নির্বাচনী মাঠ গোছাচ্ছে দিপু

শেয়ার করুণ

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার প্রভাবশালী আইনজীবী হলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভােকেট আনিসুর রহমান দিপু একই সাথে তিনি আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য।

সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে তিনি বেশ আলােচনায় রয়েছেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে তিনি আরও বেশি আলােচনায় চলে এসেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের আগামী দিনের শীর্ষ পদেও তাকে নিয়ে আলােচনা চলছে। পাশাপাশি অ্যাডভােকেট আনিসুর রহমান দিপু আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী মাঠ গােছাচ্ছেন। দল মনােনয়ন দিলে তিনি নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। সূত্র বলছে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অর্থাৎ ২০২৩ সালের শেষ অথবা ২০২৪ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে। আর সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে
সাংগঠনিক বিষয়গুলাের উপর জোরাল পদক্ষেপ নিচ্ছে দলটি। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জেও বিভিন্ন আসনের মনােনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠে সরব হতে
শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের দুইটি আসনে অনেকদিন ধরে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঞ্চিত লাঞ্চিত হয়ে
আসছেন। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরেই দাবী জানিয়ে আসছেন নারায়ণগঞ্জের
পাঁচটি আসনেই যেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক দেয়া হয়।

কিন্তু বরাবরই নির্বাচনের আগে দলের বৃহৎ স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের দুইটি আসনে ছাড় দেয়া হয়ে থাকে। তবে এবার আর কোনাে ছাড় দেয়া হবে না বলে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বলে আসছেন। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনােনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন অ্যাডভােকেট আনিসুর রহমান দিপু। তিনি সুযােগ পেলেই সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি মানুষের সাথে যােগাযােগ করছেন। বিভিন্ন জনের সাথে মতবিনিময় সভা করছেন। তিনি আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে ও শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের সামনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরছেন।জানা যায়,অ্যাডভােকেট আনিসুর রহমান দিপুর বাবা মরহুম আবিদুর রহমান খান একজন ভাষাসৈনিক ছিলেন। তিনি স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিরপৃষ্ঠপােষকতা করতেন।

ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে দিপুর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। তিনি ১৯৮০ সালে একটি বন্দর থানার ধামগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এ সময়
আন্দোলনে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সক্রিয় কর্মী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কাশ্যে পালন করেন এবং পর পর ২ বার কারাবরণ করেন। ১৯৯৫ সালে নারায়ণগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ
কালে সম্পাদক হন। পরবর্তীকালে তিনি শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত
সম্পাদকের দায়িত্ব লাভের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তারই নির্দেশে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জনতার সমন্বয়ে অসহযােগ আন্দোলন গড়ে তােলার

কাজ এছাড়া বিএনপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার চূড়ান্ত আন্দোলনে সর্বশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। আনিসুর রহমান দিপু ১৯৯৭-২০০৩ সাল
বই পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির
লাটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করে তিনি। এছাড়াও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নারায়ণগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব ছিলেন।আনিসুর রহমান দিপু নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি পদে চার বছর ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩ বার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে আনিসুর রহমান দিপু বাংলাদেশ পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু আইনজীবী কেন্দ্রীয় সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য পদের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির কার্যকরী সদস্য পদে রয়েছেন।
এদিকে প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসামনের ঘনিষ্ট বন্ধুদের মধ্যে একজন

ছিলেন অ্যাডভােকেট আনিসুর রহমান দিপু। সেই ছাত্রজীবন থেকেই তারা একসাথে রাজনীতি করে আসছেন। রাজনীতির বহু আন্দোলন সংগ্রামে তারা নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপিয়েছেন। কিন্তু শামীম ওসমানের অতিমাত্রা স্বার্থকে প্রাধান্য না দেয়ায় সেই পথ চলা থেমে যায়। সর্বশেষ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে প্যানেল দৈয়াকে কেন্দ্র করে শামীম ওসমানের
সাথে দিপুর বিরােধের সূত্রপাত ঘটে। এরপর থেকেই আর দিপুকে শামীম ওসমানের সাথে দেখা যায়নি। তবে সেবার আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেশামীম ওসমানের সাথে কয়েকদিনের জন্য দিলু থাকলেও নির্বাচন পরবর্তী
সময়ে তিনি একাই পথ হেটেছেন।এরকিছু দিন পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎআইভীর সাথে আসেন। এখন পর্যন্ত তিনি মেয়র আইভীর সাথেই রয়েছেন ।


সবশেষ গত ১৬ অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনেরনির্বাচনে অ্যাডভােকেট আনিসুর দিপু আওয়ামী লীগের মনােনীত প্রার্থী ডা.সেলিনা হায়াৎ আইভী পক্ষে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সার্বক্ষণিক আইভীকে জয়ী করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন। অ্যাডভােকেট দিপু কোনাে সময়ই দলের হাইব্রিড নেতাদেরকে তিনি মেনেনিতে পারেন না। বিভিন্ন সভা সমাবেশে সুযােগ পেলেই তিনি হাইব্রিডদেরবিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়ে থাকেন। সেই সাথে সামাজিক যােগাযােগমাধ্যম ফেসবুকেও তিনি হাইব্রিডদের বিরুদ্ধে সােচ্চার ভূমিকা পালনকরছেন। দলীয় পদ পদবী থাকুক বা না থাকুক এতে তিনি ভুক্ষেপ করেন না।

খবরঃ সময়ের নারায়ণগঞ্জ

নিউজটি শেয়ার করুণ