না.গঞ্জে থামছেনা ধর্ষণ

শেয়ার করুণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

নারায়ণগঞ্জে বেড়ে চলেছে ধর্ষণের ঘটনা। শিশু কন্যা, ছেলে, বিধবা ও তরুনী কেউ বাদ যাচ্ছে না মানুষরূপী জানোয়ারদের থাবা থেকে। এসব ঘটনায় মামলা হলে আসামিরা গ্রেপ্তার হলেও আইনের ফাঁক দিয়ে বার বার বেড়ে আসছে। বেরিয়ে এসে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পরছে। নগরবাসীর দাবি, জামিন অযোগ্য হিসেবে তাদের কারাগারে রেখে কঠোর শাস্তির বিধান করা হোক।

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশের একজন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। ৭ অক্টোবর বুধবার রাতে বিউটি পার্লারের এক তরুণী বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস নয়ন (৩৫) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে কর্মরত।

মামলার বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুখ বলেন, তরুণী সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন মিজমিজি এলাকায় বিউটি পার্লারে কাজ করে। কয়েক বছর আগে প্রেমের সূত্র ধরে তদের বিয়ে হয়। তাদের কোন কাবিননামা ও বিয়ের রেজিস্ট্রি নথি নেই। মসজিদের হুজুর ডেকে বিয়ে পড়ানো হয়। বুধবার রাতে ওই তরুণী থানায় এসে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। তরুণীর অভিযোগ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে নয়ন।’

মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ

মামলার বরাত দিয়ে সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার ৫ম শ্রেনির ছাত্রী। সোমবার রাতে শিশুটি নিজের রুমের ঘুমিয়ে থাকে। পরে কৌশলে তার চাচাতো ভাই রাব্বী মিয়া (২২) ওই ঘরে প্রবেশ করে তাকে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে। এতে সে অজ্ঞান হয়ে পরলে রাব্বী পালিয়ে যায়। দুপুর পর্যন্ত শিশুটি বিছানা থেকে উঠে না আসায় পরিবারের সদস্যরা ওই ঘরে গিয়ে শিশুটিকে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় বিছানায় দেখতে পায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলে সেখানকার ডাক্তার তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

তিনি আরো বলেন, ‘ এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে রাব্বীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। শিশুটি এখন সুস্থ আছে। পলাতক রাব্বীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

ছেলে শিশুকে বলাৎকার

৫ অক্টোবর বিকেলে সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর এলাকা থেকে বলাৎকারের অভিযোগে রানা তালুকদার নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বলাৎকারের শিকার অসুস্থ ব্যক্তিকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলামের মা সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতারকৃত রানা তালুকদারকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা মামলার এজহারের বাদী জানান, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাচানি শহিদ নগর গ্রামের ওই যুবকের সঙ্গে বন্দর উপজেলার হাবিব মিয়ার মেসের ভাড়াটিয়া ও হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার শহিদনগর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে রানা তালুকদারের সাথে ফেসবুকে তাদের বন্ধুত্ব হয়।

রোববার সন্ধ্যায় রানা তালুকদার ওই যুবকের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সন্ধ্যার দিকে যুবকের মা সুফিয়া বেগম তাদের বাড়িতে রেখে ফ্রেশ কোম্পানিতে রাত্রিকালীন ডিউটি করার জন্য চলে যান। এ সুযোগে জুসের সঙ্গে চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে বলাৎকার করে রানা তালুকদার। পরে সে নগদ ৫ হাজার টাকা, মোবাইল সেট ও বেল্ডার মেশিন নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরদিন সকালে যুবকের মা বাড়িতে এসে অচেতন অবস্থায় তার ছেলেকে খাটের উপর পড়ে থাকতে দেখে ডাকাডাকি শুরু করেন। কোন সাড়া না পাওয়ায় চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সুস্থ্য হওয়ার পর ঘটনা জানতে পেরে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ কৌশল অবলম্বন করে কাঁচপুর এলাকা থেকে রানা তালুকদারকে গ্রেফতার করে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বলাৎকারের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত যুবককে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

একই দিনগত রাতে বন্দরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভাড়াটিয়া এক বিধবাকে (৩৫) একাধিক বার ধর্ষণে গ্রাম্য সালিশী করে ধর্ষক খোকাকে (৩০) ষাট হাজার টাকা জরিমানা করেছে নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ।

বিধবাকে ধর্ষণ

একই দিনগত রাতে বন্দরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভাড়াটিয়া এক বিধবাকে (৩৫) একাধিক বার ধর্ষণে গ্রাম্য সালিশী করে ধর্ষক খোকাকে (৩০) ষাট হাজার টাকা জরিমানা করেছে নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ।

৫ অক্টোবর সোমবার রাতে দড়িসোনাকান্দা এলাকায় কাউন্সিলরের নিজ বাসভবনে বসে শালিশ করে বিচারে এ রায় ঘোষণা করেন। জরিমানা টাকা এক মাসের মধ্যে পরিশোধের সময় নির্ধারণ করে ধর্ষিতার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রাখেন সালিশে উপস্তিত মাতববরা।

এলাকাবাসী জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন বন্দরের দড়িসোনাকান্দা এলাকার ৩ সন্তানের জননী বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করে বাড়িওয়ালার ছেলে খোকা মিয়া।

রোববার রাতে বিধবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে খোকা। ওই বিধবা নারী রাতেই ঘটনাটি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানান।

বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করতে নাসিক ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদের শরনাপন্ন হন ধর্ষক খোকা মিয়ার মা।

সোমবার রাতে নারী কাউন্সিলর শিউলি নওশাদের নিজ বাস ভবনে এক সালিশ বিচারের আয়োজন করা হয়। সালিশ বিচারে কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ ধর্ষক খোকাকে ৬০ হাজার জরিমানা ধার্য করে রায় ঘোষণা করেন।

ওই নারী জানান, এই বাড়িতে ভাড়া আসার পর থেকেই বাড়িওলার ছেলে খোকা আমাকে বিরক্ত করতো। এক পর্যায়ে আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। বিয়ে নিয়ে তালবাহানা করায় শারীরিক সম্পর্ক বন্ধু থাকে।

বন্দর থানার ওসি মো. ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বিধবা ধর্ষণের ঘটনা আমার জানা নাই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাউন্সিলর শিউলি নওশাদ জানান, মোবাইল আপনার সঙ্গে এসব কথা বলা সম্ভব না। সাক্ষাতে কথা বলবো।

সূত্রঃ নিউজ নারায়ণগঞ্জ

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin