বাড়ছে শঙ্কা নিভছে আশার আলো

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিত তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিষ্ফোরণের ঘটনায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ৬ জনের মধ্যে মামুন নামের একজনকে রিলিজ করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা বাকি ৫ জন বেশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে। এভাবে একের পর এক লাশের মিছিলে সংখ্যা শুধু বেড়ে চলেছে। দগ্ধদের সবাই একে একে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। যদিও দুদিন আগে আহত মামুনকে রিলিজ করে দেয়া হলে বাকি দগ্ধদের মাঝে আশার আলো জেগে ওঠে। এরই মধ্যে ১০ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যুতে বাকি আহতদের স্বজনদের চোখের কোনে জমে থাকা কান্না ফের অঝোরে ঝরছে। বাড়ছে শঙ্কা নিভছে আশার আলো।


এখনো আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন ময়মনসিংহের ত্রিশালের আব্দুর রহমানের ছেলে ফরিদ (৫৫), পটুয়াখালীর চুন্নু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ কেনান (২৪), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নিউখানপুর ব্যাংক কলোনির আনোয়ার হোসেনের ছেলে রিফাত (১৮), শরীয়তপুরের নড়িয়া কেদারপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে আব্দুল আজিজ (৪০), নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসিরহাট গ্রামের আবদুল আহাদের ছেলে আমজাদ (৩৭)।

মসজিদ বিষ্ফোরনের ঘটনায় মোট ৩৭ জনকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ণ ইন্সিটিটিউটে ভর্তি করা হয়। দগ্ধদের সবাই একে একে বাড়ি ফিরে আসেন তবে জীবিত নয় লাশ হয়ে। সেই সংখ্যা প্রথমে বাড়তে বাড়তে ২৮ এ গিয়ে ঠেকে। এর মধ্যে আশার আলো জাগিয়ে দগ্ধদের মধ্যে থাকা মামুন তার শরীরের ১২ শতাংশ পোড়া নিয়ে হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়ে যায়। এতে করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বাকি ৮ জনের স্বজনদের চোখে মুখে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা যায়। মামুনের মত তাদের স্বজনরাও বাড়ি ফিরে আসবে সেই প্রতিক্ষায় স্বজনদের অপেক্ষার প্রহর যেন কাটছিলনা। অনেকে এর মধ্যে নানা ধরণের মানতও করে রেখেছেন।

আর প্রার্থনায় চোখ পানিতে ভিজে যায় জায়নামাজ। তবুও যেন প্রতিক্ষার প্রহত কাটছিলনা। দুই দিন এভাবেই কাটে আহতদের স্বজনদের। এর মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে আব্দুল সাত্তার (৪০) এর মৃত্যু হয়। এতে করে বাকি স্বজনদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দেয়। আশার আলোতে উল্টো অন্ধকার নেমে আছে। ওই দিন বিকেলে আরো দুজন মৃত্যুবরণ করেন। নজরুল ইসলাম ও শেখ ফরিদ নামে দুজনের মৃত্যুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১। এতে করে বাকি আহত ৫ জনের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

আবারো সেই মৃত্যুর শঙ্কায় প্রহর গুণছে স্বজনরা। আশার আলো উঁকি দিয়ে ফের ঝড় নেমে এসেছে। চোখের কোনে জমে থাকা কান্না ফের অঝোরে ঝরছে। ৬ দিনে কারো কারো শুকিয়ে যাওয়া কান্না ফের মাতমে পরিণত হয়েছে। কেউ কেউ ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে।

আহতদের স্বজনরা বলছেন, এই কান্না শেষ হবার নয়। বিষ্ফোরণের দিন থেকে এখন পর্যন্ত চলছে। প্রিয়জনকে সুস্থ্য করে ঘরে ফিরিয়ে দেয়ার দোয়ায় সবাই ব্যস্ত। সবাই সৃষ্টিকর্তার কাছে একটি দোয়া করছে। তাদের যেন জীবিত ফিরে পাই। মামুনের মত তারাও আমাদের মাঝে ফিরে আসুক।

সূত্র:নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin