মসজিদ ট্রাজেডিঃ শরীরে আগুন তবুও অন্যদের বাঁচাতে চেয়েছিল সেই সিফাতও না ফেরার দেশে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মোহাম্মদ সিফাত (১৮) এর মৃত্যু হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে এ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৪ জনে।

সিফাতের শরীরের ২২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার শ্বাসনালীও পুড়ে গিয়েছিল। তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।

ঘটনার দিন অন্যান্যদের সাথে নারায়ণগঞ্জে মসজিদের বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় কিশোর সিফাতও। তবে তার গল্পটা অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। পোড়া দেহ নিয়ে সে রাতে সবাই দিকবিদিক ছুটছিলো নিজেকে বাঁচাতে, আর সিফাত নিজের কথা ভুলে মসজিদের দগ্ধদের বাঁচাতে চেষ্টা করে।

প্রাণের ভাইটা যদি সেদিন ঐ ২৫ মিনিট দেরি না করে সরাসরি হাসপাতালে যেত, তাহলে হয়তো তাকে আইসিউতে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হতো না। কয়েকদিন আগে শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটের আইসিইউর সামনে বসে এমন আক্ষেপের কথা বলছিলেন সিফাতের বড় ভাই।

সিফাতের ভাই বলেন, প্রায় ২৫ মিনিট দগ্ধ হয়েই সবাইকে ডেকেছে আর বলেছে মুসল্লিদের বাঁচান। তখন সেরকম না করে যদি হাসপাতালে আসত, তাহলে হয়ত সুস্থই থাকত।

৪ সেপ্টেম্বর বিস্ফোরণের পর ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১জনের মৃত্যু ঘটেছিল। তখন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি ছিল ৫ জন।তাদের মধ্যে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে মারা যান অগ্নিদগ্ধ আব্দুল আজিজ (৪০)। আজিজের দেহের ৪৭ শতাংশ পুড়েছিল।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের আব্দুর রহমানের ছেলে ফরিদ (৫৫) মারা যান। ফরিদের (৫৫) দেহের ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। দুজনের শ্বাসনালীও পুড়ে যাওয়ায় অবস্থা সঙ্কটাপন্ন ছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন।

১০ সেপ্টেম্বর সকালে আবদুস সাত্তার (৪০) মারা যান। তার ৭০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। বিকালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শেখ ফরিদ (২১)। এছাড়া নজরুল ইসলাম (৫০) নামের একজনের মৃত্যু ঘটে। তার শরীর ৯৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থেকে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারী আবদুল হান্নান (৫০) নামে মারা যান। তার ৮৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

সূত্রঃনিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin