছে । ঠিক তখনই চলন্ত তিন টি গাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেল। কে বা কারা এই ঘটনা ঘটালো সেই নিয়ে অন্ধকারে সকলেই।

হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,  ‘আমরা প্রশাসনকে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনের প্রতিশ্রুতি দেই। সে প্রতিশ্রুতি অনুযায়, কাজও করছিলাম। কিন্তু দুপুর বারটার দিকে মুঠোফোনে খবর আসে, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হচ্ছে। অনুপ্রেবেশ কারি কিছু লোক, আমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে।  অপ্রিতিকর কিছু ঘটলে আমাদের বদনাম হবে ভেবে আমরা নির্দেশনা দিলাম, জোহরের নামাজ পড়ে স্থান ত্যাগ করতে। কিন্তু মোনাজাতের পরেও আমাদের কিছু লোকজন সেখানে ছিল। তারপর আমি নিজে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেই। এখানে অবশ্যই হেফাজতের কোন সংম্পৃক্ততা নেই। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবেই হরতাল পালন করেছি। তবে, আমাদের সাথে কিছু বহিরাগতরা মিশে এই রণক্ষেত্র তৈরি করেছেন, তারা হতে পারে জামায়েত-শিবির বা বিএনপি।  প্রশাসনকেও বলেছি, আপনারা ভিডিও ফুটেজ গুলো দেখে, বিশৃঙ্খলাকারীদেরকে চিহ্নিত করুন।’

এদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমান জানান, থানায় একের পর এক অভিযোগ আসছে। আমরা সকল অভিযোগই গ্রহণ করছি। তবে, এখনও কারো অভিযোগ মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটকও করেনি।

সূত্রঃ লাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin