নির্বাচনে হেরে সড়ক অবরোধ করলেন ৫ চেয়ারম্যান প্রার্থী

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নির্বাচনে কারচুপি ও ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়ক অবরোধ করেছেন পরাজিত পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ তাদের সমর্থকরা। শনিবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ওই সড়কের দারোয়ানি বাজার এলাকায় তারা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন তারা।

জেলার প্রধান ওই সড়কটি সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকায় দূরপাল্লাসহ সব যান চলাচল অচল হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী-চালকরা।

অবরোধ কর্মসূচি করা পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন, মুরাদ হোসেন প্রামানিক (আনারস), আসাদুল হক শাহ (চশমা), আব্দুর রহমান (ঘোড়া), জাকির হোসেন মোল্লা (ইজিবাইক) ও মকসেদুর রহমান (হাতপাখা)। তারা সবাই সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন।

জেলার প্রধান ওই সড়কটি সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকায় দূরপাল্লাসহ সব যান চলাচল অচল হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী-চালকরা।

অবরোধ কর্মসূচি করা পাঁচ চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন, মুরাদ হোসেন প্রামানিক (আনারস), আসাদুল হক শাহ (চশমা), আব্দুর রহমান (ঘোড়া), জাকির হোসেন মোল্লা (ইজিবাইক) ও মকসেদুর রহমান (হাতপাখা)। তারা সবাই সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা যাওয়ার সময় ব্যালট পেপারের একটি বস্তা ফেলে যান। এলাকাবাসী তাৎক্ষণিক সেটির প্রতিবাদ জানালে রাতে ফলাফল ঘোষণা স্থগিত হয়। এরপর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভোরে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুম রেজাকে (মোটরসাইকেল) বিজয়ী ঘোষণা করেন।

প্রার্থী আসাদুল হক শাহ (চশমা) অভিযোগ করে বলেন, ‘মাসুম রেজা পুলিশের এক কর্মকর্তার নিকটাত্মীয়। নির্বাচনে প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন এলাকায়। নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভোটে ব্যাপক কারচুপি করেছেন। সবশেষ ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ব্যালট বস্তাবন্দি করে ফেলে রেখে নিজের সরবরাহ করা ব্যালট বাক্সে ভরেন।’

আরেক প্রার্থী মুরাদ হোসেন প্রামানিক (আনারস) বলেন, ‘তারা ওই ব্যালট গায়েব করার জন্য বস্তাটি বাথরুমে রেখেছিলেন। ব্যালট বাইরে রেখে কর্মকর্তারা ভোটের হিসাব কীভাবে মেলালেন? এতে করে প্রমাণ হয় ষড়যন্ত্রে বিজয়ী মাসুম রেজা নকল ব্যালট সরবরাহ করেছিলেন।’ ষড়যন্ত্রের নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জেলা প্রশাসকের কাছে তারা জানিয়েছেন।

এদিকে, চেয়ারম্যান পদে ভোট আবার গণনার দাবিতে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের বেলতলী বাজারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একইদিনে বেলা ১২টার দিকে ঘণ্টাব্যাপী ওই মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন- ওই ইউপি নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যাম চরণ রায়।

তিনি দাবি করে বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও গণনায় কারচুপির মাধ্যমে আমাকে পরাজিত করা হয়েছে। ওই ভোট আবার গণনা করা হলে রহস্য বেরিয়ে আসবে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ফলাফল বাতিলের সুযোগ নেই। তারা চাইলে ট্রাইব্যুনালে যেতে পারেন।’

ব্যালটের বস্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়োর মধ্যে ভুলবশত চড়াইখোলা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডে ব্যালটের একটি বস্তা ফেলে এসেছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। এরপর তিনি গিয়ে ওই বস্তা নিয়ে এসেছেন। এ জন্য ফলাফল ঘোষণায় একটু দেরি হয়। পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে গভীর রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।’

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেবে। আমি তাদেরকে বিষয়গুলো অবহিত করার পর তারা সন্তুষ্ট হয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন।’

সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin