প্রেমের পর শারীরিক সম্পর্ক, বিয়ের চাপ দেয়ায় হত্যা

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

প্রেমের সর্ম্পক ছিল, সেই প্রেমিকাকে ডেকে এনে শারীরিক সম্পর্কের পর করা হয় শ্বাসরোধ করে হত্যা। লাশ নিয়ে চাপা দেওয়া হয় পাশের নির্মাণাধীন ঘরের ভিটি খুরে। আর পরদিন বাড়িটির মালিককে খুনি নিজেই বলেছেন, ‘দ্রুত ঘরের ভিটি পাকা করেন, প্রয়োজনে টাকা আমি দিবো ।’ পরদিন গন্ধ ছড়ালেই বেড়িয়ে আসে সেই প্রেমিকার লাশ।

সিলেটের জৈন্তাপুর ভারতীয় সীমান্তবর্তী পাহারী এলাকা থেকে আড়াইহাজারের সেই প্রেমিক ইউনুছ আলীকে গ্রেপ্তারের পর ১২ ডিসেম্বর এ তথ্য জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আড়াইহাজার থানার মানিকপুরে অবস্থিত মামা ইলিয়াস মোল্লার বাড়িতে থাকতেন ফাতেমা আক্তার। তার ঠিক পাশেই বাড়িতে ছিল আসামী ইউনুছ আলী। দীর্ঘ ৯ বছর মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সে দেশে আসে। এ সময় ফাতেমার নানী বিভিন্ন অজুহাতেই ইউনুছকে বাড়িতে ডেকে আনতেন। এক পর্যায়ে ফাতেমার সাথে ইউনুছ আলীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শারীরিক মেলামেশা শুরু করে তারা।

পিবিআইয়ের নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ইউনুছ ও ফাতেমার প্রেমের সর্ম্পকটি দুই বাড়িতেই জেনে যায়। এরই মধ্যে ইউনুস বাড়ি পরিবর্তন করে বিশনন্দী ভেংলায় নতুন বাড়িতে চলে যায়। এরপর থেকেই ইউনুছকে বিযের জন্য বাড়ি থেকে পাত্রী খোঁজা শুরু করে দেয়। কিন্তু গর্ভবতী হওয়ার আশংকা এবং ইউনুছের জন্য কনে দেখার বিষয় জানতে পেরে ফাতেমা ইউনুছকে বিয়ে করার জন্য ইউনুসকে চাপ দেয়। কিন্তু ইউনুছ রাজি ছিল না। গত ১০ আগষ্ট বিকালে ইউনুছ মোবাইল ফোনে ফাতেমাকে ডেকে নেন। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে শেষে ইউনুছদের নতুন বাড়ির পিছনে গাছ গাছালী বেস্টিত জায়গায় ফাতেমাকে রেখে বাড়ি যায়। রাত ২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে ফাতেমার কাছে গিয়ে শারীরিক মেলামেশা করে এবং একপর্যায়ে কৌশলে ভিকটিমের পিছন দিক থেকে বাহু দিয়ে গলা চেপে ধরে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর গাছ গাছালী বেস্টিত জায়গা থেকে ঘটনাস্থল ডালিমের নির্মানাধীন ঘরের বালু ভর্তি ভিটিতে এনে কোদাল দিয়ে গর্ত করে তার মধ্যে ফাতেমার লাশ পুতে দেয়। এর পরের দিন নির্মানাধীন ঘরের মালিক ডালিম মা শরিফাকে জিজ্ঞাসা করেন, কবে ভিটি পাকা করবে। যদি টাকা লাগে আমার কাছ থেকে নিবেন।

এরপর গত ১৫ আগষ্ট ডালিম ঘরের কাজ করার সময় ভিটি হতে দূর্গন্ধ পায় এবং কোদাল দিয়ে বালু সরায়ে ভিকটিমের অর্ধপচা লাশ পেয়ে এলাকার লাকজনদের খবর দিলে স্থনীয় লোকজন পুলিশ এর নিকট খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ মর্গে প্রেরণ করে এবং অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড করে তদন্ত শুরু করে।

পিবিআই উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গত ৮ অক্টোবর সিলেটের জৈন্তাপুর থানার বাংলাদেশ ভারতের সীমান্তবর্তী পাহারী এলাকায় এক ঘন্টা ব্যাপী এক অভিযান পরিচালনা করে আসামী ইউনুছ আলীকে গ্রেফতার করে। এরপর আসামীকে নিয়ে ১০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার থানা এলাকায় অভিযান করে, যে কোদাল দিয়ে গর্ত করে ফাতেমার লাশ বালু চাপা দেয়া হয় সেই কোদাল ইউনুসের দেখানো মতে উপস্থিত স্বাক্ষীদের মোকাবেলায় ইউনুছের পুরাতন বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকালে ফাতেমার ব্যবহৃত মোবাইল, সিম, জাতীয় পরিচয়পত্র, গলার হার, কানের ফুল, হাত ব্যাগ ও উরনা গোপালদী বাজার গাজীপুরা ব্রীজ থেকে হাড়িদোয়া নদীতে ফেলে দেয় বলে ইউনুছ জানায়, উল্লেখিত স্থানে অভিযান করে উক্ত মালামার উদ্ধারের চেস্টা করা হলেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

সূত্রঃ লাইভ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin