ফতুল্লায় একদিনে দুই খুন , পুলিশ বলছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জের বিশাল শিল্পাঞ্চল ফতুল্লা। শ্রমিক অধ্যুষিত এ এলাকায় প্রায় ২০ লাখ জনবসতীর ৮০ ভাগই বিভিন্ন জেলার। প্রতিনিয়ত হত্যা, আত্মহত্যা আর সংর্ঘষ বাড়ছে। এক রাতের ১০টার সময় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন, আর শেষ রাতে দুর্বৃত্তরদের হাতে আরেক জন খুন, ব্যবধান মাত্র ৬ ঘন্টার। এমন ঘটনা উদ্বেগজন বলছেন স্থানীয়রা। তবে, পুলিশ বলছে বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

প্রথম ঘটনা ফতুল্লা থানার চাষাড়া রেলস্টেশন এলাকায়। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার ও একটি ক্লাবকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকদিনে ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সোমবার রাতে কয়েক দফা দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক যুবক নিহত ও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাষাঢ়ায় ক্লাবটি পরিচালনা করতেন মানিক ও শামীম। আর সেখানেই আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিলো ইসদাইর বুড়ির দোকান এলাকার জুয়েল ও সোহাগ গ্রুপ। সোমবার রাতে উভয় পক্ষের লোকজন একে অন্যের উপর হামলা চালায়। এতে রাজমিস্ত্রী রুবেল (৩২) নামে এক যুবক নিহত এবং আহতরা হয়- জুয়েল (৩২), জামান (২৮), চঞ্চল (২৮), হাফিজুল (১৮) ও সোহাগকে (৪০)। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অপর আরেক ঘটনায় ইসদাইরস্থ ওসমানী স্টেডিয়ামের প্রধান গেইট সংলগ্ন শুকতারা ক্লাব গলির সামনের রাস্তায় যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা এক চালককে হত্যা করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়েছে। সোমবার দিবাগত (২৯জুন) ভোর রাত ৪টার ওই ঘটনাও ফতুল্লা থানা এলাকায়।

‌নিহত চালক রাজা মিয়া (৫৫) মাসদাইর কাজীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। আবুল হাজীর বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন। স্থানীয় জামাল শেখের ইজিবাইক ভাড়ায় চালাতেন।

পৃথক দুই ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন ঘটনা দুটির বিষয়ে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। একটি ঘটনা ক্লাবকে কেন্দ্র করে। অন্যটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

৬ঘন্টার ব্যবধানে দুই হত্যাকান্ডে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি কি না? এমন প্রশ্নে দ্বিমত পোষন করে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। যেহেতু এরকম ঘটনা ধারাবাহিক নয়, তাই আইন-শৃঙ্খলা অবনতি বলা যায় না। আর ফতুল্লা বিশাল শিল্পাঞ্চল। প্রায় ২০ লাখ লোকের বসবাস। শ্রমিক অধ্যষুত এলাকা, এখানে ৮০ ভাগ জনবসতী বিভিন্ন জেলার। ফ্লোটিং পিপলদের নানা রকম আচরণ, এদের নিয়ন্ত্রন করাটা পুলিশের জন্য কঠিন। তার পরও আমরা সব সময় জনগনের নিরাপত্তায় সচেষ্ট। যে কোন ঘটনায় আমাদের তৎপরতায় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হচ্ছি।

এর আগে চলতি মাসের ১৮ তারিখে রাত একটার দিকে ফতুল্লা পিলকুনি পেয়ারা বাগান এলাকায় একই কায়দায় হত্যা করে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ব্যাটারিচালিত মিশুক।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin