বুলেট ট্রেনের নারায়ণগঞ্জ ষ্টেশন হবে জালকুড়িতে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বসত-বাড়ি ভেঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেনের নারায়ণগঞ্জ ডিপো ও ষ্টেশন হবে; এমন শঙ্কা থেকে ২০১৯ সালের জুনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিল সিদ্ধিরগঞ্জের তাঁতখানা ও আশপাশের ৫টি এলাকার মানুষ। তবে তাঁতখানা নয়, ষ্টেশনটি হবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নম পার্কের পশ্চিম পাশে। যাচাই বাছাই শেষে এরই মধ্যে ওই এলাকার বেশ কিছু জমি ষ্টেশনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) চূড়ান্ত করা ম্যাপটি নিয়ে ওই এলাকায় কাজে নেমেছেন ডিপিডিসি। কোন কোন বৈধুতিক খুটি সড়াতে হবে, সেই হিসেবেই চূড়ান্ত করছিলেন তাঁরা।

ডিপিডিসির কর্মকর্তারা জানান, ‘মজুমদার এন্টারপ্রাইজ থেকে ওই নকশাটি দেওয়া হয়েছে তাদের।

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হচ্ছে ১১০ কোটি টাকা। চীনের ‘চায়না রেলওয়ে ডিজাইন করপোরেশন’ (সিডিআরসি) ও বাংলাদেশের ‘মজুমদার এন্টারপ্রাইজ’ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ করছে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। এতে হাইস্পিড রেলপথের জন্য সম্ভাব্য চারটি গতিপথ নির্ধারণ করা হয়। ২২৭ দশমিক ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা-ফেনী-চট্টগ্রাম’কে রাখা হয় ‘অপশন ১’ হিসেবে। ‘অপশন ২’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ২৩৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা-লাকসাম-ফেনী-চট্টগ্রাম’কে। ‘অপশন ৩’-এ রাখা হয় ২২২ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-বাগমারা-ফেনী-চট্টগ্রাম’কে। আর ‘অপশন ৪’ হিসেবে রাখা হয় ২২০ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ‘ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-লাকসাম-ফেনী-চট্টগ্রাম’কে।

এ চার গতিপথের মধ্যে প্রথমটিতে (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-কুমিল্লা-ফেনী-চট্টগ্রাম) হাইস্পিড রেলপথ নির্মাণের সুপারিশ করেন পরামর্শকরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গতিপথটি অনুমোদন করেছেন। রেলপথটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৪০ কোটি ডলার। বর্তমান বিনিময় হারে (প্রতি ডলারে ৮৪ টাকা ৮৭ পয়সা) এর পরিমাণ ৯৬ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এ বিনিয়োগের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (এফআইআরআর) ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর ইকোনমিক ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (ইআইআরআর) ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ১৮ শতাংশ।

সম্প্রতি প্রকল্পটির স্টিয়ারিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ১৫ অক্টোবর দাখিল করা হয় ডিটেইল ডিজাইন ফেজের ইন্সপেকশন রিপোর্ট। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ইন্টেরিম রিপোর্ট-১ ও ১৭ মে দাখিল করা হয় ইন্টেরিম রিপোর্ট-২। বর্তমানে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রেলপথটির চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নের কাজ করছে বলে সভাকে অবহিত করেন প্রকল্প পরিচালক কামরুল আহসান। তিনি জানান, চূড়ান্ত নকশার খসড়া শিগগিরই প্রকল্প কার্যালয়ে দাখিল করা হবে।

গত বছরের মার্চে শেষ করার কথা থাকলেও এখনো প্রকল্পটি শেষ করতে পারেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। এজন্য চলমান করোনা পরিস্থিতির ওপর দায় চাপিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, করোনা মহামারীর কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রকল্পের পরামর্শক সেবার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে পরামর্শক সেবার চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশে এখনো নভেল করোনাভাইরাস মহামারী অব্যাহত থাকায় প্রকল্পের বিদেশী পরামর্শকরা বাংলাদেশে আসতে পারছে না। এ কারণেও প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

পরামর্শকদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পটি শেষ করার মেয়াদও। ২০১৯ সালের মার্চ থেকে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত।

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিশদ ডিজাইন’ প্রকল্পটি অর্থ বিভাগের এক পরিপত্রে মধ্যম অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষা প্রকল্প। পরামর্শক সেবার কাজ যথাসময়ে শেষ করার জন্য প্রকল্পটিকে মধ্যম অগ্রাধিকার থেকে উচ্চ অগ্রাধিকারভুক্ত করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তারা।

সূত্রঃলাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin