বৃহত্তর মাসদাইরে নেই কোন খেলার মাঠ, বিপথে যাচ্ছে তরুণ সমাজ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

মোঃ রাসেল

বৃহত্তর মাসদাইরে নেই কোন খেলার মাঠ, বিপথে যাচ্ছে তরুন সমাজ বলছি আমাদের শৈশব-কৈশোরের কথা।খেলাধুলার প্রতি দারুন ঝোক থাকায় নিয়মিত সত্য আড়াল করা কতইনা মজার ছিলো।স্কুল-কোচিং ফাঁকি দিয়ে ক্রিকেট খেলতে যাওয়া। ডাবগাছের ডাল কেটে ব্যাট বানিয়ে মাঠে-ঘাটে চষে বেড়ানো।ঘুড়ি ওড়ানো, বাগেট্টা লোট বলে বলে ঘুড়ির পেছনে দৌড়ানো,বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে রাতে ব্যাডমিন্টন খেলা,মার্বেল,লাটিম খেলা,সারাদিন পুকুরে ডুবিয়ে চোখ লাল করা,পাখি শিকার করতে গুলতি বানানো,দল বেঁধে নদীতে ঝাপিয়ে পড়া -কত কিছুই না করেছি আমরা। মাঠের অভাববোধ করিনি।

আজকের এই যান্ত্রিক নগরায়নের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে নিজেকে মেলে ধরতে দশ গজ খোলা জায়গাও পাবো না, তা অকল্পনীয় ছিলো।যেখানে বিকেল হলেই মাঠে দৌড় লাগাতাম,এখন তা শুধুই কল্পনা। বর্তমান একটি খেলার মাঠও নেই বৃহত্তর মাসদাইর এলাকায়। নগরায়নের ফলে আমরা নাগরিক হচ্ছি,বেড়ে উঠছি তবে আদৌ সুনাগরিক হয়ে বেড়ে ওঠা সন্দেহের গহব্বরে থেকে যাচ্ছে। কৈশোর জীবনে কম বেশি সকলেরই খেলাধুলার উপর দারুন ঝোক থাকলেও বৃহত্তর মাসদাইর এলাকায় নেই একটি খেলার মাঠ। ফলে আগ্রহ অনুযায়ী ছেলেরা খেলাধুলা করা,সুস্থ বিনোদনের সুযোগ পাচ্ছে কি না তা আমাদের এলাকার অভিভাবকদের ভাবতে হবে।

বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার কোন বিকল্প আছে বলে মনে হয় না। বর্তমান সমাজের বা পারিবারিক জীবনে একরকম যান্ত্রিক রুটিন,বাইরে মেলামেশা করলে ছেলে নষ্ট হয়ে যাবে,বকে যাবে ধারণার মাঝে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বড় হতে হচ্ছে ফ্ল্যাট বাসার গন্ডিতে মোবাইল ফোন,ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের সাথে। ফলে তাদের বাইরে যেতে দেওয়া হয় না। অন্যদিকে খেলার মাঠ বলতে যে খোলামেলা জায়গা ছিলো তা এখন বানিজ্যিক ভবন নির্মান ও শিল্প কারখানা তৈরি করা হয়েছে। কৈশোরের একমাত্র বিনোদনের সুযোগ খেলার মাঠ গুলো দিনে দিনে বানিজ্যিক শিল্পকারখানা, বাসাবাড়িতে দখল হয়ে এখন শুন্যে। বর্তমান আমাদের এই সমাজে অপরাধ প্রবণতার অন্যতম প্রধান কারণ খেলার মাঠের শূন্যতা।আমাদের সমাজব্যবস্থা ও অপরিকল্পিত নগররায়ন এদিকে মুখ্য ভুমিকা পালন করে চলেছে।

এমনকি বৃহত্তর মাসদাইর এলাকায় অনেকগুলো স্কুল থাকলেও তাঁদের নিজস্ব কোন খেলার মাঠ নেই যে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ হয়। ফলে তাঁদের পড়াশোনার বাইরে অবসর কাটে প্রযুক্তিগত যন্ত্রের সাথে গেমস খেলা,ভিডিও দেখা,গান-বাজনা শোনায়। শারীরিক ও মানসিক উভয়দিক থেকে বিপর্যয়ের দিকে ধাবমান বর্তমান এই কিশোর সমাজ। বিরক্তিকর এই জীবনের অবসাদ থেকে মুক্তির পথ হিসেবে তারা বেছে নেয় দল বেঁধে সিগারেট খাওয়া,নেশাদ্রব্য সেবন করা,স্কুল পালিয়ে ছেলেমেয়ে একসাথে ঘুরে বেড়ানো,পিকনিকের নামে নিরুদ্দেশ হওয়া,চুরি করা,সিনেমায় যাওয়া।

এছাড়াও বর্তমানে হত্য,ধর্ষণ, ছিনতাই,পকেটমার, মাদক সেবন,ইভটিজিং,যখন তখন দলাদলি মারামারি, নোংরা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মিছিল মিটিং এসবই তাদের কাজ হয়ে দাড়িয়েছে। অথচ জাতির ভবিষ্যৎ অগ্রগতির পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন একটা সময় এই কিশোরদের কাঁধে ভর করেই পথ চলার কথা। অথচ তাঁদের এই অবস্থা থেকে আশা করা যাবে এমন কোনো উন্নয়নমুলক কাজ শুধুই আকাশ-কুসুম কল্পনা হয়ে দাড়িয়েছে।

মাসদাইর-এর সকল অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি বিশেষ বিবেচনা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রতিটি স্কুলে খেলার মাঠ থাকা জরুরি, মহল্লায় খেলার মাঠ থাকা জরুরি। শিশু-কিশোর সুস্থ বিনোদনের সুযোগ না পেলে অসদুপায় অবলম্বন করবে এটাই স্বাভাবিক। তাঁদের এই বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে একটি সুন্দর বিনোদনের সুযোগ হিসেবে বৃহত্তর মাসদাইর-এ একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করার আবেদন করা হলো। অন্যথায় ভবিষ্যতে প্রজন্মের গন্তব্য অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রতীয়মান।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin