প্রেমের টানে বাংলাদেশে আসা ফিলিপাইনি নারী এখন ইউপি মেম্বার

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনে (১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড) নারী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিপাইনের মেয়ে জেসমিন আক্তার। এ নির্বাচনে  তিনি মাইক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। 

অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জেসমিন পান চার হাজার ৪৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বক প্রতীকের শিমু আক্তার পান এক হাজার ৮৩৭ ভোট।
জেসমিনের আসল নাম জিন ক্যাটামিন পেট্রিয়াকা। পড়াশোনা ফিলিপাইনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগে। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরির জন্য তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরে। সেখানেই পরিচয় হয় বাংলাদেশি তরুণ জুলহাস উদ্দিনের সঙ্গে। পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর বিয়ে। জুলহাসের প্রেমের টানে মা-বাবা ছেড়ে চলে আসেন ১০ বছর আগে বাংলাদেশে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

বিজয়ী হওয়ার পর জেসমিন গ্রামের রাস্তায় বেরোলেই উৎসুক মানুষ তাকে দেখতে ভিড় করছেন। তিনি কথা বলেন ইংরেজি ও ভাঙা ভাঙা বাংলায়। স্বামী জুলহাস মিয়া দোভাষী হিসেবে সাধারণ মানুষের কথা ইংরেজিতে অনুবাদ করে বুঝিয়ে দেন জেসমিনকে।

জুলহাসের বাড়ি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দবরদস্তা গ্রামে। ১৯৯৮ সালে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানিতে চাকরি করার সময় সহকর্মী জিন ক্যাটামিন পেট্রিয়াকার সঙ্গে তার প্রেম হয়। পরে চাকরি ছেড়ে জুলহাস বাংলাদেশ চলে আসেন, জিনও ফিলিপাইনে চলে যান। তবে ফোনে তাদের যোগাযোগ ছিল। ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের আগে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করলে জিন ক্যাটামিন পেট্রিয়াকার নতুন নাম হয় জেসমিন আক্তার জুলহাস। বাংলাদেশে আসার পর তিনি এ দেশের নাগরিকত্ব পান। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

জুলহাস জানান, জেসমিন সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে উপকার করার চেষ্টা করেন। তার ভেতর নেতৃত্বের গুণ রয়েছে। তাই এলাকাবাসীর অনুরোধে মেম্বার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেসমিন।

জেসমিন আক্তার বলেন, ‘‘আমার স্বামী জুলহাসের জন্য নিজের দেশ ও বাবা-মাকে ছেড়ে বাংলাদেশ ছুটে আসি। এ দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। এলাকার গরিব-দুখী মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। এজন্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে মেম্বার পদে নির্বাচনে করি। মানুষ ভালোবেসে আমাকে বিজয়ী করেছে। মানুষের ভালোবাসাকে কাজে লাগিয়ে তাদের সেবা করতে চাই।’’

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin