মফিজ ভাইকে কম অপমান করেন নাই: খোকন সাহা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

‘মফিজ ভাই আমাকে সাহস দিয়েছিলেন আমার খারাপ সময়ে। ২০০১ সালে বোমা হামলার পরে আমাদের মাঠে ফিরে রাজনীতি করার অনেক অবদান মফিজ সাহেবের। তাকে ভুলা সম্ভব না। আমাদের নেতা জ্জোহা সাহেবের মৃত্যুর পর উনাকে স্বাধীনতা পদক দেয়া হয়েছিলো। তখন তার সুযোগ্য সন্তানরা বলেছিলেন, যেহেতু মফিজ চাচা আমার বাবার একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন, তাই এই পদক তিনিই আনতে যাবেন। তখন মফিজ সাহেব ওসমান পরিবারের পক্ষ থেকে উনি পদকটি গ্রহন করেছিলেন। আজকে যারা আওয়ামী লীগের বড় বড় পদে আছে, সরকারি সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন, তারা আকার ইঙ্গিতে মফিজ ভাইকে কম অপমান করেন নাই। প্রতিবাদ করেছি আমরা’।

১৩ ফেব্রুয়ারী ( শনিবার ) আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল ইসলামের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপরোক্ত কথা বলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট খোকন সাহা।

এ্যাডভোকেট খোকন সাহা আরও বলেন, ‘নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ এটার জলন্ত প্রমান মফিজ ভাই। ১৯৭৮ সাল দলের দুর্দিন ,তখন আমরা ছিলাম ছাত্রলীগের কর্মী। এই শহরে সব থেকে সৎ নেতা হলো আমাদের শামসুজ্জোহা সাহেব, উনার একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন মফিজ সাহেব। সবাই তাকে চাচা বললেও আমি ভাই বলতাম। প্রায় ৪৩ বছর আগের ঘটনা। আওয়ামী লীগের কমিটি হবে আমরা ধরেই নিয়েছিলাম মফিজ সাহেব সভাপতি হবেন আর নাজিম ভাই সেক্রেটারি হবে। সেদিন আমাদের নেতা শামসুজ্জোহা সাহেবের একনিষ্ঠ কর্মী মফিজ সাহেব কে বাদ নিয়ে , আলী আহমেদ চুনকা সাহেবকে সভাপতি ও নাজিম ভাইকে সাধারণ সম্পাদক আর মফিজ সাহেবকে সিনিয়র সহ সভাপতি বানালেন। মফিজ সাহেব কোনো প্রতিবাদ না করে নেতার সিদ্ধান্ত মেনে নিলেন। আসলে নেতার প্রতি কিভাবে আনুগত্য করতে হয় সেটা মফিজ সাহেব জানতেন। মফিজ সাহেবকে রাজনীতির মাঠে অনেকদিন পাওয়া যায়নি, প্রায় ২-৩ বছর। তারপর জ্জোহা ভাই তাকে ডেকে এনে আবার রাজনীতি এক্টিভ করে। এটাই আজ ইতিহাস, উনি উনার প্রিয় কর্মীকে বাদ দিয়ে আরেকজন কে নেতা বানিয়েছিলেন। মফিজ সাহেবের ভুমিকা সব সময় ছিলো, সেটা এরশাদ বিরোধী আন্দোলন হোক বা খালেদা জিয়া বিরোধী’।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘২০০১ সালের পরে আমি তখন সিটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, মামলা হামলা জর্জরিত, উনি তখন গেলেন আমার বাড়ীতে, বাড়ী তালা দেয়া ছিলো কেউ বাড়ীতে থাকতে পারি নাই, মোবাইল নাম্বার চেঞ্জ করতে হইছে। তখন মফিজ ভাই আমাকে খোজঁ করে বের করলেন আমার নতুন নাম্বার। উনি গিয়েছিলেন নেত্রীর সাথে দেখা করতে। তখন আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন খোকন তোমার বাসায় আসছি ইফতার করতে। আমার ওয়াইফ খুব অবাক হয়েছিলেন, এতো বড় নেতা আমার বাসায় আসবে’।

এ্যাডভোকেট খোকন সাহা আরও বলেন, ‘সম্ভবত ২০০৬ সালে কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ আসবেন আকরাম সাহেব দেশে নাই, মফিজ সাহেব কেনো সভাপতিত্ব করবেন। আজকে তাদের নাম বললাম না, নাম বললে দলের কোন্দল বেড়ে যাবে। এরপরও মফিজ ভাই কোনো প্রতিবাদ করে নাই। এই সহজ সরল মানুষটাকে কম টানা হেচড়া করে নাই। অবশ্য আরো করতেন কিন্তু আমাদের মতো কর্মীরা আছে বলে করে নাই। আজকে অনেকে মায়া কান্না করেন, কিন্তু অপারেশন ক্লিন হার্টের সময় তাকে ধরে নিয়ে গেছিলো, সেখানে বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়ার হয়তো মায়া লাগছে তাই বাসায় গিয়ে পৌঁছে দিছে। যাই হোক আমি মফিজ ভাইয়ের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি, আমি তার পরিবারের প্রতি মফিজন ভাইয়ের একজন কর্মী হিসেবে পাশে থাকতে চাই’।

সূত্রঃ লাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin