বন্ধ হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ- মুন্সিগঞ্জ রুটের একমাত্র সি ট্রাকটি

শেয়ার করুণ

গত ৪ দিন ধরে বন্ধ আছে মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌপথের একমাত্র চলাচলকারী এ. এস. টি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত নামের সি ট্রাক।

ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে আছে নৌযানটি। এর ফলে এ নৌ পথে যাত্রী পারাপার বন্ধ আছে। যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। কবে নাগাদ ঠিক হবে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি।

জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌপথে ১৯ দিন চলাচল করার পর বন্ধ আছে সি ট্রাক। গত ২০ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে। এর চার দিন পর নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ রুটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সি-ট্রাক চালু করে। ২০০ যাত্রী ধারণক্ষমতার এই সি ট্রাক ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলাচল করছিল। ভাড়া নির্ধারণ করা হয় জনপ্রতি ৪০ টাকা।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ বন্দরের বার্দিং সারেং মো. মোখলেছুর রহমান ‘ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সি ট্রাকের ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যার কারণে গত ৪ দিন যাবত এ নৌপথে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। অন্য কোন লঞ্চও এসে যুক্ত হয়নি। গতকালও সি ট্রাক এ নৌপথে চলাচল করেনি। নতুন লঞ্চ এ নৌপথে চলাচলের ব্যাপারে গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।

বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ নৌপথে সানকেন ডেকের লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। চলাচলকারী একটি সি ট্রাকের সাথে আরও কয়েকটি লঞ্চ চালুর পরিকল্পনা আছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে ৪ টি লঞ্চ চালু হতে পারে। এগুলো হলো- এমভি আরিফ, সোনারতরী ৫, শম্পা, রেড-৭। বর্তমানে যাত্রীদের চাপ নেই। ঈদের কিছুদিন আগে যাত্রী চাপ বাড়তে পারে।

মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটের ইজারাদার দিল মোহাম্মদ কোম্পানি জানান, গত ৪-৫ দিন যাবত মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ নৌপথে সি ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। কি কারণে বন্ধ আছে সেটিও অজানা।

আওলাদ হোসেন নামের একজন যাত্রী জানান, সি ট্রাক চালু হলেও খুব একটা আগ্রহ ছিলনা যাত্রীদের। এখন বন্ধ হয়ে গেছে তাতেও মানুষের কোন খোঁজখবর নেই। দুর্ঘটনার পর লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই মানুষ সড়কপথে চলাচল শুরু করেছে। এখন এ নৌপথে বড় বড় লঞ্চ যদি চালু না করে তবে যাত্রীদের আগ্রহ ফিরবে না।

রকিবুল হাসান নামের একজন যাত্রী জানান, দুইদিন মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে এসে শুনেছি বন্ধ আছে সি ট্রাক। তারপর বাড়তি ভাড়া গুনে মুক্তারপুর থেকে সিএনজিতে করে নারায়ণগঞ্জ যেতে হয়েছে। এ নৌপথে শিগগির বড় বড় লঞ্চ চালু করা দরকার। তা না হলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বেই।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সিগঞ্জসহ ৫টি নৌপথে চলাচলকারী ৭০টি সানকেন ডেক (ছোট আকারের যাত্রীবাহী লঞ্চ) লঞ্চ চলাচলের ওপর বিআইডব্লিউটিএ স্থগিতাদেশ রয়েছে। যার কারণে মুন্সিগঞ্জ-নারায়ণঞ্জ নৌপথসহ অন্যান্য নৌপথেও বন্ধ রয়েছে সানকেন ডেক লঞ্চ।

নিউজটি শেয়ার করুণ