বাংলাদেশে নতুন ৩০ ধরনের করোনাভাইরাসের সন্ধান

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ছয় ধরনের পরিবর্তিত করোনাভাইরাস বিশ্বের কোথায়ও নেই। এছাড়া অন্য ২৪টি বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নতুন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সিলেট বিভাগে সংক্রমণ হওয়া নভেল করোনাভাইরাসের জিন বিন্যাস (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের গবেষণায় দুইটি ভাইরাসের জিনোমে নতুন একটি মিউটেশন পাওয়া গেছে- যা বিশ্বের অন্যান্য স্থানের ভাইরাসের মিউটেশন থেকে একেবারে ভিন্ন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সভাকক্ষে মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে জিইবি বিভাগের গবেষণা দলের পক্ষ থেকে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। 

জিইবি বিভাগের প্রভাষক নূর নবী আজাদ জুয়েল স্লাইডের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, গবেষণায় ভাইরাসের জিনোম কাঠামোতে মোট ৭৯টি মিউটেশেন পাওয়া যায়। প্রোটিন লেভেলে পাওয়া যায় মোট ৪৭টি মিউটেশন-যাতে ১টির সাথে একমাত্র যুক্তরাজ্য (ইউকে)-এর মিউটেন্টের মিল রয়েছে। তবে তা বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আলোচিত মিউটেন্ট এর সাথে কোনো মিল নেই। 

তিনি বলেন, “সিলেট বিভাগে নতুন ৩০ ধরনের পরিবর্তিত করোনাভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্য ৬টি পরিবর্তিত করোনাভাইরাস পূর্বে বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি এবং ২৪টি বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একেবারে নতুন তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে রয়েছে।”

গবেষক দলটি গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সিলেটের চারটি জেলা থেকে ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে জিন বিন্যাস (জিনোম সিকুয়েন্স) উন্মোচন করেন। এর মধ্যে ১০টি নমুনা (সুনামগঞ্জ-৫ এবং হবিগঞ্জ-৫) সম্প্রতি গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটাবেইজ -এ জমা দেওয়া হয় এবং সংস্থাটি তা গত ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশ করে। 

গবেষণা দলটি জানায়, ভাইরাসটি প্রতিনিয়ত মিউটেশনের মাধ্যমে ধরন পরিবর্তন করছে। ফলে টিকা কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ ভাইরাসের গবেষণা অব্যাহত থাকবে বলে জিইবি গবেষণা দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ সময় ভিসি প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “শিক্ষকদের এ গবেষণায় আমরা গর্বিত। করোনাভাইরাসে সংক্রমণের শুরু থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের মানুষের পাশে ছিল এবং আমাদের কাজ অব্যাহত থাকবে। করোনা সনাক্তকরণ কার্যক্রমের যাতে ব্যাঘাত না হয় সেজন্য আরও একটি মেশিন ক্রয় করা হয়েছে এবং জিনোম সিকোয়েন্সের জন্য নতুন মেশিন ক্রয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

ভাইস চ্যান্সেলর আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষা দান নয়; বরং গবেষণার মাধ্যমে মানবতার কল্যাণে কাজ করা আমাদের দায়িত্ব। এসব বিষয় লক্ষ্য রেখেই গবেষণা খাতে এবার সাত গুণের বেশি বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম, স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেসের ডিন প্রফেসর ড. এসএম আবু সায়েম এবং জিইবি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. শামসুল হক প্রধান বক্তব্য রাখেন। 

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে ১ কোটির অধিক টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাভবন ‘ই’ এর ২২৫ নম্বর কক্ষে করোনাভাইরাস শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার পিসিআর ল্যাব উদ্বোধন করা হয়। এ ল্যাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও একদল গবেষক নমুনা থেকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ ও গবেষণা চালিয়ে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব থেকে প্রায় সাড়ে ৩৭ হাজার করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ১৬ জন সেখানে কাজ করছেন বলে জানান নূর নবী আজাদ জুয়েল।

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবউন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin