না.গঞ্জ মেঘনাঘাটে ৫৮৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ৫৮৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে ইউনিক গ্রুপের মালিকানাধীন ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্প্রতি ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক। অগ্রণী ব্যাংকের নেতৃত্বে সিন্ডিকেটভুক্ত অন্য তিন ব্যাংক হচ্ছে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড। দেশের বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের এটিই সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেটেড অর্থায়ন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে অর্থায়নে গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড ও রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের মধ্যে ‘সিন্ডিকেশন প্রজেক্ট লোন ফ্যাসিলিটি এগ্রিমেন্ট’ সই হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত। চুক্তিতে ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সারাফাত এবং অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (ক্রেডিট) ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য তিন ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপকরা সই করেন। বিদ্যুৎ প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। কেন্দ্রটি ২০২২ সালের জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে বলে অনুষ্ঠানে আশা প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান প্রধান, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস সালাম আজাদ, রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ারের চেয়ারম্যান ও ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূর আলী, ইউনিক গ্রুপের অন্যান্য পরিচালক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের কান্ট্রি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার নাসির এজাজ বিজয়, জিই বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজারসহ রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক ও ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুসারে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক মিলে মেয়াদি, নির্মাণকালীন সুদ বা আইডিসিপি ও চলতি মূলধন বাবদ মোট ৩ হাজার ৫৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে। ঋণ পরিশোধের গ্রেস পিরিয়ড চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ থেকে তিন বছর। ঋণের সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ শতাংশ। ঋণ পরিশোধের জন্য ১০ বছর সময় পাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। এ অর্থায়নের ক্ষেত্রে লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটি এ প্রকল্পে মোট ৯৬৮ কোটি ১ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে। এর মধ্যে মেয়াদি ৭৩৯ কোটি ৯৮ লাখ, আইডিসিপি ১৬৬ কোটি ৪৯ লাখ ও চলতি মূলধন ৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ প্রকল্পটিতে বিদেশী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন রয়েছে। প্রকল্পে বিদেশী অর্থায়নের ক্ষেত্রে লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক কাজ করছে। প্রকল্পটির বিনিয়োগের আকার ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক ৩ হাজার ৫৫ কোটি টাকা জোগান দিচ্ছে। সম্ভাবনাময় প্রকল্প হিসেবে আমরা বিদুৎকেন্দ্রটিতে বিনিয়োগ করছি।

বিদ্যুৎ প্রকল্পটিতে সবচেয়ে বেশি ৯৮৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। এর মধ্যে ৮০৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মেয়াদি ও ১৮১ কোটি ৫২ লাখ টাকা আইডিসিপি ঋণ। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে মোট ৫৪৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা অর্থায়ন করবে। এর মধ্যে ৪৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা মেয়াদি ও ৯৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা আইডিসিপি ঋণ। সিন্ডিকেটেড অর্থায়নের আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক লিমিটেড ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ারকে ৫৫৫ কোটি ২১ লাখ টাকা ঋণ দেবে। এর মধ্যে ৪৫৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা মেয়াদি আর ১০১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা আইডিসিপি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে অর্থায়নের বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, অগ্রণী ব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়নের লিড অ্যারেঞ্জার। আমরা অগ্রণী ব্যাংকের প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছি। আশা করছি এ প্রকল্প থেকে ভালো কিছু হবে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর মেঘনাঘাটে ৫৮৪ মেগাওয়াট সক্ষমতার কম্বাইন্ড সাইকেল এ বিদ্যুৎকেন্দ্র চলবে প্রাকৃতিক গ্যাস ও রিগ্যাসিফায়েড লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাসে (আরএলএনজি)। ইউনিক গ্রুপের মালিকানাধীন তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামকে নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনার (বিওও) শর্তে ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই সম্মতিপত্র (এলওআই) দেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। কনসোর্টিয়ামের অন্য দুই অংশীদার হচ্ছে বিদেশী কারিগরি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin