প্রমাণ দিলে ব্যবস্থা নিবেন মন্ত্রী গাজী, দুষলেন তৈমূর

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বিবৃতিতে বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গোলাম দস্তগীর গাজী একটা রামদা বাহিনী পালে। তার বাহিনী তার বাড়ি থেকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের বাড়িতে এসে হামলা করেছে। অস্ত্রশস্ত্রের মধ্যে দেশী বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। এছাড়াও বড় বড় রামদা, তলোয়ারসহ ধারালো অস্ত্র ছিল। এই সব অস্ত্রশস্ত্র গাজী সাপ্লাই দেয় এবং সে এই বাহিনী করেছে। মানুষের জমি দখল তারপরে মানুষের বাড়ির আশেপাশের জমিতে জোরপূর্বক বালু ফেলে ২০ লাখ টাকা মূল্যের জমি কমদামে নামমাত্র ২ লাখ টাকা মূল্যে ক্রয়ের মতো অনাচার তার দ্বারা সংঘটিত হয়। এসকল কাজের কোন প্রতিবাদ করলে সে তার তলোয়ার বাহিনী পাঠায়।

এই হামলার নেপথ্য ঘটনা হলো মন্ত্রী গাজী তার স্ত্রীকে বিনাভোটে তারাবো পৌরসভার মেয়র বানিয়েছে। এবারো তার স্ত্রীকে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য তারাবো পৌরসভার মেয়র পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বানানোর জন্য সকলকে ভয়ভীতি দেখানোর জন্য এই কাজ করেছে। নেপথ্য আরো ঘটনা হলো, এলাকাবাসী তথা রূপগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে রূপসীর খন্দকার বাড়ির মেয়ে ব্যারিস্টার মারইয়াম খন্দকারকে তারাবো পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী করতে। সে কারণেই গাজী তার রামদা বাহিনী দিয়ে এ হামলার ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ নয়তো একদিন গাজীর রামদা বাহিনীই সরকারের পতন ডেকে আনবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বিরোধী দলকে মারধর করার মতো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা তাদের নেই। বরং বিএনপির মধ্যেই অনেক কোন্দল আছে। নিজেরা নিজেরাই এগুলো ভাঙচুর করেছে। এখন দায় আমাদের ওপর চাপাতে চাচ্ছে। অবশ্য তারা হামলার ঘটনায় আমাদের লোকজনের জড়িত থাকার প্রমাণ দিতে পারলে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রসঙ্গত ১৯ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। তাদের হাতে ছিল রাম দা, তলোয়ার ও ধারালো অস্ত্র। হামলায় ভাঙচুর করা হয়েছে অনুষ্ঠানের ওই মঞ্চে থাকা চেয়ার টেবিল ও সাউন্ড সিস্টেম।

তৈমূর আলম খন্দকারের সহকারী আলাল জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের রোগমুক্তি কামনা, তৈমূর আলম খন্দকারের জন্মদিন উপলক্ষ্যে রূপসী খন্দকার বাড়িতে দোয়ার আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টার মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত হন মাহমুদুর রহমান মান্না, তৈমূর আলম খন্দকার, তার মেয়ে মার-ই-য়াম সহ অনেকেই। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টা পর রূপগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদারের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জন রামদা, হকিস্টিক, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। উপস্থিত লোকজনদের একের পর এক মারধর করতে থাকে। মাহমুদুর রহমান মান্না, তৈমূর আলম ও তাঁর মেয়ে মার-ই-য়ামকে মঞ্চ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছে। মঞ্চে থাকা চেয়ার টেবিল, সাউন্ড সিস্টেম ভাঙচুর করা হয়। এছাড়াও রামদায়ের আঘাতে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও হামলাকারীরা অনুষ্ঠান মঞ্চের বাইরে থাকা কয়েকটি গাড়ি ও মটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আকস্মিক এ হামলায় লোকজন আতংকিত হয়ে পড়ে।

রূপগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল শিকদার বলেন, ‘আমরা কোন হামলা করিনি। ওই এলাকার ছাত্রলীগ যুবলীগ সহ অন্যান্য সংগঠনের যারা আছে তারা তাদের জিজ্ঞাসা করতে সেখানে যায়। যে কি অনুষ্ঠান চলছে। তখনও তাদের অনুষ্ঠান চলছিল। পরবর্তীতে তারা অনুষ্ঠান বাতিল করে। হামলার অভিযোগ মিথ্যা।’

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin