নিতাইগঞ্জের জোড়া খুনের ঘাতক জোবায়ের, রহস্যঘেরা এক তরুন

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

আল জোবায়ের ওরফে জুবায়েদ। নিতাইগঞ্জের জোড়া খুনের আসামী। নগর জুড়েই আলোচনায় এই তরুন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জোবায়ের স্বীকার করেছে হাত খরচের টাকার জন্যই সে খুন করেছে। সামান্য হাত খরচের জন্য ঠান্ডা মাথায় দুইজনকে খুন। আরেকজনকে খুনের চেষ্টা। পুলিশ আরও তদন্ত করতে চায়। বের করতে চায় খুনের মোটিভ।

অজানা, অচেনা একজন তরুন কেন এই নৃশংস হত্যাকান্ড চালালাে তার কূলকিনারা মেলাতে পারছেন না কেউই। খােদ আসামীর পরিবারই স্তব্ধ হয়ে আছেন ছেলের কার্যকলাপে। এমন পরিস্থিতিতে কি করা উচিত তাও বুঝে উঠতে পারছেন তা জোবায়েরের বাবা আলাউদ্দিন।

নগরীর পাইকপাড়া এলাকায় বাড়ি জুবায়েরের। আলাউদ্দিন ও শায়লা বেগমের একমাত্র ছেলে জুবায়ের। নগরীতে নিজেদের মাথা গোজার জন্য ছিল বাবার নিজস্ব বাড়ি। বর্তমানে উপার্জনের মাধ্যম লবনের ব্যবসা। করোনাকালের ক্ষতি পুষিয়ে উঠার চেষ্টা চালাচ্ছেন জোবায়েরের বাবা। টিউশন করে নিজের পকেট খরচ জোগাড় করা জোবায়ের করোনায় টিউশন হারিয়ে বাবার ব্যবসায়ই মনোনিবেশ করে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বাবার ব্যবসার পাশাপাশি অন্য কিছু করার চেষ্টা চালায়স জুবায়ের। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।

জুবায়েরের মা শায়লা বেগম বলেন, ২০২০ সালের শেষে ধার-দেনা করে ওষুধ – বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু এই ব্যবসাতেও বিপুল ক্ষতি হয় তার। ঋণের অর্থ
পরিশােধ করতে না পেরে ঋণদাতার কাছে বিভিন্ন সময় নানা কটুক্তি শুনতে জুবায়ের। লজ্জায় একসময় বাড়ি থেকে বের হওয়াই বন্ধ করে দেয় সে। তবে জোবায়ের ছোট থেকেই ছিলাে অত্যন্ত মেধাবী। সবার ভালাে ব্যবহার করতাে। পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়তাে। ও কিভাবে এমন কাজ করলাে বুঝতে পারছে না জন্মদানকারী মা।

জুবায়েরের বাবা আলাউদ্দিন মিয়া নিজের বলেন, আমার কিছু বলার নাই পােলার সম্পর্কে। মান সম্মান যা ছিলাে সবই শেষ। জুবায়ের আমার একমাত্র পােলা। যা
চাইসে তাই দিসি। কোন বাজে অভ্যাস ছিলাে না। নামাজ পড়তাে, পড়ালেখাতেও ভালাে ছিলাে।

জুবায়েরের স্কুলের বন্ধু মিনহাজ আমান বলেন, ‘জুবায়েরকে আমরা জোবায়েদ নামে চিনতাম। আমরা একসাথে নারায়ণগঞ্জের আদর্শ স্কুলে পড়ালেখা করছি। খুবই শান্ত প্রকৃতির ছিলাে। স্কুল কলেজে ভালাে ছাত্রই ছিলাে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে পাশ করেছে। ও মানুষ কেন, একটা কুকুর পিটায়া মারার সাহস রাখতে পারে বলে মনে হতাে না। ফেইসবুকে ইসলামী কথাবার্তা শেয়ার করতে এই পর্যন্তই।

জুবায়েরের নানী বাড়ির প্রতিবেশী ও ছােটবেলার বন্ধু মুবিন বলেন, ছােট বেলায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বেপারীপাড়ায় যেই বাসায় আমরা থাকতাম সেখানে ওর নানী ও খালার বাসা ছিলাে। ফলে প্রায়ই আমাদের বাসায় আসতো। আমরা ক্লাস ৪ থেকে এসএসসি পর্যন্ত একসাথে পড়ালেখা করেছি। খুবই শান্তশিষ্ট ছিলাে সে।

ধার্মীক ছিলাে ব্যক্তিগত জীবনে। ওর মত ছেলে এমন ঘটনা ঘটাবে তা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। আমার সাথে ৫ বছর আগে একটি বাসে শেষ দেখা হয়েছিলাে। তখন ও আমাকে বলেছিলাে ‘ভাই আমি চিটাগাং রােড থেকে সাইনবোের্ড পর্যন্ত হেঁটেছি নিজে কিছু করা বা চাকরির জন্য। কিন্তু কিছুই পাইনি। আমার ধারণা ব্যক্তিগত জীবনে প্রচন্ড হতাশ ছিলাে।’

এদিকে জোবায়েরের সামাজিক যােগাযােগ মাধ্যমেও তার ধার্মিক জীবনের সত্যতা মেলে। অধিকাংশ পােষ্ট এবং শেয়ার ধর্মীয় উপদেশবানী সম্পর্কিত। তাছাড়া নিজেরবছবিও বন্ধুদের ছাড়া বাকিদের জন্য আড়াল করে রেখেছিলাে সে। পুরাে একাউন্ট জুড়ে জুবায়েদের ইসলামীক বিষয়াদি প্রচার করতেই দেখা গেছে।
পুরাে একাউন্টে তার ছবি থাকলেও তা বন্ধুদের জন্য সীমাবদ্ধ। কভার ফটো এবং প্রােফাইল ফটোর স্থানেও ধর্মীয় উপদেশ লেখা রয়েছে।

ফেইসবুকে জুবায়েরের শেষ স্ট্যাটাস ছিলাে ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর। পুরাে লেখাটিই ছিলাে ইংরেজিতে এবং ধর্মীয় উপদেশবানী। পাঠকদের সুবিধার্থে তা বাংলায় প্রকাশ করা হলাে ‘সবাই অমর। মরণশীল জীবন মৃত্যুর পরীক্ষা যা অতিক্রম করতে হবে অনন্ত জীবনের মুখােমুখি। দ্যা সুপ্রিম ইমাের্টাল (আল্লাহ) সবাইকে অমরত্ব দান
করবে। আপনি যদি প্রভুর আনুগত্য বা অবাধ্য হন তাহলে আপনাকে স্বর্গ বা জাহান্নামের চিরস্থায়ী আসন দান করবেন। মরণশীল জীবন যা একজন অমরকে ভােগ
করতে হয় তা কিন্তু একজন অমর ব্যক্তির ন্যস্ত জীবনের ধূলিকণার কথা বলে।’

হয়তো একদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে উঠে আসবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য। উঠে আসবে কেবলই কি নিছক পকেট মানির জন্য নির্মম এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছিল সে নাকি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ হয়ে অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন হয়েই এ পথে পা বাড়িয়েছে সে। না কি ভিন্ন কিছু।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin