পুলিশের পেশাদারিত্বে বড় অঘটন থেকে রক্ষা পেলো নগরবাসী

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

প্রায় প্রতিদিন’ই ফুটপাতে বসার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করছে বঙ্গবন্ধু সড়কের হকাররা। কিন্তু সব কিছুর পরেও ফুটপাত নগরবাসীর জন্য হকার মুক্ত রাখতে হার্ড লাইনে পুলিশ। এমন অবস্থায় মঙ্গলবার (৮ মার্চ ) বিকেলে মুখোমুখি অবস্থানে যায় হকার ও পুলিশ। বিকেলে প্রায় ৪ঘন্টা উত্তপ্ত রণক্ষেত্রের পরিবেশ তৈরী হয়। হাকারদের নিক্ষিপ্ত ইট-পাথরে আহত হয় পথচারী, গণমাধ্যম কর্মী ও পুলিশ সহ ১০-১২জন। তবে, এ দিন সহনশীলতায়, কৌশলে পুলিশের পেশাদারিত্বে বড় অঘটন থেকে রক্ষা পেয়েছে নগরবাসী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, যে পরিস্থিতি হকাররা সৃস্টি করেছিলো, তাতে পুলিশ যদি অ্যাকশনে যেতো, হয়ত ভয়ানক রূপ নিতো। ঘটে যেতো কোন অঘটন। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারেদ দিক-নির্দেশনায় ও ঘটনাস্থলের কর্মকর্তাদের বুদ্ধিমত্তায় এ যাত্রা রক্ষা পায় নগরবাসী অঘটন থেকে।

মঙ্গলবার (৮ মার্চ ) বিকেলে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে হকাররা। মিছিলটি নিয়ে হকাররা চাষাড়া চত্বর প্রদক্ষিন করতে গেলে পুলিশ হকারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং হকার নেতা আসাদকে গ্রেফতার করে। এর পরই হকাররা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় তারা। নানা জায়গায় করে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের উপরও বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমন করতে থাকে হকাররা। তাদের ছোড়া ইট-পাটকেলে পুলিশ, মিডিয়া কর্মীসহ অনেক পথচারিও আহত হয়। ঘন্টার পর ঘন্টা অচল হয়ে পরে নগরীর যান চলাচল। কিন্তু তবুও তাদের উপর কোন রকমের লাঠি চার্জ না করে, কোন রকমের টিয়ার শেল নিক্ষেপ না করে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে পেশাদারিত্ব এবং কৌশলের সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে পুলিশ।

অনেকেই মনে করছেন, পুলিশ আজকে যে কৌশল এবং পেশাদারিত্বের সাথে হকারদের মোকাবেলা করেছে, এর কারনে নগরবাসী অনেক বড় অঘটন থেকে রক্ষা পেয়েছে। আগেও দেখা গেছে হকারেদের উপর পুলিশ যত চওরা হয়েছে হকাররা ততই বেশি বিক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে। কিন্তু আজ হকারদের নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ যে কৌশল দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংশনিয়।

জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলমের দিক নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান। সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা জনগনের শান্তি রক্ষায় যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ফুটপাতে হকাররা কোনমতেই বসতে পারবেনা। নগরবাসীর জান-মাল রক্ষায় আইনগত যা যা করণীয় আমরা সব করবো।

উত্তপ্ত পরিস্থিতর মধ্যে বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর) সুবাস চন্দ্র সাহা সাংবাদিকদের বলেন, ফুটপাত সবসময় খালি রাখতে হবে। যাতে পথচারিদের হাটতে কোন রকমের সমস্যা না হয়, হাই কোর্টের এই নির্দেশ অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আপনারা দেখছেন হকাররা এ নির্দেশ মানছে না। আমরাও চাই হকারদের পুর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা হউক, কিন্তু এভাবে সহিংসতার পথ বেছে নেয়াটা একেবারে কাম্য নয়।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ জামান, ওসি তদন্ত মুস্তাফিজুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা ও সদস্য।

এর কিছুক্ষন পর সন্ধায় নগরীর মিশনপাড়ার সামনেও হকারদের অবস্থান জানতে পেরে পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। চাষাড়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সাজোঁয়া যানসহ ডিবিসদস্যদের নিয়ে চাষাড়া, মিশনপাড়া, ডনচেম্বার এলাকায় নিয়ন্ত্রনে নেয়। ঘটনাস্থলে চলে আসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মোঃ মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, সহকারী পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোঃ সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ।

প্রায় চার ঘন্টা নগর জুড়ে অপ্রিতিকর পরিস্থিতির পর সব কিছু নিয়ন্ত্রনে আসলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মোঃ মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জানেন বঙ্গবন্ধু সড়কে হকার বসতে না দেয়ার জন্য মহামান্য আদালতের নির্দেশ দিয়েছে। তাই মাননীয় পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ বঙ্গবন্ধু সড়র হকার মুক্ত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। কিছুদিন যাবত হকাররা ফুটপাতে বসার জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ হকাররা রাস্তায় আগুন দিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে। এ ঘটনায় আমাদের ৮/১০ জন পুলিশ সদস্য আহতও হয়েছে। যারা এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে শিগ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুত্রঃ লাইভ নারায়ণগঞ্জ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin