বাংলাদেশে গাড়ির ট্যাক্স কিভাবে ধরা হয়?

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নিজের একটি গাড়ির স্বপ্ন সবারই থাকে। স্বপ্নের সঙ্গে সাধ্যের যোগসূত্র ঘটাতে নতুন গাড়ির বদলে পুরোনো গাড়িতেই চোখ ফেলতে হয়। কেননা পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম নতুনটির চেয়ে বেশ কম। গাড়ির দাম কমার পেছনে ‘কৃতিত্ব’ বিদ্যমান শুল্কব্যবস্থার। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্ক আরোপের সময় মূল দাম বা ট্যারিফ মূল্য নতুন গাড়ির চেয়ে কিছুটা কমিয়ে ধরা হয়। এটাই দামের ব্যবধান গড়ে দেয়।

বাংলাদেশে নতুন ও পুরোনো—দুই ধরনের গাড়ি বেচাকেনা হয়। দুই ধরনের গাড়ির ওপর একই হারে শুল্ক-কর বসে। আমদানি মূল্য বা ট্যারিফ মূল্যের ওপর শুল্ক-কর বসে। আমদানিকারক যে দামে আমদানি করবেন, সেটা চূড়ান্ত নয়। তিনি কম কিংবা বেশি দামে আমদানি করতে পারেন। আন্তর্জাতিক বাজারদর যাচাই–বাছাই করে ট্যারিফ মূল্য করেন শুল্ক কর্মকর্তা।

তবে পুরোনো গাড়ি বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি যেহেতু আগে কিছুদিন ব্যবহৃত হয়েছে; তাই এর ইঞ্জিনের জীবনচক্রও কিছু কম থাকে। তাই আমদানি করে বাংলাদেশে বন্দরে আনার সঙ্গে সঙ্গে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ট্যারিফ মূল্য কমিয়ে ধরা হয়। বাংলাদেশে পাঁচ বছর পর্যন্ত পুরোনো রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি করা হয়।

তবে নতুন গাড়ির ট্যারিফ মূল্য কমানো হয় না। গাড়ির ইঞ্জিনের সিসিভেদে (সিসি বেশি হলে ইঞ্জিনের ক্ষমতা বেশি হয়) সম্পূরক শুল্ক কমবেশি হয়। বেশি সিসিতে বেশি সম্পূরক শুল্ক; কম সিসিতে কম সম্পূরক শুল্ক।

নতুন ও পুরোনো—দুই ধরনের গাড়ির ট্যারিফ মূল্যের ওপরেই ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, সিসিভেদে সম্পূরক শুল্ক (১৫ থেকে ৫০০ শতাংশ), ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক), ৫ শতাংশ অগ্রিম কর, ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, ৪ শতাংশ অগ্রিম ব্যবসায় মূসক (এটিভি) দিতে হয়।

সম্পূরক শুল্ক বসে ট্যারিফ মূল্য ও আমদানি শুল্কের যোগফলের ওপর। বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক বেশি হওয়ায় তা গাড়ির দাম বাড়িয়ে দেয়। অনেক সময় ট্যারিফ মূল্যের চার-পাঁচ গুণ হয়ে যায় বাজারদর। এ ক্ষেত্রে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি প্রতিযোগিতায় কিছুটা এগিয়ে থাকে। রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণের কৌশলটি হলো, গাড়ি বেশি পুরোনো হলে ট্যারিফ মূল্য বেশি কমবে।

বছরওয়ারি অবচয়ন সুবিধা দিয়ে ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাস থেকে এক বছরের জন্য ১৫ শতাংশ, এক থেকে দুই বছরের জন্য ২৫ শতাংশ, দুই থেকে তিন বছরের জন্য ৩৫ শতাংশ, তিন থেকে চার বছরের জন্য ৪০ শতাংশ এবং চার থেকে পাঁচ বছরের জন্য ৪৫ শতাংশ অবচয়ন সুবিধা পাওয়া যায়।

উদাহরণ হলো, আমদানি করা তিন বছরের পুরোনো রিকন্ডিশন্ড গাড়ি যদি ১০০ টাকা দিয়ে আমদানি করা হয়, তবে ট্যারিফ মূল্য নির্ধারণ করতে হলে আমদানি মূল্য থেকে ৩৫ শতাংশ বাদ দিতে হবে। সেই হিসাবে ওই গাড়ির ট্যারিফ মূল্য হবে ৬৫ টাকা আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্কসহ অন্যান্য শুল্ক-কর বসবে ৬৫ টাকা ধরে। এ কারণেই রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীরা কম দামে বিক্রি করতে পারেন। দামের প্রতিযোগিতায় তাঁরা এভাবেই এড়িয়ে যান।

সম্পূরক শুল্ক হার: ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির ওপর ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসে। তবে হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে এ হার ৩০ শতাংশ। ১৫০১ থেকে ২০০০ সিসি পর্যন্ত ১০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক; হাইব্রিড গাড়িতে এ হার ৬০ শতাংশ। ২০০১ থেকে ২৭৫০ সিসি পর্যন্ত ২০০ শতাংশ এবং হাইব্রিড গাড়িতে ১৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসবে।

২৭৫১ থেকে ৪০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়িতে ৩৫০ শতাংশ এবং হাইব্রিড গাড়িতে ৩০০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ হবে। ৪০০০ সিসির বেশি সব ধরনের গাড়ির ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫০০ শতাংশ। এদিকে দেশি মোটরসাইকেল নির্মাতা ও সংযোজন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড় রয়েছে। বিযুক্ত অবস্থায় আনা মোটরসাইকেলে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ।

তথ্যসূত্র: প্রথমআলো ডটকম

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin