বিভক্তিতে মহানগর যুবদল

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির অন্যতম সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২৭ অক্টোবর। ১৯৭৮ সালের এই দিনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

সংগঠটির গঠনতন্ত্রে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, মানবকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে প্রত্যেক স্তরে সৎ, মেধাবী ও নিঃস্বার্থ যুবকদের সমন্বয়ে আদর্শবান নেতৃত্ব গড়ে তোলা।

তবে পতিষ্ঠাবার্ষিকী এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বর্তমানে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদল। নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের বর্তমান কমিটি গঠনের পর থেকেই দুইভাগে বিভক্ত হয়ে কর্মসূচি পালন করছে। প্রথম দিকে তাদের মধ্যে বিরোধ কম থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তারা একে অপরের সাথে ঘোর বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদা আলাদা গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।

সূত্র বলছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে সভাপতি, মনতাজ উদ্দিন মন্তুকে সাধারণ সম্পাদক, মনোয়ার হোসেন শোখনকে সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন শোখন, সাগর প্রধানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রশিদুর রহমান রশোকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ৫ মাস পর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে এখনও তাদের অধীনে থাকা থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়নি।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে মহানগর যুবদলের অধীনে থাকা থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই কমিটি গঠন নিয়েই নেতাকর্মীদের মাঝে বিপত্তি ঘটতে শুরু করছে। মহানগরের অধীনে থাকা সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কমিটি কমিটি গঠন নিয়ে সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তু চাচ্ছেন তিনি নিজে আহবায়ক হতে। কিন্তু সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ চাচ্ছেন অন্য কাউকে এখানে আহবায়ক করতে।

আর এটা মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তু। তিনি আলাদাভাবে পথ হাটতে শুরু করেছেন। প্রথমদিকে সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনতাজ উদ্দিন মন্তু এক কাতারে ও এক মঞ্চে থাকলেও এখন আর তাদেরকে একসাথে দেখা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। মনতাজ উদ্দিন মন্তু এখন খোরশেদের সাথে না গিয়ে কমিটি গঠনের প্রথম থেকেই বিপরীতে থাকা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর প্রধানের সাথে মিলে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনার করছেন।

এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সুপার ফাইভের শীর্ষ ৫ নেতার সঙ্গে কমিটি গঠনের বিষয়ে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় যুবদল। বন্দর, সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের কমিটি গঠনে খসড়ায় গড়মিল থাকায় পূণরায় কমিটি গঠনের জন্য নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দেন। কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশ প্রতিটি থানা এলাকার যুবদল নেতাদের তথ্য সংগ্রহ করে কেন্দ্রে জমা দিতে হবে। তারপর কমিটি গঠন করা হবে। সেজন্য সুপার ফাইভের নেতাদের নিয়ে প্রতিটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহ ফরম বিতরণের জন্য মহানগর যুবদলের হাতে ফরম তুলে দেয় কেন্দ্রীয় যুবদল।

ওই বৈঠকে মহানগর যুবদলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে বেশ তোপের মুখে পড়েন খোরশেদ। ওইদিন কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে মহানগর যুবদলের তিন নেতা জানান, করোনাকালে মহানগর যুবদলের ব্যানারে খোরশেদ একটি কর্মসূচিও পালন করেননি। তিনি টিম খোরশেদ নামে ব্যক্তি প্রচারনায় ব্যস্ত ছিলেন। দীর্ঘ ৫টি মাস তিনি করোনাকালে কাজ করলেও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামটিও মুখে নেননি। আর এসকল বিষয় মিলিয়ে বর্তমানে কিছুটা চাপের মুখে রয়েছেন মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।

তবে মহানগর যুবদলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, আমাদের মাঝে ব্যক্তিগত কোনো মতবিরোধ নেই। মতবিরোধ হচ্ছে সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে। যদি সকলেই দলীয় নীতির মধ্যে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমাদের মাঝে কোনো মতবিরোধ থাকবে না। আবারও সকলেই একমঞ্চে ফিরে আসবে।

সূত্রঃনিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin